টানা ৩০ দিন গুরুতর অপরাধে হেপাজতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী সহ যে কোনও মন্ত্রীকে পদ থেকে অপসারণের বিতর্কিত প্রস্তাব বহাল রেখেই যৌথ সংসদীয় কমিটি (জেপিসি) তাদের রিপোর্ট গ্রহণ করতে পারে ১৭ জুলাই। সংসদে বিল পেশের আগে সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট গ্রহণ একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
২০ জুলাই বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে এবং এবার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল উত্থাপন করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং মন্ত্রীদের ৩০ দিন জেল খাটার পর তাঁদের পদ থেকে অপসারণের সংবিধান সংশোধনী বিলটি কেন্দ্রীয় সরকার পুনরায় উত্থাপন করতে পারে। এই বিলটি আগেও উত্থাপন করা হয়েছিল, কিন্তু বিরোধিতার কারণে তা কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। তবে, এখন এটা প্রায় নিশ্চিত যে বর্ষাকালীন অধিবেশনে এই বিলটি উত্থাপন করা হবে এবং এটি পাস করানোর জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা জোগাড় করতে সরকার ইতোমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে।
এ বিষয়ে গঠিত যৌথ সংসদীয় কমিটি আগামী ১৭ জুলাইয়ের বৈঠকে তাদের প্রতিবেদন অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি সংবিধানের ১৩০তম সংশোধনী বিল, যা গত বছরের আগস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পেশ করেছিলেন। তবে, বিরোধী দলের প্রতিবাদের পর বিলটি জেপিসি-তে পাঠানো হয়।
তবে, বেশিরভাগ বিরোধী দল এই জেপিসি বয়কট করেছে। সূত্রমতে, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন জেপিসি আগামী ১৭ই জুলাইয়ের বৈঠকে তাদের প্রতিবেদন অনুমোদন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর ২১শে আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। এরপর বিলটি অপরাজিতা সারঙ্গির নেতৃত্বাধীন ৩১ সদস্যের একটি যৌথ কমিটিতে (জেপিসি) পাঠানো হয়। বিরোধী জোটের (ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স) বেশ কয়েকটি দল এই জেপিসির বিরোধিতা করেছিল। সারঙ্গি জানিয়েছিলেন যে, এই বর্ষাকালীন অধিবেশনেই বিলটি উত্থাপন করা হবে। সূ্ত্রের খবর এই বিলটির সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয়টি বহাল রাখা হতে পারে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনো মন্ত্রী গুরুতর অপরাধের জন্য টানা ৩০ দিন আটক থাকলে, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদ থেকে অপসারিত হবেন। জানা গেছে সরকার ২০ জুলাই থেকে শুরু হতে যাওয়া বাদল অধিবেশনে জেপিসি-র সুপারিশগুলোর সংশোধনীসহ এই বিলটি উত্থাপন করতে পারে।
বিরোধীরা এই বিলের বিরোধিতা করছে। তাদের যুক্তি এই বিলটি অগণতান্ত্রিক, যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিপন্থী এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতির বিরুদ্ধে। কারণ এটি শুধুমাত্র দণ্ডাদেশের আগে আটকাদেশের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। যৌথ সংসদীয় কমিটিতে আসাদুদ্দিন ওয়াইসি এবং সুপ্রিয়া সুলের মতো বিরোধীদলীয় নেতারা রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে যে, তাঁরা জেপিসি-র প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে একটি ভিন্নমত নোট জমা দিতে পারেন।
এই বিল অনুসারে, যদি কোনো মন্ত্রী পাঁচ বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডযোগ্য কোনো অপরাধে অভিযুক্ত হন এবং ৩০ দিন হেফাজতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল এই নির্দেশ দিতে পারবেন। অন্যথায়, হেপাজতের ৩১তম দিনে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তাঁর পদ খারিজ হয়ে যাবে।
PMCM Removal Bill
প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের অপসারণ সংশোধনী বিলটি পেশ হতে পারে বর্ষাকালীন অধিবেশন
×
Comments :0