Md Salim

ফ্যাসিস্ট হামলা রুখতে সম্মিলিত প্রতিরোধ: যাদবপুরে হামলার নিন্দায় সেলিম

রাজ্য কলকাতা

বৃহস্পতিবার মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনে মহম্মদ সেলিম।

মুক্ত চিন্তার পরিসর থাকলেই ফ্যাসিস্টরা আক্রমণ করে। যাদবপুরে আক্রমণ আরএসএস-বিজেপি’র সেই কর্মসূচির অংশ। ফ্যাসিস্ট বিরোধী সব অংশকে নিয়ে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বুধবার রাত থেকে হামলা এবং উত্তেজনার তীব্র নিন্দা করে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, মুজফ্‌ফর আহ্‌মদ ভবনে সাংবাদিক সম্মেলন করেন তিনি। 
সেলিম বলেন, ‘‘যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে তা নিন্দাজনক। হোস্টেলে, পড়ুয়াদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। আগুন লাগাতে গিয়েছিল অরবিন্দ ভবনে। এটা কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়। গত বারো বছর ধরে দেশের শিক্ষা এবং সংস্কৃতির কেন্দ্রগুলিতে যে ভাবে আক্রমণ হয়ে আসছে এই ঘটনা তার অংশ।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘যেখানে মুক্তমনা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকে, চিন্তা ভাবনা করার পরিসর থাকে, সেখানেই ফ্যাসিস্ট শক্তি বারবার আক্রমণ করে। তাঁর সংযোজন, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস আরএসএস জানে না। ইংরেজের শিক্ষাব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে মানুষের সাহায্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল এই শিক্ষাকেন্দ্র। ত্রিগুণা সেনের নাম যুক্ত রয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে। শিক্ষার সঙ্গে বা প্রগতিশীল ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে আরএসএস’র কোনও যোগ নেই।’’ 
তিনি বলেন, ‘‘শিক্ষাক্ষেত্রে আক্রমণ হচ্ছে। আরএসএস এবং ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলির বিরুদ্ধে যারা আছে তাদের সবাইকে নিয়ে হবে লড়াই। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই ফ্যাসিস্ট শক্তির মোকাবিলা করা হবে।’’ 
সেলিম বলেন, ‘‘অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সব ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাঁকুড়ার ইন্দাসে স্কুল বাঁচাতে গিয়ে এক ছাত্র আক্রান্ত হয়েছে। বাড়িতে যখন আক্রমণ হয় তখন পুলিশ কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। অসুস্থ বাবাকে চিকিৎসা করতে নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। তিনদিন কোনও এফআইআর নেয়নি পুলিশ। কেন সেই পুলিশের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিলো না প্রশাসন? গোটা দেশ যখন ছিছি করেছে তখন অভিযোগ নিয়েছে। আগে বলেছিল ব্লাড প্রেসার ওঠা নামা করে মারা গিয়েছে, এখন বলছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাহলে বলুক আগে মিথ্যা বলেছিল।
এই সরকার মানুষ বাঁচানোর বদলে মানুষ মারছে। মানুষ আগুনে পুড়ে মারা যাচ্ছে। আর বিজেপি সরকার বলছে আগের সরকার করেছে। তারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মোমো কারখানায় শ্রমিকের মৃত্যুর কোনও তদন্ত হলো না। লুঠ চলছে, লোক বদলেছে শুধু।’’
এক প্রশ্নে সেলিম বলেন, ‘‘সরকার ভয় পেয়েছে। শিক্ষা নিয়ে নিট নিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। মানুষ প্রতিবাদ করছে, নতুন প্রজন্ম পথে নেমেছে। সরকার রিল করতে বলছে। রিয়েল ইস্যু ভুলে রিল ইসু করছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘সিএএ, এনআরসি, এনপিআর, জনগণনা সব এক সূত্রে বাঁধা রয়েছে। জোর করে পুশ ব্যাক করে মানুষকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সেনসাসের নাম করে গোটা দেশের মানুষকে সন্দেহ করা হচ্ছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘এই সরকারের কোনও স্বচ্ছতা এবং দায়বদ্ধতা নেই। বিজেপি বারো বছরে সাংবিধানিক সংস্থাগুলির ওপর মানুষের অবিশ্বাস তৈরি করে দিয়েছে। দেশ জুড়ে চলতে থাকা অবিশ্বাসের বাতাবরণকে শেষ করতে হবে।’’ 
যাদবপুরের ঘটনায় বিজেপি বা এবিভিপি-র দায় ঝেড়ে ফেলতে চেয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। এ প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘‘তা’হলে বিজেপি বিধায়ক কী ভাবে রাতের বেলা চলে এলো? ওদের কোন ছাত্র নেই সেখানে। এরা আইআইটি, আইআইএমকে শেষ করেছে রাজনীতি করতে গিয়ে। এখন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, জওহরলালা নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়কে শেষ করতে চাইছে। যেখানে মুক্ত চিন্তা থাকবে, গবেষণা হবে, প্রশ্ন করা হবে সেই প্রতিষ্ঠানকে শেষ করতে চাইবে যে কোন ফ্যাসিস্ট শক্তি।’’ এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেন, ‘‘আরএসএস বলে ওদের সঙ্গে বিজেপি’র কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু বিজেপি উত্তর প্রদেশ, গুজরাটে কী ভাবে ভোটে লড়বে সেই নিয়ে আরএসএস সম্মেলন করছে।’’ 
উত্তর চব্বিশ জেলা পরিষদ দপ্তরে তিতুমীরের ছবি ভাঙা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হয় সেলিমকে। তিনি বলেন, ‘‘তিতিমীর ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। বাঁশের কেল্লা করে ইংরেজ ফৌজকে রুখে দিয়েচিলেন। পরে অন্য জায়গা থেকে বাহিনী এনে তাঁরকে পরাজিত করে এবং হত্যা করে ইংরেজরা। তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ। আর আরএসএস-র অনুগামী সংগঠন তিতুমীরের ছবি নামিয়ে ভেঙে বাইরে ফেলে দিয়েছে। পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। বরং জেলা পরিষদ দপ্তরের যে কর্মীরা সেই ছবি তুলে রেখেছিলেন তাঁদের শাসনো হচ্ছে। এর আগে বিজেপি কর্নাটকে হায়দর আলি এবং টিপু সুলতানের নাম মোছার চেষ্টা করেছে। ইংরেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন তাঁরা। সেই ইতিহাস ভুলিয়ে দিতে চাইছে, ইতিহাস বিকৃত করতে চাইছে আরএসএস-বিজেপি। তবে যত চেষ্টাই চলুক ব্রিটিশের বিরুদ্ধে সংগ্রামের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না।’’

Comments :0

Login to leave a comment