I-PAC ED RAID

আই-প্যাক কাণ্ডে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করলো ইডি

জাতীয় রাজ্য

আই-প্যাক কাণ্ডে এবার রাজ্যের বিরুদ্ধে জোড়া মামলা দায়ের করলো ইডি। সোমবার একটি মামলা ইডির তরফে দায়ের করা হয়েছে, অপরটি দায়ের করেছেন ইডির তিন আধিকারিক নিশান্ত কুমার, বিক্রম অহলওয়াত এবং প্রশান্ত চান্ডিলা। দুই মামলাতেই পার্টি করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) মনোজকুমার বর্মা, কলকাতা পুলিশের ডিসি (দক্ষিণ) প্রিয়ব্রত রায় এবং সিবিআইকে।
এর আগে আই-প্যাক কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করে ইডি। উল্লেখ্য সুপ্রিম কোর্টে ইডি মামলা করার আগেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে মামলায় অংশ হতে চেয়ে ক্যাভিয়েট ফাইল করা হয়েছিল। 
গত বৃহস্পতিবার কয়লা পাচার কেলেঙ্কারি তদন্তে আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা দিলে নাটকের পরিস্থিতি তৈরি হয়। পারিষদ নিয়ে সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী। ফাইল সহ একাধিক জিনিস নিয়ে তিনি সেখান থেকে বেড়িয়ে আসনে। গোটা ঘটনার সিবিআই তদন্ত চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেছে ইডি। 
শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের বেঞ্চে ছিল আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা এবং তাতে মুখ্যমন্ত্রীর বাধা দেওয়া সংক্রান্ত মামলার শুনানি। নির্ধারিত সময় শুনানি শুরু হলেও এজলাসে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় তা বাতিল হয়ে যায়। হাইকোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ১৪ জানুয়ারি এই মামলার শুনানি হবে। 
বৃহস্পতিবার সকালে আই-প্যাকের মালিক প্রতীক জৈন এবং সেক্টর ৫ এ তাদের অফিসে হানা দেয় ইডি। কয়লা পাচার মামলার তদন্তের সূত্র ধরে এই হানা বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারি সংস্থা। কিন্তু দেখা যায় ইডি প্রতীকের বাড়ি গেলে সেখানে কলকাতা এবং বিধাননগর পুলিশের দুই কমিশনার ও বিশাল বাহিনী নিয়ে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী নিজে। প্রতীকের বাড়ি ঢুকে বিভিন্ন ফাইল, ল্যাপটপ, হার্ড ডিস্ক নিয়ে বেড়িয়ে আসেন এবং তা তৃণমূলের নামে রেজিস্টার করা একটি গাড়িতে তোলেন। তারপর সেখান থেকে যান আই-প্যাকের অফিসে। সেখানেও একই চিত্র দেখা যায়। বিবৃতি দিয়ে ইডি’র পক্ষ থেকে জানানো হয় যে মুখ্যমন্ত্রী তার সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের থেকে ফাইল সহ একাধিক নথি ছিনিয়ে নিয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। দায়ের হয়েছে মামলা, তাতে যুক্ত করা হয়েছে মমতাকে। পাল্টা ‌আই-প্যাকের দপ্তরে ইডি হানা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে তৃণমূল তাতে যুক্ত করা হয়েছে ইডি এবং আই-প্যাককে।
মমতা দাবি করেছেন আই-প্যাকের অফিস একটি রাজনৈতিক দপ্তর, তাদের সোশাল মিডিয়া সেলের অফিস। সেখানে তাদের দলের প্রার্থী তালিকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রিপোর্ট রয়েছে যা ইডিকে ব্যবহার করে সড়িয়ে ফেলা হচ্ছিল। 
তবে এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এবং ইডি’র ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে বলেন, ‘সরকারি কাজে বাধা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বেআইনি কাজ করেছে। তার সাথে সঙ্গ দিয়েছে কলকাতার পুলিশ কমিশনার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারেট এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপি। এই সবার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী চোরাই কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘মমতা বেআইনি কাজ করছে। প্রতীক জৈন একজন নাগরিক, ব্যবসায়ী। আইপ্যাকের মালিকানা কার? বেনামে অভিষেকের।’

Comments :0

Login to leave a comment