TMC

সরকারি অনুষ্ঠানেও 'চোর' 'চোর' স্লোগান সিউড়ি পৌরসভার পৌরপ্রধানকে

জেলা

গাছ পুঁততে গিয়েও চোর চোর স্লোগান শুনতে হল তৃণমূলের পৌরপ্রধানকে! সরকারি অনুষ্ঠান মঞ্চে প্রশাসনিক আধিকারিক, আমন্ত্রিত অতিথি এবং বিজেপি নেতারা পাশাপাশি বসে অনুষ্ঠান এগিয়ে নিয়ে গেলেও তাল কাটে শেষলগ্নে। সিউড়ির এক স্কুলের মাঠে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়েছে ‘চোর চোর’ স্লোগানের মধ্যে দিয়ে।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এদিন বৃক্ষরোপণ অনুষ্ঠানের সূচনার কর্মসূচী নেওয়া হয়েছিল সর্বত্র। বীরভূমের সদর শহর সিউড়িতেও সেই অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল বেণীমাধব ইনস্টিটিউশনের মাঠে। সেখানে উপস্থিত হওয়ার ঘোষনা ছিল স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্য মন্ত্রীসভার সদ্য ঘোষিত সদস্য জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের। তবে শেষমেষ তিনি হাজির হন নি। সদর মহকুমা শাসক, সিউড়ি পৌরসভার তৃণমূলের পৌরপ্রধানের পাশপাশি দুই পদ্মশ্রী প্রাপক এবং ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজরা হয়েছিলেন উপস্থিত। মঞ্চে আসিন ছিলেন একঝাঁক বিজেপি নেতাও। স্বাভাবিকভাবেই দর্শকাসন ভরাতে বিজেপি কর্মীরাও হয়েছিলেন উপস্থিত। বরণ, বক্তব্য পর্ব অবধি সব ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্তু তাল কাটে বৃক্ষরোপণের সময়। তৃণমূলের পৌরপ্রধানের হাত দিয়ে গাছে চারা পোঁতার সময়ই আচমকা দর্শকাসনের থাকা বিজেপি কর্মীরা ‘চোর চোর’ স্লোগানে মুখরিত করে ওঠে। কেউ কেউ ‘বাড়ির টাকা চুরি করেছে’, ‘রাস্তার টাকা খেয়েছে’ উক্তি করতে থাকেন পৌরপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে। এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় অনুষ্ঠান ঘিরে। সদর মহকুমা শাসক তৎক্ষনাৎ অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি সমাপ্তি ঘোষনা করা হয় অনুষ্ঠানের। সরকারিক অনুষ্ঠান মঞ্চে থাকা বিজেপির শহর সভাপতি সুনয়ন ভান্ডারিকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘মানুষের ক্ষোভের বহি:প্রকাশে এটা হয়েছে। কারন সকলেই জানেন আবাস যোজনার টাকা, রাস্তার টাকা, আলোর টাকা, পানীয় জলের টাকা কীভাবে লুট হয়েছে এই পৌরপ্রধানের নেতৃত্ব। সমস্ত কাউন্সিলররা পকেট ভরেছে মানুষের টাকায়। সেই ক্ষোভই উগড়েছেন মানুষ।’’ অপরদিকে সিউড়ি পৌরসভার তৃণমূলের পৌরপ্রধান উজ্জ্বল চ্যাটার্জির বক্তব্য, ‘‘মহকুমা শাসক আমাকে অতিথিদের আমন্ত্রনের জন্য বলেছিলেন। সেইমতই আমি সরকারিভাবেই অনুষ্ঠানটির আয়োজনে অংশগ্রহন করেছিলাম। কিন্তু কোনটা সরকারি অনুষ্ঠান আর কোনটা পার্টির অনুষ্ঠান তা বিচার না করে এমনটা করা কখনই বাঞ্ছনীয় নয়। সংস্কৃতিটা জানা দরকার আগে। আমি এব্যাপারে মাননীয় মন্ত্রীকে বিষয়টা জানাবো।’’ তবে প্রশ্ন, এমনটা হবে আগাম কী জানতে পেরেছিলেন মন্ত্রী ? তাই কী তিনি ঘোষনা করেও ছিলেন গরহাজির ? উঠছে সেই প্রশ্নও।

Comments :0

Login to leave a comment