ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করায় এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দমন-পীড়নের আশঙ্কায় তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি দিল ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইতিমত্যেই সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে ব্রিফ করা হয়েছে বলে নিউইয়র্ক টাইমস সূত্রে খবর।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যদি ইরান সরকার বিক্ষোভকারীদের ওপর আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ চালায়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটতে পারে। ওয়াশিংটনের মতে, তেহরানে অবস্থিত ইরানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদর দপ্তর এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে সুনির্দিষ্ট হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।
ট্রাম্প সোশ্যায় মিডিয়ায় এক বার্তায় বলেছেন, ‘ইরান স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে, যা আগে কখনও দেখা যায়নি। আমেরিকা তাদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।’ উল্লেখ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নজর ইরানের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর।
গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে মুদ্রাস্ফীতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বের কাছে সরাসরি চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকলেও বিক্ষোভ কমেনি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী অন্তত ৭২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২,৩০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে।
অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি দমনের পথ থেকে সরতে নারাজ। দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, বিক্ষোভকারীদের 'মোহারেব' বা 'ঈশ্বরের শত্রু' হিসেবে গণ্য করা হবে, যা ইরানি আইনে একটি মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। এমনকি বিক্ষোভকারীদের সহায়তা করলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের এই অস্থিরতার প্রভাব বিদেশের মাটিতেও পড়েছে। গত শুক্রবার লন্ডনে ইরানি দূতাবাসের ব্যালকনিতে উঠে এক বিক্ষোভকারী বর্তমান ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতাকা নামিয়ে প্রাক-বিপ্লব যুগের (১৯৭৯ পূর্ববর্তী) 'সিংহ ও সূর্য' আঁকা পতাকা উত্তোলন করেন। এছাড়া প্যারিস, বার্লিন এবং ওয়াশিংটনেও হাজার হাজার মানুষ ইরানের জনগণের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছেন।
মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও ইতিমধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে মার্কিন সামরিক কমান্ডারেরা জানিয়েছেন, যেকোন পদক্ষেপ নেওয়ার আগে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন রয়েছে।
উল্লেখ্য, ছয় মাস আগেই ট্রাম্পের নির্দেশে 'অপারেশন মিডনাইট হ্যামার'-এর অধীনে ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। এখন নতুন করে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়ায় পুরো মধ্যপ্রাচ্য আবারও এক অনিশ্চিত যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে।
IRAN
ইরানের বিক্ষোভে উত্তাল রাজপথ, তেহরানে সামরিক হামলার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
×
Comments :0