Dinhata Mob Lynching by Cow Vigilante Group

দিনহাটায় পিটিয়ে হত্যায় আসল দোষীদের শাস্তির দাবি, পরিবারের সঙ্গে কথা সেলিম-মীনাক্ষীর

রাজ্য জেলা

খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ওকরাবাড়িতে পথ অবরোধ

গোরু চোর’ অপবাদ দিয়ে দিনহাটার বাত্রিগাছ এলাকার ঠগেরটারিতে রবিবার মাঝরাতে ওকরাবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার যুবক মীর আলম কবিরকে নৃশংসভাবে বেঁধে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। দোষীরা প্রত্যেককেই আরএসএস-বিজেপি এবং গো-রক্ষক সমিতির লোক। শাস্তি দিতে হবে দোষীদের। এই দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন স্থানীয়েরা।
মীর আলম কবিরের পরিবার দিনহাটা থানায় সোমবার রাতে যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। তাতে যে ১১ জনের নাম রয়েছে। 
মঙ্গলবার কলকাতা থেকে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য মীনাক্ষী মুখার্জি ফোনে নিহতের নিহতের ছোট ভাই আতোয়ার রহমানের সঙ্গে কথা বলেন। আতোয়ার বিশেষ ভাবে সক্ষম, চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এবং আইনি লড়াইয়ে সহায়তার আশ্বাস দেন সেলিম ও মীনাক্ষী।
ফোনে মহম্মদ সেলিম আতোয়ার রহমানকে বলেন, সব ঘটনা শুনেছি। আপনার ভাইকে তো ফিরিয়ে দিতে পারবো না। তবে যারা এই খুনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের শাস্তির জন্য আইনি লড়াইয়ে আমরা পাশে থাকবো। দেশ জুড়ে এই মব লিঞ্চিং বাড়ছে। এরপর বিজেপি’র লোকেরা আপনাদের প্রলোভন দেখাবে ওদের ফাঁদে পা দেবেন না।
ফোনে মীনাক্ষী মুখার্জী আতোয়ার রহমানকে বলেন, একই ঘটনা গত ৫জুলাই শীতলখুচিতে হয়েছে। এবার আপনাদের এখানে হল। আপনাদের যে কোনও প্রয়োজনে আমরা পাশে আছি।
এদিকে খুনে মূল অভিযুক্ত লিটন রায় এলাকার বজরঙ দল ও আরএসএস-র নেতা। লিটন রায়ের সঙ্গে দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় এবং সিতাইয়ের বিজেপি নেতা সুকুমার বর্মনের ছবি সমাজমাধ্যমে ঘুরছে। 
নিহত মীরের গ্রাম ইন্দ্রনারায়ণ এলাকায় সবাই বলছেন, পুলিশ গতকাল ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস মূল আসামীদের গ্রেপ্তার করুক। 
উল্লেখ্য গত ৫ জুলাই শীতলখুচির শিঙিমারী এলাকার সিপিআই(এম) কর্মী মন্টু মিয়াকে গোরক্ষকেরা নৃশংশ ভাবে খুন করে এসিড দিয়ে পুড়িয়ে নদীর জলে ফেলে দিয়েছিল।
মিন্টু মিয়াঁর মত মীর আলম কবিরও গরু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছে দিতে গিয়ে রবিবার রাতে খুন হলেন।
মঙ্গলবার সকালে সিপিআই(এম) নেতা প্রবীর পাল, শুভ্রালোক দাস, তাপস চৌধুরী, হোসেন আলি সহ একটি প্রতিনিধি দল পৌঁছায় নিহতের বাড়িতে। ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন সিপিআই(এম) কোচবিহার জেলা সম্পাদক অনন্ত রায়।
‘আওয়াজ‘ সংগঠনের আবু বক্কর শেখ, ইনসাফুদ্দিন আহমেদ, এন্দাদুল হক সহ আরেকটি প্রতিনিধি দল যায় নিহতের বাড়িতে।
এদিন প্রতিনিধি দলের কাছে পরিবারের সদস্যরা বলেন, একজন ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে ভিডিওগ্রাফি করে ময়নাতদন্ত করা হোক।

Comments :0

Login to leave a comment