বামপন্থীদের লড়াইয়ে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। রেল ষ্টেশন থেকে হকারদের উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্ৰহন করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। নৈহাটি ও কাঁচরাপাড়া ষ্টেশনে ইতিমধ্যেই আরপিএফ নোটিশ দিয়েছিল। রেলওয়ে প্লাটফর্ম থেকে হকারদের দোকান সরিয়ে নিতে হবে। এই মর্মে বৃহস্পতিবার ছিল শেষদিন। লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে রেল হকাররা এই উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। দীর্ঘ পনেরো বছর পর নৈহাটিতে রেল হকাররা লাল ঝান্ডা কাঁধে নিয়ে পুরো নৈহাটি রেল ষ্টেশন এলাকা পরিক্রমা করে।
নৈহাটিতে রেল হকারদের সামনে সিআইটিইউ উওর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সম্পাদক গার্গী চ্যাটার্জী বলেন, "রেল কর্তৃপক্ষ অন্যায়ভাবে রেলওয়ে স্টেশন থেকে হকার উচ্ছেদের পরিকল্পনা গ্ৰহন করেছে। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত কয়েক হাজার মানুষ। এর ওপর তাদের পরিবারের রুটি রুজি ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা নির্ভর করে। এখন এদের দোকান চলে গেলে এরা বাঁচবে কী করে? হকারদের সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসন দিতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না।"
সিআইটিইউ নেতা সমীর সরকারের নেতৃত্বে হকারদের এক প্রতিনিধিদল আরপিএফ'র ইনস্পেক্টরের সঙ্গে দেখা করেন। আরপিএফ'র তরফে বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এবং আপাতত হকার উচ্ছেদ করা হবে না বলে জানিয়েছে।
কাঁচরাপাড়া ষ্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) কাঁচরাপাড়া এরিয়া কমিটির ডাকে এক প্রতিবাদ মিছিল সংগঠিত হয়। কাঁচরাপাড়া ষ্টেশন পরিক্রমা করে এই মিছিল। এরপর ষ্টেশন ম্যানেজারের নিকট ডেপুটেশন দেন। ডেপুটেশনের আগে সভায় সিপিআই(এম) উওর ২৪ পরগনা জেলা কমিটির সদস্য দেবাশীষ রক্ষিত বলেন, "বিকল্প ব্যাবস্থা ছাড়া হকার উচ্ছেদ করা যাবে না। দীর্ঘ বহু বছর ধরে হকাররা এই ষ্টেশনে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। হকার উচ্ছেদ করতে আসলে সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।"
এই সভায় বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ নেতা শম্ভু চ্যাটার্জি, অজয় নন্দী, প্রীতম সেন, শঙ্কর ব্যানার্জি সহ নেতৃবৃন্দ।
Hawker CITU
পুনর্বাসন ছাড়া উচ্ছেদ নয়, নৈহাটি-কাঁচরাপাড়া ষ্টেশনেও উচ্ছেদ রুখলো সিআইটিইউ
নৈহাটি ও কাঁচরাপাড়া ষ্টেশনে হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে মিছিল। ছবি: বিশ্বজিৎ রায়।
×
Comments :0