বিজেপি সরকারের ১০ মন্ত্রী, এক স্পিকার রয়েছে উত্তরবঙ্গের। চা বাগান অধ্যুষিত ১০ বিধানসভা কেন্দ্রেও এখন বিজেপির বিধায়ক। তবুও বিজেপির প্রথম বাজেটে উত্তরবঙ্গের ৩ লক্ষের বেশি চা-শ্রমিকের জন্য আদালত নির্দেশিত ন্যুনতম মজুরির কথা ঘোষণা হল না অর্থমন্ত্রীর ৯০ মিনিটের বাজেট ভাষণে!
চা বাগান প্রসঙ্গে শোনা গেল দুটি বোর্ডের প্রতিশ্রুতি! বন্ধ চা বাগান খুলতে শ্রম মন্ত্রী অর্জুন সিং ১৬জুন ইন্ডিয়ান টি এসোশিয়েশন, টি এসোশিয়েশন অফ ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান প্ল্যান্টার্স এসোশিয়েশন এবং দার্জিলিং টি এসোশিয়েশনের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলি চায়ের ন্যুনতম মূল্য নির্ধারনের দাবি জানিয়েছে। বাজেটের পর চা-বাগান শ্রমিকদের নেতা বিকাশ মাহালি প্রশ্ন তুলেছেন উত্তরবঙ্গের তিন লক্ষের বেশি চা শ্রমিকদের মজুরি, বকেয়া পিএফ, গ্রচুয়িটির দাবি উপেক্ষিতই রয়ে গেল! আদালতের নির্দেশ সত্বেও মালিকরা শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি দেয় নি। এখন মাত্র ২৫০ টাকা মজুরি মেলে প্রতিদিন। মন্ত্রীর প্রথম বৈঠকে কেন শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গ এবং বকেয়া পিএফ,গ্রচুয়িটি প্রসঙ্গ উঠলো না? বিজেপি ভোটের আগে শ্রমিকের মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সেটাই কি অর্থমন্ত্রী ভুলে গেছেন?
মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নিয়ে উত্তরবঙ্গ সফরে এসেও বন্ধ বাগান খোলা, চা শ্রমিকদের মজুরি, পিএফ,গ্রচুয়িটি নিয়ে মুখ খোলেন নি। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মন্তব্য করেছিলেন, রাজ্য সরকার আসাম মডেল দিয়ে এরাজ্যের চা শ্রমিকদের উন্নতি করতে চাইছে। চা বাগানের নতুন প্রজন্মের জন্য আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা, আধুনিক বিজ্ঞান গবেষনা স্মার্ট ক্লাসরুম গড়তে চায় সরকার। আর দিতে চায় স্বাস্থ্যবিমা আয়ুষ্মান ভারত। কথা ছিল বাজেটের আগেই বিধায়কদের একটি প্রতিনিধি দল আসামের বাগান ঘুরে এসে রিপোর্ট দেবে। রাজ্য সরকারের ‘আসাম মডেল’ ঠিক কি? বিজেপির বিধায়কেরা বলছেন, এর দুটি ভাগ। একটি সরাসরি শ্রমিক কল্যাণ অন্যটি হল চা শিল্প কেন্দ্রিক উন্নয়ন। কেন্দ্র রাজ্যের চা শ্রমিকদের জন্য ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ৩১২ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিল। সেই টাকা তৃণমূল চালু করে নি বলে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপি সাংসদেরা। প্রথমে বলা হয়েছিল ২০২৫-২৬ এর মধ্যে এই বরাদ্দ খরচ করতে হবে। পরে সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬-২৭ করা হয়েছে। বাজেটের পরেই প্রশ্ন উঠেছে চা- বাগান শ্রমিকদের অন্ধকারে ঠেলে দিয়ে উত্তরবঙ্গের অগ্রগতি আদৌকি সম্ভব? উত্তরবঙ্গের লক্ষ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়েও কোন আশার বাণী ছিল না এদিনের বাজেটে। শুধু বলা হয়েছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য এক দেশ, এক রেশনের ব্যবস্থা হবে। আর তাদের জন্য আয়ুষ্মান ভারতের কার্ডের সুযোগ থাকবে। এই বাজেট পরিযায়ীদের বাজেট হয়ে ওঠে নি। অর্থমন্ত্রী রাজবংশী ভাষা আকাদেমীর জন্য বরাদ্দের কথা ঘোষণা করলেও চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদ সহ উত্তরবঙ্গের একাধিক পর্ষদের জন্য কোন বরাদ্দই রাখেন নি। তিস্তা নদী সহ একাধিক নদীর ভাঙ্গন রোধে ছিঁটেফোঁড়া বরাদ্দও নেই বাজেটে। তিস্তার নাব্যতা বাড়াতে ড্রেজিংয়ের কথাও উল্লেখিত নেই গোটা বাজেটে। উত্তরবঙ্গকে কনজিউমার মার্কেট হিসেবে এতদিন দেখে এসেছে তৃণমূল সরকার। বিজেপির প্রথম বাজেটেও উত্তরবঙ্গকে প্রোডাকশন হাবে রুপান্তরিত করার কোন দিশাই ছিল না বাজেট ভাষণে। বাজেটে উত্তরবঙ্গের টি,টিম্বার, ট্যুরিজিম নিয়ে উল্লেখ যোগ্য কোন দিশা ছিল না। উত্তরবঙ্গের কৃষিজ সম্পদকে ভিত্তি করে সুনির্দিষ্ট কৃষি-শিল্প করিডোর গড়ার পরিকল্পনা নেই এদিনের বাজেটে। মালদহের আমকে ঘিরে প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তাবনা থাকলেও জলপাইগুড়ির আনারস কিংবা কোচবিহারের টমেটো ভুট্টা নিয়ে নীরব ছিলেন অর্থ মন্ত্রী। উত্তরবঙ্গে হসপিটালিটি এন্ড ট্যুরিজিম ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট এবং সমতলে কৃষি ও প্রযুক্তি গবেষণাকেন্দ্র স্থাপনের কোন ভাবনাই নেই রাজ্য বাজেটে।
বাজেটে উত্তরবঙ্গে আরও দুই মেডিকেল কলেজের কথা ঘোষণা হলেও আগের মেডিকেল কলেজগুলিকে পূর্নাঙ্গ ভাবে গড়ে তোলার জন্য কোন বরাদ্দের উল্লেখ নেই । উত্তরবঙ্গের নদীগুলির বন্যা নিয়ন্ত্রনের কোন উল্লেখ না থাকা যথেষ্ট উদ্বেগের।
West Bengal Budget 2026
বঞ্চিত চা শ্রমিকরা, বাজেট ভাষণে আশাহত উত্তরবঙ্গের পরিযায়ীরাও
×
Comments :0