Rahara Rally CPI-M

জনতাকে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন করে সংগ্রাম, রহড়ার জনসভায় মোস্তাফিজুর

জেলা

রহড়ার বালাগড় হাটখোলা বাজারের বিরাট সমাবেশের বক্তব্য রাখছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি: অভিজিৎ বসু

লব মুখার্জি: রহড়া

বিজেপি আমাদের কাছে অপরিচিত নয়। ২০১৪ সাল থেকে আমরা কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে দেখছি। বিজেপি পরিচালিত রাজ্য সরকারগুলিকেও দেখছি। ২০১৪ সাল থেকে বিজেপি মিডিয়াতে যা বলেছে, ঠিক তার উল্টোটাই করেছে। সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটি সদস্য এবং বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান (রানা) শুক্রবার রহড়ার বলাগড়ের জনসভায় একথা বলেন। শ্লোগানে শ্লোগানে মুখরিত হয়ে জনসভায় বিপুল সংবর্ধনা জানানো হয় তাঁকে।
রহমান বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার প্রত্যেকটা ক্ষেত্রে বিভাজনের কথা নিয়ে আসছে পশ্চিমবাংলায়। এমন একটা পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে যে এই সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলা মানেই সে হচ্ছে দেশবিরোধী।
বিজেপি সরকারের কর্পোরেট তোষণ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকার থাকার সময়ে, সংখ্যালঘু মানুষদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়নি।  
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আদর্শহীন নীতিহীন আপাদমস্তক দুর্নীতিগ্রস্ত তৃণমূল পরিচালিত সরকারের বিরুদ্ধে ১৫ বছর ধরে আমরা সংগ্রাম করেছি। তৃণমূল কংগ্রেস দলটা এমনভাবে রাজ্যের সমস্ত ক্ষেত্রগুলি ধ্বংস করে দিয়েছিল। অতিষ্ঠ মানুষ সরকার পাল্টানোর জন্য বিজেপি-কে এনেছে। 
রহমান বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এসেই বেআইনিভাবে হকার উচ্ছেদ করতে শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে সংগ্রাম শুরু হয়েছে পশ্চিমবাংলায়।
মোস্তাফিজুর রহমান ছাড়াও বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ঝন্টু মজুমদার, দেবজ্যোতি দাস, আইনজীবী সায়ন ব্যানার্জি, কুমার সম্ভব মুখার্জি, সাজিক আলি। সভাপতি ছিলেন সুদীপ মুদি। শুরুতে গণসংগীত পরিবেশন করেন ভারতীয় গণনাট্য সংঘ খড়দহ শাখার শিল্পীরা।
গুন্ডা দমন আইনের নামে বিনা বিচারে আটক আইনের তীব্র প্রতিবাদ করা হয় সমাবেশ থেকে। পঞ্চায়েতে সঠিক পরিষেবার দাবি, দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং হকার উচ্ছেদ বন্ধ করার দাবি জানানো হয় সমাবেশ থেকে।
শুক্রবার সমাবেশটি হয় সন্ত্রাসবিদ্ধ বলাগড় হাটখোলা বাজার অঞ্চলে। বিরাট প্রতিবাদী জনসভার রূপ নেয় সমাবেশ। বলাগড় হাটখোলা বাজারে সিপিআই(এম) রহড়া-খড়দহ এরিয়া কমিটির ডাকে সমাবেশটি হয়।
২০১১ সালের পরে পার্টির বলাগড় শাখার দপ্তর তৃণমূল বাহিনী ভাঙচুর করে দখল করে। সম্প্রতি সেই দপ্তরটির পুনর্গঠন করে চালু করে সিপিআই(এম)। দিন দুয়েক আগে সেই পার্টি দপ্তরে পুনরায় তালা লাগিয়ে দেয় বিজেপি। তালা ভেঙে সেই দপ্তর ফের চালু করেছে সিপিআই(এম)। থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। 
এই দপ্তরটি নামকরণ হয়েছে কমরেড জহুর আলী বৈদ্য ভবন। ফিতে কেটে   দ্বারদ্ঘাটন করেন সিপিআই(এম) উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্পাদক মন্ডলীর অন্যতম সদস্য ঝন্টু মজুমদার। শহীদ বেদিতে মাল্য দান করেন তিনি। মালা দেন দেবজ্যোতি দাস, ডাঃ গৌতম মুখার্জি, সিপিআই(এম) এরিয়া কমিটি সম্পাদক কুমার সম্ভব মুখার্জি সহ, সজল গুহ, শ্যামল ব্যানার্জি সহ নেতৃবৃন্দ।

Comments :0

Login to leave a comment