Brazil World Cup 2026

দুর্বল প্রতিপক্ষ হলেও চিন্তায় রয়েছে ব্রাজিল

খেলা বিশ্বকাপ ২০২৬

মরক্কোর বিরুদ্ধে জোগা বোনিতোর দাপট দেখা যায়নি। ব্রাজিল জিততেও পারেনি। একমাত্র ইতিবাচক দিক, ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোলে ফেরা। তিনিই ছিলেন সেদিন ব্রাজিলের ত্রাতা। জ্বলে উঠতে ব্যর্থ রাফিনহা সহ অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো। একজন দক্ষ বক্স স্ট্রাইকারের অভাব প্রকট হয়েছে। পয়েন্ট নষ্ট করে গ্রুপ ‘সি’র পয়েন্ট তালিকায় স্থানে সেলেকাওরা। শনিবার সকালে দ্বিতীয় ম্যাচ। এবার ব্রাজিলের সামনে হাইতি। অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ। নকআউটের দিকে একধাপ এগোতে হলে ব্রাজিলকে এই ম্যাচ জিততেই হবে। হাইতির বিরুদ্ধে জিতে থাকলে গ্রুপের শেষ ম্যাচে চাপ কমে যাবে। 
সুখবর হলো, ফিট হওয়ার চেষ্টায় মগ্ন ব্রাজিলের প্রাণভোমরা নেইমার জুনিয়র। বল পায়ে অনুশীলন শুরু করেছেন। বেশ চনমনে লাগছে তাঁকে। হাইতি ম্যাচে নেইমারকে পাওয়া যাবে না, ইতিমধ্যেই নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশন। এমনকি নেইমার দলের সঙ্গে ফিলডেলফিয়া যাচ্ছেন না। ব্রাজিল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, নেইমারের ফিটনেস প্রক্রিয়া চলায় তিনি নিউ জার্সিতেই থাকবেন। ডাগআউটে তাঁর উপস্থিতি মিস করবেন সতীর্থরা। মরক্কো ম্যাচে যখন দল পিছিয়ে, হাইড্রেশন ব্রেকের সময় তাঁর ভোকাল টনিক তাতিয়ে দিয়েছিল ভিনিসিয়াস জুনিয়রকে। ফলাফল, ভিনির অনবদ্য গোলে সমতায় ফেরা। হাইতির বিরুদ্ধে নেইমারের না থাকা ভোগাতে পারে ব্রাজিলকে?
চাপ বাড়ছে কার্লো অ্যান্সেলোত্তির উপর। তাঁর কৌশল, একাদশ নির্বাচন ও এন্ড্রিককে ব্যবহার না করার জন্য প্রবল সমালোচিত হয়েছেন। নাম্বার নাইন হিসাবে খেলাচ্ছেন কাকে? ইগোর থিয়াগো। যিনি মরক্কোর বিরুদ্ধে দুটি সুযোগ নষ্ট করে, কোচের ভরসার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ। পরবর্তী হিসাবে নামালেন কুনহা। তিনিও কাজের কাজ করতে পারেননি। ভিনি নিজেও ‘নাম্বাই নাইন’কে ভরসা না করতে পেরে গোলে শট মেরেছেন। বড় চেহারার ইগোর থিয়াগোর উপর ভরসা করবেন, না তরুণ-ছটফটে এন্ড্রিককে খেলাবেন? দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে অ্যান্সেলোত্তিকে। এন্ড্রিক খেলালে, তিনি গোল পেলে, আত্মবিশ্বাস বাড়বে তাঁর। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে দুরন্ত একটি গোল করেছিলেন। তাঁর পজিশনিং সেন্স ভালো। গোল ভালো চেনেন। ভিনি ও রাফিনহা’র সঙ্গে তাঁর ভালো বোঝাপড়া গড়ে উঠতে পারে। সবকিছুই নির্ভর করছে অ্যান্সেলোত্তির উপর? 
অনুশীলনে ফর্মেশন নিয়ে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। একাদশ কাদের নিয়ে সাজাবেন, তা রহস্যে মোড়া। আক্রমণে গতি আনতে চারজন ফরোয়ার্ড খেলাতে পারেন। ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমের যা খবর, লুকাস পাকুয়েতাকে বসিয়ে লুইজ এনরিকেকে খেলাতে পারেন অ্যান্সেলোত্তি। অনুশীলনে তাঁকে ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে। দুই উইং ভিনি ও রাফিনহা। আবার রাফিনহাকে নাম্বার টেন হিসাবে খেলিয়ে এনরিকে উইংয়েও খেলাতে পারেন ডন কার্লো। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, হাইতির বিরুদ্ধে নাম্বার নাইন কে হবেন? মরক্কোর বিরুদ্ধে ব্যর্থ হওয়ায় হয়তো কুনহাকে শুরু থেকে খেলাতে পারেন আজুরি কোচ। গত ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া ক্যাসেমিরোকে মাঝমাঠে রেখেই নকশা সাজাচ্ছেন তিনি। ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে প্র্যাকটিসে। কারণ গেম টাইম দিয়ে ক্যাসেমিরোকে ফর্মে ফেরাতে চাইছেন। তাঁর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন কি ব্রুনো গুইমারেস? তিনি যথেষ্ট ভালো খেলেছিলেন আশরফ হাকিমিদের বিরুদ্ধে। ডিফেন্স-অ্যাটাকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি, বিপক্ষের ডিফেন্সিভ থার্ডে চলে যাচ্ছিলেন। ভিনিকে গোলের থ্রুও বাড়ান গুইমারেস। 
হাইতি আন্ডারডগ দল। বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে হেরেছে। ব্রাজিলের মতো বড় দলের বিরুদ্ধে এবার নামবে তারা। ফলে তাদের প্রেরণা হতেই পারে কেপ ভার্দে এবং ডিআর কঙ্গো। কেপ ভার্দে আটকে দিয়েছিল স্পেনকে। পর্তুগাল ড্র করেছে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে। এই ফলাফল ব্রাজিলকে সতর্ক করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। এই ম্যাচে আটকে গেলে সমস্যায় পড়ে যাবে সেলেকাওরা। হাইতির মুখোমুখি হওয়ার আগে ব্রাজিলের অভিজ্ঞ সাইড ব্যাক দানিলো বলছেন, ‘স্পেনের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দে কীভাবে রক্ষণ সামলেছে, গোটা বিশ্ব দেখেছে। আমরা হাইতিকে বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেবো! এই কথা বললে, লোকে আমায় পাগল বলবে!’ 
প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তুষ্ট ভক্তরা। এই প্রসঙ্গে দানিলোর সংযোজন, ‘আমাদের কাছ থেকে দুর্দান্ত একটি পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা ছিল সবার। যখন সবকিছু পরিকল্পনামতো হয় না, তখন তা মেনে নেওয়া সহজ নয়। দ্রুত ভারসাম্য খুঁজে বের করতে হবে। আমরা কৌশলগত ও মানসিক—উভয় দিক থেকেই ভারসাম্যহীন ছিলাম।’ দানিলোর মতে, এই ব্রাজিলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। দানিলোর সংযোজন, ‘দল হিসাবে ফ্রান্স বা আর্জেন্টিনার পর্যায়ে আমরা পৌঁছাইনি। সময় লাগবে। আমাদের ক্ষমতা রয়েছে, ২৪ বছর পর বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার।’

Comments :0

Login to leave a comment