Hawker Rally TU

হকারদের জীবিকা ফেরানোর লড়াই জারি রাখার ঘোষণা শ্রমিক মিছিলে

রাজ্য

হকার উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ট্রেড ইউনিয়নের ডাকে যৌথ মিছিল কলকাতায়। ছবি ও ভিডিও: প্রিতম ঘোষ

পূজা বোস

মুখে বলছে ‘ভরসা ইন, ভয় আউট‘। আর কাজের বেলায় ভয়ে রাখছে গরিব মানুষকে। বিনা পুনর্বাসনে অমানবিক হকার উচ্ছেদ চলছে। হকারদের জীবিকা ফেরানোর লড়াইয়ে যতদূর প্রয়োজন ততদূরই যাবে শ্রমিক আন্দোলন।
সোমবার এন্টালি থেকে শিয়ালদহ সিআইটিইউ, এআইইউটিইউসি, ইউটিইউসি, সহ বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বাম এবং আইএনটিইউসি’র মতো শ্রমিক সংগঠনের যৌথ মিছিল থেকে এই ঘোষণা করা হয়েছে। 
এদিন উচ্ছেদ হওয়া হকাররা সেই মিছিল থেকে সরকারের এই অমানবিক আচরণের প্রতি ধিক্কার জানান। 
বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর প্রথমে বিজয় মিছিলের নাম নিউ মার্কেটে হকারদের উপর আক্রমণ করেছিল। তারপরই রাজ্যের বিভিন্ন স্টেশনে রেল হকারদের উচ্ছেদ চলছে। 
তার বিরুদ্ধে রাজ্যের সর্বত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে সিআইটিইউ। 
এদিনের মিছিলে ছিলেন সিআইটিইউ রাজ্য সভাপতি অনাদি সাহু, পশ্চিমবঙ্গ রেলওয়ে হকার্স ইউনিয়নের সভাপতি অলকেশ দাস, সম্পাদক দীপঙ্কর শীল, সিআইটিইউ নেত্রী গার্গী চ্যাটার্জি ও মীনাক্ষী মুখার্জি সহ বাম সংগঠনগুলির নেতৃবৃন্দ। 

এদিন অনাদি সাহু বলেন, "বিজেপি এই রাজ্যে ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমার লক্ষ্য করলাম কলকাতা সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে বুলডোজার নিয়ে হকারদের উপর কী ভয়ঙ্কর আক্রমণ নামিয়ে আনা হচ্ছে। হকাররা গরিব মানুষ। রাতের অন্ধকারে শিয়ালদহ সহ বিভিন্ন স্টেশনে, তাঁদের জিনিসপত্র ভেঙেচুরে নষ্ট করা হলো। সেই সঙ্গে বলা হলো যে শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর হকারমুক্ত করা হলো। কিন্তু সেখানেই বড়ো বড়ো কর্পোরেটদের শপিংমল রয়েছে প্রায় কয়েক দশক ধরেই।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দেশে হকার আইন রয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা যাবে না। রেলে যারা হকারি করেন তাদের জন্য অন্য কোনও বিকল্প কর্মসংস্থান নেই। লক্ষ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েও তার কোনও ব্যবস্থা করেনি সরকার। কোনও রকম দায়দায়িত্ব পালন না করে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার গরিব মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছে।’’
দীপঙ্কর শীল বলেন, “৪ তারিখ বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই কিভাবে গরিব মানুষের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনা যায় তার ব্লু- প্রিন্ট তৈরি করে ফেলে। মুখে ওঁরা বলেছে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন‘। বাস্তবে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্যের গরিব মানুষ ভয়ে, আতঙ্কে রয়েছেন। যাঁদের নির্বিচারে উচ্ছেদ করা হলো তাঁরা কী করবেন জানেন না।’’ তিনি বলেন, ‘‘দেশের আইন অনুযায়ী হকারদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা। আমরা হকার ইউনিয়নের তরফে সেই ব্যবস্থা করার দাবি করেছি। পুনর্বাসন ছাড়া একজন হকারকেও উচ্ছেদ করা যাবে না।”


গার্গী চ্যাটার্জি বলেন, "রাতের অন্ধকারে চোরের মতন হকারদের উপর অত্যাচার নামিয়ে আনছে। সকালে হলে শিয়ালদহ, হাওড়া কেন, কোনও স্টেশনেই এই কাজ করতে পারত না। রাতের অন্ধকারে যে সেন্ট্রাল ফোর্স ভোট করতে এসেছিলো, তাদের দিয়ে চোরের মতো, কাপুরুষের মতো খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। ওঁদের ক্ষুদ্র ব্যবসা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এই অমানবিকতার কোনও ক্ষমা নেই। এই বিষয়ে আমরা  ডিআরএম-র কাছে গিয়েছি। আবারও যাবো, রেল বোর্ডে জানাবো, আদালতের দ্বারস্থ হব। আমরা সমস্তরকম ভাবে এই হকারদের জীবিকা ফেরানোর চেষ্টা করব।"  

 


মীনাক্ষী মুখার্জি বলেন, "রাতের অন্ধকারে হকারদের উপর আক্রমণ নামিয়ে আনছেন মানে সরকার হকারদের দায়িত্ব নিতে চাইছেন না। অথচ তাদের ভোটেই আজ সরকার গঠন হয়েছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘যাদের তোলা হচ্ছে তারা ওই জমিতে বসে কিছু সৎ পথে উপার্জন করত। সরকার সৎ পথে উপার্জনের অন্য ব্যবস্থা করে দিক হকারদের জন্য।‘‘
মীনাক্ষী বলেন, ‘‘রেলের জমিতে বড় বড় কর্পোরেটদের দোকান কিন্তু রয়েছে। বড়লোক হকার চলবে, কিন্তু কুড়ি টাকার বাদামওয়ালাকে সরকার জায়গা দিতে পারছে না।’’

Comments :0

Login to leave a comment