শুদ্ধস্বত্ব গুপ্ত : ডোমকল
"গোরক্ষার নামে ভেবেছিলো ইদুজ্জোহায় মুসলিমদের টাইট দেবে। কিন্তু গরিব হিন্দু সহ মুসলিম দুই ধর্মের গো-পালকরাই বিপদে পড়লেন। এদিকে গোমাংস রপ্তানিতে ভারত দ্বিতীয়। রপ্তানি করছে কর্পোরেট। যারা বিজেপি-কে টাকা দেয়। গরুর করবার ছোট ব্যবসায়ীরা করতে পারবে না। করবে কর্পোরেট। এর বিরুদ্ধে জবাব দিতে প্রতিটি থানায় ডেপুটেশন হবে। সম্প্রীতির লড়াইও চালাতে হবে।"- ডোমকলের সভা থেকে এমনটাই বললেন জামির মোল্লা।
ভোটাধিকার রক্ষা, বুলডোজারের আগ্রাসন বন্ধ করা, পরিযায়ী শ্রমিকের সুরক্ষার দাবিতে আজ ডোমকলে এক সমাবেশ করে সিপিআই(এম)।সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পদক মহম্মদ সেলিম, মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জমির মোল্লা, ডোমকোলের মোস্তাফিজুর রহমান। পাশাপাশি এদিন অসুস্থ্য শরীর নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা আনিসুর রহমান, সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য শতরূপ ঘোষ, শেখ হাসিনা সহ নেতৃবৃন্দ। সেইসঙ্গে এদিন সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিপিআই(এম) জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য ইকবাল হোসেন।
জামির আরও বলেন, "ডোমকলের ভোট দেখিয়েছে সন্ত্রাস শেষ কথা বলে না, শেষ কথা বলে মানুষ। নির্যাতন কমিশন চায় ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দিয়ে তাঁদের সরকারি সুযোগ সুবিধা কেড়ে নিতে। ভোটাধিকার ফেরত দিতে হবে। বিচারাধীনদের আবার ভোটার তালিকায় ফেরাতে হবে। তৃণমূল এখন কোথায় ?"
তিনি বলেন, "কে শুভেন্দু? তৃণমূল থেকে গিয়েছে বিজেপি-তে। আপদ গেছে কিন্তু বিপদ এসেছে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিপদ। ওরা চাকরি দেবনা, ২০১৪ থেকে দেশে একই নীতি। মোদী রামমন্দির করেছে কিন্তু চাকরির ব্যবস্থা করেনি। রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকার হওয়ার পর প্রথম গরিবের পেটেই লাথি পড়েছে। দাম বেড়েছে পেট্রোল ডিজেলের।"
তিনি আরও বলেন, "গো জবাই বন্ধ করেছে। ইদুজ্জোহায় মুসলিমদের টাইট দেবে। কিন্তু দেখা গরিব হিন্দু সহ মুসলমান দুই ধর্মের গোপালকরাই বিপদে পড়লেন। এদিকে গোমাংস রপ্তানিতে ভারত দ্বিতীয়। রপ্তানি করছে কর্পোরেট। যারা বিজেপি-কে টাকা দেয়। গরুর করবার ছোট ব্যবসায়ীরা করতে পারবে না। করবে কর্পোরেট।এর বিরুদ্ধে জবাব দিতে প্রতিটি থানায় ডেপুটেশন হবে। সম্প্রীতির লড়াই চালাতে হবে।"
এদিন সমাবেশ থেকে মহম্মদ সেলিম বলেন, " আমরাও হেরেছি কিন্তু হারিয়ে যায়নি। মোম পুড়লে কিছু পরে থাকে। ভোটে হারের পর তৃণমূলের সেটাও নেই। আগে বলতাম এক বছরের মধ্যে শেষ হবে। ওরা দেখাচ্ছে এক মাসেই শেষ। ৮০ টা বিধায়ক, প্রায় সব মিউনিসিপ্যালিটি, করপোরেশন ওদের হাতে। তবু নামতে পারবে না। বিধানসভায় হকার, ছাত্র, মতুয়া আদিবাসী সবার কথা বলবে রানা। বিধানসভায় লড়াই করে ও সাধারণ মানুষের হক আদায় করবে।"
সমাবেশ থেকে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "এই ইতিহাস লেখা থাকবে। মানুষ ইতিহাস রচনা করে। তারা লড়েছিলেন বলেন এই আসন নিয়ে চর্চা হচ্ছে। কেবল সিপিআইএম না, বিভিন্ন অংশের মানুষ ভোট দিয়েছেন। কংগ্রেস, তৃণমূলসহ অন্য দলের সমর্থকরা আমাদের ভোট দিয়েছেন।
দায়িত্ব আমাদের বেড়েছে।"
অসুস্থ শরীর নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হয়ে আনিসুর রহমান বলেন, "শুধুমাত্র অভিনন্দন জানানোই কাজ নয়। গত দুমাস ধরে বামপন্থীদের উপর সবধরনের আক্রমণ হয়েছে। শেষে বামপন্থীরা ডোমকল জয়ী করেছে। জয়ের আনন্দের পাশাপাশি বর্তমানে আমাদের সংগঠনে জোর দিতে হবে। আন্দোলন এবং সংগঠন একসঙ্গে করতে হবে। সবাইকে নিয়ে কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।"
এদিনের সভা থেকে শতরূপ ঘোষ বলেন, " প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক সময় বলতেন বামপন্থীরা শূন্য। এখন নিজে আর বিধানসভায় নেই। তিনি নেই কিন্তু ২৭ লাখ নাম ভোটার তালিকায় ফিরিয়ে আনার লড়াই আমাদের। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ধর্মঘট করতে গেলে রাস্তায় ফেলে মেরেছে মমতা ব্যানার্জি। না হলে বিজেপি এ রাজ্যে বামপন্থীদের মোকাবিলা করতে পারত না। এখন বামপন্থীদের তাঁর সঙ্গে হাত মেলাতে বলছেন। কিন্তু এখন ওনার ভাইপো নিজেই ওনার পাশে নেই।"
তিনি আরও বলেন, “আজকে ফলতায় যা হচ্ছে, সেটিই হবে রাজ্যে রাজনীতির চেহারা। এক ইঞ্চি জমি বিজেপি কে ছাড়ব না। তৃণমূলের চর'রা আমাদের শত্রু। কিন্তু তৃণমূলের সাধারণ ভোটার, গান্ধীবাদী, মার্কসবাদী সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে হবে।”
Comments :0