ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে অসংখ্য বাড়ি ঘর ধসে পড়েছে বলে জানা গেছে। রাজধানী কারাকাসে ১৬২ জন নিহত এবং ৯৭১ জন আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় উদ্ধারকাজ চলছে। বুধবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের পশ্চিমে তীব্র কম্পন অনুভূত হয়। ভবনগুলো ধসে পড়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ চাপা পড়ে। আবহাওয়াবিদরা দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এদিন ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ডেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, ‘‘যারা ভুমিকম্পে পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, আমরা তাদের প্রতি সমবেদনা জানাই।’’ তবে, তিনি মোট মৃত বা আহতের সংখ্যা প্রকাশ করেননি।
দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন রাষ্ট্রপতি দেলসি রদ্রিগেজ সংবাদ সংস্থকে জানিয়েছেন,‘‘ ভূমিকম্পের ১২ ঘণ্টা পরও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়। জোড়া ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন দেলসি রদ্রিগেজ। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৬৪ জন। ৯৭১ জন জখম হয়েছেন। তবে উদ্ধারকাজ চলছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি হলো কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত লা গুয়াইরা। সেখানে বেশ কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে বলে খবর।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর ধসে পড়া ভবন ও ক্ষতিগ্রস্ত কাঠামোর নিচে আটকা পড়া মানুষদের সন্ধান ও উদ্ধারে জরুরি উদ্ধারকারীদল মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবন ধসে পড়েছে, উদ্ধার অভিযান চলছে এবং নিহত ও আহতের সংখ্যা বাড়ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিওসদাদো ক্যাবেলো রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, ‘‘অনেক ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে এবং আমরা নিরাপত্তা ও বেসামরিক সহায়তার জন্য সবকিছু ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।’’
ভূমিকম্পের পর সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন উপ-বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এক্স-এ বলেছেন, ‘‘আমরা ভেনিজুয়েলার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি এবং সহায়তা করার চেষ্টা করছি।’’ কারাকাসে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ভূমিকম্পের পরের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নাগরিকদের আশ্রয় নিতে ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে দূরে থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি হাসপাতালের বাইরে চলছে চিকিৎসা।
সরকারি ছুটির দিন ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্প হয়। তাই মানুষজন বাড়িতেই ছিলেন। ১৮২১ সালে স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করায় ভেনিজুয়েলার জন্য দিনটি সরকারি ছুটির দিন হিসেবে নির্ধারিত হয়। পশ্চিম কারাকাসে বসবাসকারী ৪১ বছর বয়সী জনসংযোগ আধিকারিক অ্যাস্ট্রিড রামিরেজ বলেন, ‘‘ভূমিকম্প শুরু হওয়ার সাথে সাথেই আমরা মানুষের চিৎকার শুনতে পেয়েছি। সবাই সিঁড়ি দিয়ে দৌড়ে নিচে নেমে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন। পূর্ব কারাকাসের ৫৬ বছর বয়সী বাসিন্দা কোরো মার্টিনেজ সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘খুব জোরে একটি শব্দ হয়ে বাড়ির জিনিসপত্র পড়ে যায়। এমনকি ফ্রিজের ভেতরে থাকা জলের বোতলও পড়ে গিয়েছিল। আমি এর আগে কখনও এমন কিছুর সম্মুখীন হইনি।’’ কারাকাসের হাসপাতালের এক কর্মীর বক্তব্য, ‘‘আহতদের চিকিৎসার জন্য কর্মীদের ডাবল শিফট কাজ করতে বলা হয়েছে।’’ কারাকাসের উত্তরে উপকূলে অবস্থিত ভেনিজুয়েলার বৃহত্তম বিমানবন্দর মাইকেতিয়া, ক্ষতির কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভেনিজুয়েলায় ভূমিকম্পে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেন, ‘‘ভেনিজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির জন্য আমি গভীরভাবে মর্মাহত। ভারতের জনগণের পক্ষ থেকে আমি ভেনিজুয়েলা সরকার ও জনগণের প্রতি, এবং বিশেষ করে যারা প্রিয়জন হারিয়েছেন সেই পরিবারবর্গের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আমরা আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি এবং এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত সকলের পাশে আছি। ভেনুজুয়েলাকে ভারত সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত। ভারত সব ধরনের সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত রয়েছে।’’ ভেনুজুয়েলায় যেসব শহরে সরকারিভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে, সেগুলোর প্রায় কোনোটিতেই উল্লেখযোগ্য তেল পরিকাঠামো নেই। সেই কারণে ভূমিকম্পে তেল পরিকাঠামো তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে খবর সংবাদ মাধ্যম সূত্রে। প্রধান তেল কেন্দ্র মারাকাইবো হ্রদের নিকটবর্তী মারাকাইবো শহরের বেসামরিক সুরক্ষা আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
Comments :0