BJP Attacks

কৃষকদের মিছিল বিজেপি’র হামলা, আক্রান্ত কৃষক নেতা সহ ৪ , পাল্টা মিছিল লালঝান্ডার

রাজ্য জেলা

বাঁশ, লাঠি হাতে বিজেপি কর্মীরা ।। ছবি জয়ন্ত সাহা

কৃষকের বোরো ধানের অভাবী বিক্রি বন্ধ এবং এসআইআরে বাদ পড়া ভোটাররদের নাম তোলার দাবিতে লালঝান্ডা হাতে কৃষক সভার মিছিল রুখতে শুক্রবার শিতলখুচিতে তৃণমূলের মতোই হামলার পথ বেছে নেয় বিজেপি! দুষ্কৃতীরা পার্টি অফিসে ঢুকে কৃষকসভার জেলা সম্পাদক সহ ৪ জনের ওপর হামলা চালায়। ভাঙচুর করে সিপিআই(এম) ও ফরওয়ার্ড ব্লকের অফিস। মিছিলে অংশ গ্রহণ করার অপরাধে রফিকুল মিয়া নামে এক যুবকের দোকান জোর করে বন্ধ করে দেয়। 
এসআইআরে যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাদের নাম ভোটার তালিকায় ফের তুলতে হবে, কৃষকের বোর ধানের অভাবী বিক্রি রুখতে হবে রাজ্য সরকারকে। কেন কোচবিহারে সহায়ক মূল্যে ধান কিনবে না খাদ্য দপ্তর এই দাবি নিয়ে শিতলখুচি ব্লকের বিডিওকে শুক্রবার স্মারকলিপি দেবার কথা ছিল। বিডিওকে গত ৮ মে চিঠি দিয়ে স্মারকলিপি দেবার অনুমতিও নিয়েছিল কৃষকসভা। কৃষকদের  মিছিল রুখতে একেবারে তৃণমূলের কায়দায় কাঁচা বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা হল শিতলখুচি বাজারের সিপিআই(এম) অফিসে। হামলায় আক্রান্ত হলেন কৃষকসভার জেলা সম্পাদক আকিক হাসান, আকবর মিয়া,আল মামুদ মিয়া ও বাচ্চু মিয়া।
পুলিশের সামনেই বিজেপির নেতা কনক চন্দ্র বর্মন ও দেবাশীষ বর্মনের নেতৃত্বে হামলা করে জনা চল্লিশের দুষ্কৃতী বাহিনী। পুলিশ ছিল নীরব দর্শকের ভূমিকায়। ওই বাহিনী হুমকি দেয়, ‘‘লাল ঝান্ডা নিয়ে মিছিল, স্মারক দেওয়া চলবে না বিজেপির রাজত্বে।’’ হুমকি উপেক্ষা করে পার্টি অফিস থেকে প্রায় ৫ শতাধিক কৃষক লালঝান্ডা নিয়ে মিছিল করে বিডিও অফিসের দিকে রওনা দিলে পুলিশ মিছিলের গতি রোধ করে। এরপর সিদ্ধান্ত হয় ফের বিডিও’র সাথে কথা বলে এই দাবিতে মিছিল করে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। কৃষকসভার কর্মীরা ফিরে গেলে বিজেপির ওই বাহিনী শিতলখুচি চৌপথীর পাশের সিপিআই(এম) কার্যালয়ে হামলা চালায়। চলে যথেচ্ছ ভাঙচুর। এরপর ওই বাহিনী ফরওয়ার্ডব্লকের একটি অফিসেও ভাঙচুর চালায়।
কৃষকসভার জেলা সম্পাদক আকীক হাসান ঘটনার পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘তৃণমূল শিতলখুচিতে লালঝান্ডাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও ১৫ বছরে শিতলখুচি থেকে লালঝান্ডাকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে নি উলটে তারাই আজ এলাকা থেকে সাফ হয়ে গেছে। তৃণমূলের সেই সব সমাজবিরোধীদের নিয়ে বিজেপি এবার লালঝান্ডাকে খতম করতে নেমেছে। আমরা ফের কৃষকের দাবিতে লালঝান্ডার মিছিল করবো। আমাদের রুখে দেওয়ার সাধ্য নেই ওদেরও।’’
কৃষকসভার এদিনের মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়া ঠেকানো এবং হামলার পরিকল্পনা যে পূর্বপরিকল্পিত ছিল সেটা স্পষ্ট হয় বিডিও অফিসের সামনের দোকানদারদের বয়ানেই। তাদের বক্তব্য, বিকেল ৩ টের পর থেকেই বিজেপি কর্মীরা বিডিও অফিস চত্বরে জড়ো হচ্ছিল। প্রত্যেকের হাতে ছিল বাঁশ, লাঠি। বাইক নিয়ে জনাকয়েক যুবক সিপিআই(এম)পার্টি অফিসের দিকে গিয়ে খোঁজ নিচ্ছিল কখন মিছিল রওনা দেবে!  মনে করা হচ্ছে কৃষক সভার মিছিলে জমায়েতের সংখ্যা বেশি দেখেই হামলাস্থল বিডিও অফিস না করে আচমকাই বাজারের ভেতরের অফিসে ঢুকে হামলা করে। 
কৃষকসভার নেতা আকবর মিয়া বলেন, ‘‘প্রায় একমাস আগে গত ৮ মে বিডিওকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল ২২ জুন স্মারকলিপি দেবে কৃষকসভা। বিডিও নিজে আমাদের অনুরোধ করে ১৯ জুন স্মারকলিপি দিতে। কৃষকের ন্যয্য দাবিতে লড়াইয়ে ভয় পেয়েই এদিন হামলা চালিয়েছে বিজেপি।’’ কৃষকসভার জেলা নেতা অনন্ত রায় বলেন, ‘‘বিজেপি ক্ষমতায় এসেই তৃণমূলের ঢঙে হিংস্র হয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে চাইছে। আমাদের কৃষকসভার কর্মীরা শপথ নিয়েছে ফের বিডিওর অনুমতি নিয়ে মিছিল ও স্মারকলিপি দেওয়া হবে। কোন শক্তিই লালঝান্ডাকে রুখতে পারবে না।’’

Comments :0

Login to leave a comment