দিল্লিতে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের আক্রমণের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়ো মোটো) মামলায় হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করলো সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এক আইনজীবীর আবেদন খারিজ করে জানিয়ে দেয়, এই বিষয়ে আদালত নিজে থেকে পদক্ষেপ করতে আগ্রহী নয়।
আইনজীবী নরেন্দ্র মিশ্র সুপ্রিম কোর্টে জরুরি ভিত্তিতে আবেদন জানিয়ে ছাত্রদের উপর কথিত পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন। তিনি আদালতকে জানান, তার কাছে পুলিশি বলপ্রয়োগের ভিডিও রয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার আবেদন করেন।
এর জবাবে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রাথমিক পর্যায়ে আদালত কোনও ভিডিও দেখতে আগ্রহী নয়। তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় নষ্ট করবেন না, আপনাদেরও সময় নষ্ট করবেন না। ভিডিও দেখতে আমরা আগ্রহী নই, আমাদের সেই সময়ও নেই।’
আবেদনে অভিযোগ করা হয়, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সময় দিল্লি পুলিশ নাগরিকদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করেছে এবং সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশিকা মানেনি। সেই কারণে একটি স্বাধীন বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়।
সোমবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র ডাকা বিক্ষোভ কর্মসূচিতে হাজার হাজার ছাত্র ও যুবক-যুবতী দিল্লির রাস্তায় নেমে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবিতে। সংসদের দিকে মিছিল এগোতে গেলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।
আন্দোলনরত পড়ুয়াদের দাবি, পুলিশের বলপ্রয়োগে শতাধিক আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন। সিজেপি-র এক মুখপাত্র বলেন, ‘ভারতের গণতন্ত্রের ইতিহাসে এটি একটি লজ্জার দিন। প্রকৃত সমস্যার সমাধানের দাবিতে আসা ছাত্রছাত্রীদের নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে।’
অন্যদিকে, মঙ্গলবার একই ঘটনায় দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার জরুরি শুনানির আবেদন গ্রহণ করেনি দিল্লি হাইকোর্টও। প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চ আবেদনকারীকে বলে, ‘এই সব বিষয়ে আদালতকে টেনে আনবেন না।’ তবে মামলাটি নিয়মিত শুনানির জন্য বুধবার তালিকাভুক্ত করা হয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং একাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও নাগরিক ২৮ জুন থেকে যন্তর মন্তরে অনশন শুরু করেন। তাদের মূল দাবি ছিল নিটের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত। আবেদনকারীর দাবি, ১৭ জুলাই পর্যন্ত আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ছিল।
কিন্তু ১৮ জুলাই অনশনের ২১তম দিনে পুলিশ আন্দোলনস্থলে প্রবেশ করে। সরকারি বক্তব্যে জানানো হয়, অসুস্থ হয়ে পড়ায় সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই সময় জোর করে আন্দোলনস্থল খালি করা হয়, বহু আন্দোলনকারীকে আটক বা সরিয়ে দেওয়া হয় এবং শান্তিপূর্ণ জমায়েত ছত্রভঙ্গ করতে বলপ্রয়োগ করা হয়।
আবেদনকারীর দাবি, এই পদক্ষেপ শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রতিবাদের সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আক্রমণ এবং ভবিষ্যতে নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি পুলিশের কমিশনার বা অন্য কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১৮ জুলাই যন্তর মন্তরে পুলিশের ভূমিকা, বলপ্রয়োগ, আন্দোলনকারীদের আটক এবং অনশন ভাঙার অভিযোগ নিয়ে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
Supreme Court
ছাত্র বিক্ষোভে পুলিশি বলপ্রয়োগের অভিযোগ: স্বতঃপ্রণোদিত হস্তক্ষেপে অনীহা সুপ্রিম কোর্ট, শুনানি হবে দিল্লি হাইকোর্টে
×
Comments :0