কাজ হারালে ৬০ দিনের মধ্যে খুঁজে নিতে হবে নতুন কাজ। না হলে ফিরতে হবে ভারতে। দেশে এমনই ভিসা নীতি চালু করে ভারতের এসে ‘সুসম্পর্কের‘ কথা বললেন আমেরিকার বিদেশ সচিব।
শনিবার দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠক করেন রুবিও। মোদীকে আমেরিকার রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের তরফে সে দেশে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। আলোচনার বিষয় ছিল মধ্য প্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরান। জ্বালানি সঙ্কট এবং আমেরিকার জ্বালানি বাণিজ্য নিয়েও কথা হয়েছে। আমেরিকার অনুগত বিদেশনীতি নিয়ে চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে ভারতকে ফের চাপ দেওয়া হয়েছে, মনে করছে পর্যবেক্ষক মহলের বড় অংশ।
রুবিও এদিন দিল্লি যাওয়ার আগে যান কলকাতায়। আগ্রা এবং জয়পুরে যাওয়ার সূচিও রয়েছে তাঁর।
‘জ্বালানি এবং বাণিজ্য মিলিয়ে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোর’ জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনার দাবি জানানো হলো সরকারি ভাষ্যে।
ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সমঝোতা চললেও গতি হারিয়েছে অনেকটাই। দেশে কৃষকদের তীব্র বিরোধিতার মুখে মোদী সরকার। নতুন সংকট বিন্দু হয়েছে মধ্য প্রাচ্য এবং ইরান। আমেরিকার চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে ভারত জ্বালানি সংকটে জেরবার হলেও আমেরিকার পদক্ষেপের নিন্দা করেনি মোদী সরকার। আরেকদিকে ইরানকে উড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করে শেষ পর্যন্ত মার খেতে হয়েছে আমেরিকাকে।
রুবিও এই সফরে আসার আগেই আমেরিকার সংবাদমাধ্যমকে জানান যে ভারতকে জ্বালানি বিক্রি করার ওপর জোর দেবে তাঁর সফর।
এর আগে রাশিয়ার তেল কেনার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে ভারত। চীন এক কথায় হুমকি উড়িয়ে দিলেও ভারত চুপচাপ শর্ত মেনে নেয়। ইরান সংকট পর্বে রাশিয়া থেকে তেল কেনার ‘অনুমতি‘ দেয় আমেরিকা। তবে রাশিয়ার থেকে কম দামে তেল কেনার সুযোগ ভারতের জন্য খোলা থাকবে না বেশি দিন, বুঝিয়েছে আমেরিকা।
রুবিও বলেছেন, ‘‘আমেরিকার জ্বালানি পণ্য ভারতের প্রয়োজন মেটানোর পক্ষে সহায়ক। সেদিকে জোর দেওয়া হবে।’’
শনিবার দিল্লিতে রুবিও ভিসা প্রসঙ্গ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট‘ ভিসা নীতিতে ভারতের ব্যবসায়ী মহল, পেশাদারদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। মোদী সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘‘মার্কো রুবিওকে অতিথি হিসেবে পেয়ে আনন্দিত। ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের সগভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে। আন্তর্জাতিক স্তরে দু’দেশের স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ককে মজবুত করার জন্য কথা হয়েছে। আঞ্চলিক শান্তি এবং সুরক্ষা নিয়েও কথা হয়েছে।‘‘
সম্প্রতি চীন-রাশিয়া শীর্ষ বৈঠকের পর আমেরিকা সহ পশ্চিমের দেশগুলিতে তোলপাড় চলছে। শি জিনপিঙ এবং ভ্লাদিমির পুতিন স্পষ্ট জানিয়েছেন যে বিশ্বব্যবস্থার ভারসাম্য পশ্চিমের অনুকূলে থাকবে না। সেই পরিস্থিতিতে ভারতের আনুগত্য আরেকবার খতিয়ে দেখে নিতে চাইছে আমেরিকা।
Rubio meet with Modi
রুবিওর ভারত সফরে মোদীকে জ্বালানি কেনার চাপ
×
Comments :0