কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আগস্ট ১৯৪৬’ স্মরণে আয়োজিত বিশেষ বক্তৃতার বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার ধরন নিয়ে আপত্তি জানাল কলকাতা ইউনিভার্সিটি রিসার্চ স্কলার্স’ অ্যাসোসিয়েশন বা CURSA। ১৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চিঠি দিয়ে সংগঠনটি অনুষ্ঠানের ‘ফ্রেমিং’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
চিঠিতে CURSA-র পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘Commemorating August 1946 Calcutta Massacre’ শীর্ষক বিশেষ বক্তৃতা আয়োজনের ধরন নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে রাজ্যপালের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কোনও আপত্তি নেই বলেও স্পষ্ট করেছে সংগঠনটি। তাদের আপত্তি মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দিষ্ট বিষয়টিকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে।
CURSA-র অভিযোগ, বিজ্ঞপ্তিতে একটি জটিল ও গভীরভাবে মর্মান্তিক সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনাকে নির্বাচিত এবং একপাক্ষিক বয়ানের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, এর ফলে অনুষ্ঠানটির চরিত্র সাম্প্রদায়িক ও রাজনৈতিক হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই ধরনের উপস্থাপনা অনুপযুক্ত এবং এর মাধ্যমে ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক পূর্বধারণা তৈরি হতে পারে বলেও চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গবেষক সংগঠনটির বক্তব্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ধর্মনিরপেক্ষ ও শিক্ষাগত চরিত্র বজায় রাখা জরুরি। সাম্প্রদায়িক হিংসার মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলি সমালোচনামূলক গবেষণা, ঐতিহাসিক প্রমাণ এবং অতীতের ভারসাম্যপূর্ণ বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আলোচনা করা উচিত। এমন কোনও বয়ান গ্রহণ করা উচিত নয়, যা সাম্প্রদায়িক বিভাজনকে আরও গভীর করতে পারে বলে তারা মনে করে।
চিঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে আরও আবেদন জানানো হয়েছে, যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্মগুলি ছাত্রছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা বা রাজনৈতিক মতাদর্শগত প্রভাব বিস্তারের কাজে ব্যবহার না করা হয়।
উপাচার্যের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে CURSA-র পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন বিশ্বজিৎ মণ্ডল। চিঠিটির একটি অনুলিপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
‘আগস্ট ১৯৪৬’ স্মরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনা ঘিরে গবেষক সংগঠনের এই আপত্তি ঐতিহাসিক ঘটনাকে কীভাবে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা করা উচিত, সেই প্রশ্নকেই সামনে নিয়ে এসেছে।
Comments :0