Animal Market

নিয়মের বেড়াজালে অনিশ্চিত পশুহাটের ভবিষ্যৎ, গ্রামীণ অর্থনীতিতে চাপ বাড়ছে

জেলা

বন্ধ ঝালদার পশু হাট। ছবি - ভাস্কর দাশগুপ্ত |

১৯১২ সালে পুরুলিয়ার কাশীপুরের পঞ্চকোটের তৎকালীন রাজা জ্যোতিপ্রসাদ সিংহ দেও চালু করেছিলেন একটি হাট। সেই অর্থে শতাব্দী প্রাচীন এই হাটে গেরস্থালির জিনিসপত্রের পাশাপাশি গবাদি পশুর কেনা বেচা হতো। এই জেলায় সর্ববৃহৎ পশুহাট হল কাশিপুরের হাট। প্রত্যেক বৃহস্পতিবার শুধু পুরুলিয়া জেলা নয় অন্যান্য জেলা এবং পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড থেকেও ক্রেতা এবং বিক্রেতারা এখানে আসতেন বিকিকিনি করতে। হাট পরিচালন কমিটির সূত্রে জানা গিয়েছে আগে প্রত্যেক হাটের দিন এক হাজারের বেশি গবাদি পশু কেনাবেচা হতো। কিন্তু গত সপ্তাহে হাতে গোনা কয়েকটি গবাদি পশু এলেও এই বৃহস্পতিবার এই হাটের গেট একেবারেই খোলেনি। পশু হাটে শুধুমাত্র গরু কেনা বেচাই নয় স্থানীয় অর্থনীতিতে সঙ্গে জড়িত ছিল এই সমস্ত হাট। হাটের পাশে যেমন খড় বিক্রেতা থাকতেন। তেমনি ছোটখাটো খাবারের দোকানের মাধ্যমে মানুষজন রোজগার করতেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গবাদি পশু বেচাকেনা একেবারে বন্ধ হয়ে গেছে । তাই পুরুলিয়ার জয়পুরের বড়টাঁড়,  ঝালদা, বলরামপুর সর্বত্র একই চিত্র -পশুহাট বন্ধ।  এরফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তার ছাপ পড়েছে। চাষের কাজের জন্য বলদ কিনতে এসে মানুষজনকে ফিরে যেতে হচ্ছে। তারা বুঝতে পারছেন না এবছর চাষ কি করে করবেন।
পশু হাটে অনেকেই গরু মহিষ বিক্রি করতে আসছেন। আবার সেগুলো কেনার জন্য লোকজন আসছেন। কিন্তু কেনাবেচা হচ্ছে না ।কারণ কোথাও কোথাও কিছু যুবক গরু মহিষ বিক্রেতাদের তাড়িয়ে দিচ্ছেন। প্রত্যেকটা হাটে চলছে পুলিশের বিশেষ নজরদারি। এই জেলায় যে সমস্ত পশুহাট বসে সেই পশু হাট গুলি হচ্ছে গ্রামীন অর্থনীতির অন্যতম অঙ্গ। স্থানীয় মানুষজন বলছেন গরু পাচার বন্ধ হোক। কিন্তু নিত্য ব্যবহারের জন্য যে সমস্ত গবাদি পশুর দরকার সেগুলো কেনা বেচাতে যেন কোন নিষেধাজ্ঞা জারি না হয়। ক্রেতা এবং বিক্রেতা উভয়েই রয়েছেন আতঙ্কে। জেলার গ্রামীণ পশুহাটগুলো থাকছে নিস্তরঙ্গ। একেবারে শুনশান। নিয়মের বেড়াজালে পশুহাট গুলির ভবিষ্যৎ কি হবে সে নিয়েই দেখা দিয়েছে ঘোর অনিশ্চয়তা।

Comments :0

Login to leave a comment