কেন্দ্রীয় সরকারের চাপিয়ে দেওয়া শ্রম কোডের বিরুদ্ধে দেশের কেন্দ্রীয় দশটি ট্রেড ইউনিয়ন সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই গোটা দেশে তার পড়েছে।
সকাল থেকেই বিজেপি শাসিত আসামের রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী সহ ইঞ্জিনিয়াররাও তাঁদের কর্মক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখান। সেই সঙ্গে গুয়াহাটির ঠিকা শ্রমিকরা সহ লামডিংয়ের মিনারেল অয়েল শ্রমিকরাও ধর্মঘট পালন করেন। ওড়িশার নালকো রিফাইনারি দমনজোড়ি, ভুবনেশ্বরে নালকো কর্পোরেট অফিস, পারাদ্বীপে গোয়া কার্বন, সিআরআরআই কটক এবং ভুবনেশ্বরের মাস্টার ক্যান্টিন স্কোয়ারের শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ দেখান।
একই সঙ্গে কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে ধর্মঘটের সমর্থনে মিছিল করায় শ্রমিক, কৃষকও ট্রেড ইউনিয়নের নেতাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
উল্লেখ্য, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ধর্মঘটের সমর্থনে এদিন বিবৃতি দিলেও কর্নাটকে দলের সরকারের ভূমিকা ছিল উলটো। বস্তুত ট্রেড ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ এর আগে খাড়গেকে চিঠি দিয়ে দাবি করেন যাতে কর্নাটকে শ্রম কোড চালু না করে রাজ্যের কংগ্রেস সরকার।
তামিলনাড়ুর একাধিক শহরে শ্রমিকদের রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখতে দেখা যায়।
হরিযানার একাধিক জায়গায় শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলিকে একসঙ্গে ধর্মঘটে অংশ নিতে দেখা যায়।
বিহারের পাটনায় বিমা কর্মীরা ধর্মঘটে অংশ নিয়ে কর্মক্ষেত্রের সামনেই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখান।
তেলেঙ্গানার সিবিএল কোম্পানির গেটের সামনে সেখানকার বহু কর্মী অবস্থান বিক্ষোভ করেন পাশাপাশি সিঙ্গারেনি কয়লা খনিতেও ধর্মঘট পালন করা হয়। সেইসঙ্গে বিপিসিএল'র ট্রাঙ্কার এবং লরির চালকরাও ধর্মঘটে অংশ নেন।
ত্রিপুরার খামটিংবাড়ি এলাকায় রেল অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। আগরতলায় এদিন বিশাল মিছিলে অংশ নেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা মানিক সরকার। ত্রিপুরায় রেল এবং সড়কে হয় অবরোধ। বহু দোকান বন্ধ ছিল।
এদিকে কাঁকিনাড়া বন্দরের শ্রমিকরাও এদিন ধর্মঘতে অংশ নেন।
এদিন দিল্লিতেও ধর্মঘটের সমর্থনে রাজঘাট থেকে সচিবালয় পর্যন্ত মিছিল করেন সিআইটিইউ, এআইকেএস সহ এ আইএডব্লিউইউ'র নেতৃবৃন্দ সহ কর্মীরা। সেই সঙ্গে, সংসদ ভবনের বাইরেও বিরোধী দলের সাংসদরা শ্রমিকদের সংহতিতে জমায়েত করেন।
12th February All India Strike
ধর্মঘটে দেশজুড়ে একজোট শ্রমজীবী, শ্রম কোড বাতিলের দাবি জোরালো
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মিছিলে সিআইটিইউ নেতা তপন সেন এবং কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক বিজু কৃষ্ণন।
×
Comments :0