ভোটার তালিকা সংশোধন, শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি প্রদানসহ সাধারণ মানুষের ১৪ দফা দাবি এবং অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বানারহাটে আয়োজিত হল এক বিশাল প্রতিবাদ মিছিল। সিআইটিইউ এবং সারা ভারত কৃষকসভা বানারহাট ব্লক সমন্বয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এলাকার শত শত শ্রমিক ও কৃষকের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিন বানারহাট তরুণ সংঘের মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি বানারহাট থানা, চামুর্চি মোড় এবং বিডিও অফিস পরিক্রমা করে এলআরপি মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সভায় বর্তমান পরিস্থিতির ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারের জনবিরোধী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন। শ্রমিক নেতা তিলক ছেত্রী বলেন, “বিজেপি ধর্মের নামে মানুষের মনে বিষ ছড়াচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের রুটি-রুজি নিশ্চিত করার বদলে তারা কর্পোরেটদের দালালি করছে। একমাত্র লালঝাণ্ডাই মানুষের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে অবিচল।”
এদিন জোর দাবি তোলা হয় যে, এসআইআর-এ বাতিল হওয়া সমস্ত বৈধ ভোটারদের নাম অবিলম্বে ভোটার তালিকায় পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সেই সঙ্গে চা বাগানসহ সমস্ত শিল্পক্ষেত্রে শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি প্রদান বাধ্যতামূলক করার দাবি জানানো হয়।কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম নির্ধারণ এবং বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে সরকারের জনবিরোধী ভূমিকারও তীব্র নিন্দা করেন বক্তারা।
কৃষক নেতা দীপক কুন্ডু বলেন, “নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। অথচ আজ স্মার্ট মিটার বসিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর আর্থিক বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এই স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও তীব্র করার ডাক দেন তিনি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জনস্বার্থের এই দাবিগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পিন্টু বড়াইক,সুখমইত ওঁরাও, প্রদীপ সরকার, গোপাল ছেত্রী, ভক্ত বাহাদুর ছেত্রী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
CITU, Krishak Sabha
ভোটাধিকার সহ একাধিক দাবি আদায়ে পথে নামল সিআইটিইউ-কৃষকসভা
×
Comments :0