Strike North Bengal

ধর্মঘটে স্তব্ধ উত্তরবঙ্গের চা বলয়

জেলা

কেন্দ্রের জনবিরোধী শ্রম কোড বাতিল ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতির প্রতিবাদে ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের ডাকা দেশব্যাপী ধর্মঘটে উত্তাল হয়ে উঠল উত্তরবঙ্গের চা বলয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই জলপাইগুড়ি জেলার চা বাগানগুলোতে কাজ বন্ধ রেখে মিছিলে শামিল হন হাজার হাজার শ্রমিক। পাতা তোলা বন্ধ রেখে তাঁরা বুঝিয়ে দিলেন, অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তেও তাঁরা নারাজ।
উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে রাজ্যে গণপরিবহন স্বাভাবিক রাখা হলেও শিল্পক্ষেত্রে ধর্মঘটের প্রভাব ছিল সর্বাত্মক। ৩০ কোটি শ্রমিকের এই সংহতি কেবল কলকারখানায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; উত্তরবঙ্গের পাহাড় থেকে সমতলের চা বাগানগুলোতেও প্রতিবাদের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। এদিন চা বাগান সংলগ্ন ফ্যাক্টরিগুলোর গেটে গেটে চলে বিক্ষোভ সভা বা 'গেট মিটিং'।
এই লড়াইয়ে শ্রমিকদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কৃষক সংগঠনগুলোও। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা ও খেত মজদুর ইউনিয়ন সিটু’র এই ধর্মঘটের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে রাজপথে নেমেছে। ব্যাংক কর্মচারী সংগঠনগুলোও এই আন্দোলনকে নৈতিক সমর্থন দেওয়ায় কেন্দ্রের আর্থিক নীতির বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের ছবি ধরা পড়েছে।
চা বাগান শ্রমিক কুমারী ওঁরাও ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ‘‘রাজ্য সরকার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ৫০০ টাকা বাড়ালেও হাজিরা বাড়াচ্ছে না। আমরা ভিক্ষা চাই না, কাজের ন্যায্য মজুরি চাই।’’
চা বলয়ে ধর্মঘট সফল করতে সকাল থেকেই বাগানে বাগানে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক নেতৃত্ব। রামলাল মুর্মু, সিকান্দার মাঝি, দিলকুমার ওঁরাও, তিলক ছেত্রী এবং অজয় মহালীরা বিভিন্ন পয়েন্টে দাঁড়িয়ে শ্রমিকদের উজ্জীবিত করেন।
এদিন গেট মিটিংয়ে সিপিআই(এম) রাজ্য কমটির সদস্য ময়ূখ বিশ্বাস বলেন, ‘‘কেন্দ্রের মোদী সরকার শ্রম আইন সংস্কারের নামে শ্রমিকদের দাস বানানোর চক্রান্ত করছে। এই চার শ্রম কোড আসলে কর্পোরেটদের স্বার্থে শ্রমিকদের অধিকার লুট করার হাতিয়ার। চা শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে, তবুও তাঁদের রক্ত জল করা অধিকার কেড়ে নিতে দেব না। আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করছে যে শ্রমজীবী মানুষের এই ঐক্য ভবিষ্যতে আরও বড় আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে দিল। দিল্লিকে আমরা বার্তা দিচ্ছি- হয় শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করুন, নয়তো গদি ছাড়ুন।’’
এদিন ডুয়ার্স ও তরাইয়ের সিংহভাগ বাগানেই ধর্মঘট সর্বাত্মক রূপ নিয়েছে। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই, তবে শ্রমিকদের চোখে-মুখে ছিল অধিকার আদায়ের দৃঢ় সংকল্প।

Comments :0

Login to leave a comment