Smart Meter

নিখরচায় ২০০ ইউনিট’ জুমলাই: স্মার্ট মিটার বসিয়ে জুলাইতেই বর্ধিত মাশুল বিদ্যুতে

রাজ্য

 বিদ্যুৎ মাশুল বৃদ্ধির সঙ্গে স্মার্ট মিটার বসিয়ে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য জোড়া আক্রমণের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে রাখলো ডাবল ইঞ্জিন সরকার।
ভোটের আগে সংকল্প পত্রে রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিনামূল্যে বিদ্যুৎ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের আগেই গ্রাহকদের ওপর মাশুলের সঙ্গে স্মার্ট প্রি পেইড মিটারের জোড়া আক্রমণের বোঝা নামিয়ে আনল কেন্দ্র ও রাজ্যের সরকার।
গত শনিবার রাজ্যে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় নগরোয়ন্ন ও বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। গত সন্ধ্যাতেই রাজারহাটের এক হোটেলে রাজ্যের বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকদের এক বৈঠক আয়োজিত হয়েছে। রাজ্যের পৌর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রীও আধিকারিকদের ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। 
বৈঠকের পর কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার বিদ্যুৎ ক্ষেত্রে একযোগে নেওয়া পরিকল্পনার মধ্যে আছে গ্রাহকদের বাড়ি, বাড়ি ফের স্মার্ট মিটার বসানোর। প্রথম পর্বে স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ জুলাই মাস থেকেই শুরু হয়ে যাবে। রাজ্যের ডব্লিউবিএসইডিসিএল (ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট ইলেকট্রিসিটি ডিস্ট্রিবিউশান কোম্পানি লিমিটেড) এলাকার প্রায় ২ কোটি গ্রাহকের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসিয়ে দ্বিতীয় পর্বে কাজ শুরু করবে বিদ্যুৎ দপ্তর। দ্বিতীয় ধাপে বসানো স্মার্ট মিটারকে প্রি-পেইড মিটারে স্থানান্তরিত করবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। ফলে আগামী জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানি এলাকার গ্রাহকদের আগাম বিদ্যুৎ কেনার টাকা দিতে হবে।
একইসঙ্গে এরাজ্যে বিদ্যুৎ মাশুল নিয়েও গত শনিবারের বৈঠকে বড় মাপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জুলাই মাসের মধ্যেই রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ মাশুলের পরিকল্পনা (টারিফ প্ল্যান) রাজ্যের বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কাছে জমা দিতে। এরপর বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন রাজ্যের বিদ্যুৎ বণ্টন কোম্পানির আবেদনের ভিত্তিতে ঠিক করবে পরিবর্তিত বিদ্যুৎ মাশুলের হার। ফলে আগামী বর্ষার মধ্যেই রাজ্যের বিপুল সংখ্যায় বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সামনে জোড়া আক্রমণ নামতে চলেছে।
মাশুল বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর জানিয়েছেন,‘‘ গত ৩১ মার্চের মধ্যে মাসুল পরিকল্পনার কথা রাজ্যের পক্ষ থেকে রেগুলেটরি কমিশনের কাছে জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। বৈঠক থেকে আগামী এক মাসের মধ্যে রেগুলেটারি কমিশনের কাছে টারিফ প্ল্যান জমা দিতে বলা হয়েছে। তারও এক মাস পরে নয়া মাশুল কার্যকর হবে।’’ ফলে আগামী জুলাই মাসের শেষে এ রাজ্যে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সামনে বিদ্যুৎ বিলে নতুন বোঝা আসতে চলেছে। 
ক্ষমতায় থাকার সময় মমতা ব্যানার্জির সরকার মোদী সরকারের স্মার্ট মিটার বসিয়ে প্রি পেইড বিদ্যুৎ বিলের নীতি দ্রুততার সঙ্গে রাজ্যে প্রয়োগ করতে শুরু করেছিল। স্মার্ট মিটারের বিরুদ্ধে গত বছর রাজ্যের সর্বত্র তুমুল জনবিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়। বিধানসভা ভোটের আগে মানুষের এই মেজাজ টের পেয়ে পিছু হটে রাজ্য সরকার। স্মার্ট বসানোর স্থগিত রেখে দেয়। তখনই বিদ্যুৎ গ্রাহকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বসিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটারকে খুলে নিতে হবে। কিন্তু মমতা ব্যানার্জির সরকার সেই কাজ করেনি। ফলে স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ হলেও গ্রাহকদের বাড়ি, বাড়ি বসিয়ে দেওয়া স্মার্ট মিটারকেও এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার প্রে পেইড মিটারে পরিবর্তন করতে আর কোনও বাধা পেতে হবে না। 
স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর জানিয়েছেন,‘‘ পশ্চিমবঙ্গে জুলাই মাস থেকে স্মার্ট মিটার লাগানোর কাজ শুরু হয়ে যাবে। দ্রুততার সঙ্গে ২ কোটি বিদ্যুৎ গ্রাহকের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় ধাপে সেই মিটারে প্রি পেইড মিটারে পরিবর্তন করে নেওয়া হবে। যাতে গ্রাহকরা বিদ্যুৎ খরচ করার আগে টাকা জমা দিতে পারে।’’
শুরুতে রাজ্যের সরকারি দপ্তর, সরকারি আবাসন ও সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রি পেইড মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এই কাজ শেষ করে পরের ধাপে ব্যপক হারে বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রি পেইড স্মার্ট মিটার কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। প্রি পেইড স্মার্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য,‘‘ গ্রাহকদের কাছে তিন মাসের একটা সুযোগ দেওয়া হবে। বর্তমান ইউনিট পিছু মাশুলের টাকা তাদের সিকিউরিটি ডিপোজিট থেকে কেটে নেওয়া হবে। কিন্তু তারপর আগাম টাকা দিয়েই কিনতে হবে বিদ্যুৎ।’’  
ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এই পরিকল্পনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে অল বেঙ্গল ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক সুব্রত বিশ্বাস জানান, ‘‘জুলাই মাস থেকে সরকার স্মার্ট মিটার বসাবে। তারজন্য গ্রাহকদের মাসে মাসে ১০০ টাকা বাড়তি দিয়ে দাম মেটাতে হবে। বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ব্যাপক প্রতিরোধের সামনে সরকার স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ করেছিল। সেই চেষ্টা আবার হলে গ্রাহকরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।’’

Comments :0

Login to leave a comment