দেশজুড়েই পড়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এমনকি বিজেপি সমর্থক বহু পরিবারও রুষ্ট দিল্লি পুলিশের জুলুমে। এখন যন্তর মন্তরই নরেন্দ্র মোদী সরকারের মাথাব্যথার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।
যন্তর মন্তরে ছাত্রদের ঢল ঠেকাতে দিল্লিতে ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে দিল্লিতে। সিপিআই(এম) সাধারণ সম্পাদক এমএ বেবির মন্তব্য, ‘‘সংবিধানের ১৯(১)(ঘ) ধারা অনুযায়ী যাতায়াতের মৌলিক অধিকার রয়েছে। তবু যন্তর মন্তর সংলগ্ন ১৬টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে রাখা হলো।’’
বেবি লিখেছেন, ‘‘প্রতিবাদের স্বর বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই প্রয়াস সফল হবে না।’’
গত ২০ জুলাই, সোমবার, যন্তর মন্তর থেকে শুরু হয় ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচি। একের পর এক প্রশ্নপত্র ফাঁস, জাতীয় স্তরের পরীক্ষায় বেনিয়ম এবং দুর্নীতির প্রতিবাদে দাবি ওঠে শিক্ষা মন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে হটানোর। দিল্লি পুলিশ এবং বিজেপি’র পাঠানো লেঠেলদের হামলা সত্ত্বেও হয়েছে মিছিল।
ককরোচ জনতা পার্টির অন্যতম মুখপাত্র সৌরভ দাস বুধবার জানিয়েছেন যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ফের কথা বলার জন্য ডেকে পাঠিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে বলা হয়েছে যে কারও বাসভবন বা দপ্তরে কথা হবে না। যন্তর মন্তরেই আলোচনা হোক। নয়তো তৃতীয় কোনও জায়গায় আলোচনা হোক।’’
পুলিশের পীড়ন সত্ত্বেও যন্তর মন্তরে ছাত্রছাত্রীরা সমবেত হচ্ছেন। বুধবার চলে আসেন পদকজয়ী কুস্তিগির বজরঙ পুনিয়া। কুস্তি ফেডারেশনের শীর্ষ পদ থেকে বিজেপি’র সাংসদ ব্রিজ ভূষণ শরণ সিং-কে সরানোর দাবিতে এই যন্তর মন্তরেই দিনের পর দিন পড়ে থেকেছেন পদকজয়ী বজরঙ, সাক্ষী মালিকরা। মহিলা কুস্তিগিরদের নিপীড়নের অভিযোগে ব্রিজ ভূষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন পদকজয়ীরা।
পুনিয়া বলেছেন, ‘‘কথা বার্তায় লাভ হয় না। আমরাও চল্লিশ দিন পড়ে থেকেছি। আজকে ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলবে বলছে সরকার। কুড়ি দিন এখানে অনশন হয়েছে, তখন চোখ খোলেনি। ওদের ছেলেমেয়েরা হয় ব্যবসা করে, নয় বিদেশে পড়ে। ওদের কিছু যায় আসে না।’’
এদিন প্রতিবাদ হয়েছে মুম্বাইয়ে, মিজেরামের রাজধানী আইজলে। পাটনায় ঢল হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী নেমেছে। আর যন্তর মন্তরে বুধবারও হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী।
Comments :0