তিন কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার হলো কাঁসাই নদীর অ্যানিকেটে। সোমবার সকাল ১০ টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে মেদিনীপুর শহরের প্রবেশ পথে কাঁসাই নদীর উপর সেতুর পূর্বদিকে অ্যানিকেট সংলগ্ন স্থানে। বহু মানুষ এমন মনোরম স্থানে বেড়াতে আসেন। এই স্থানে ৬ বন্ধু মিলে নদীতে স্নান করতে নামেন বলে জানা যায়। তাদের মধ্যে ৩ জনের বাড়িতে ফিরল নিথর দেহ! ক্ষণিকের মজাই কেড়ে নিল তিন তরতাজা কিশোরের প্রান। এদিন সকালে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মৃত তিন কিশোরই খড়্গপুর শহরের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে ছয় বন্ধু মিলে কাঁসাই নদীর অ্যানিকেট বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় ঘুরতে আসে। পরে বেলা বাড়তেই তারা নদীতে স্নান করতে নামে। অভিযোগ, নদীর গভীর অংশে চলে যাওয়ায় আচমকাই তিন কিশোর তলিয়ে যায়। প্রথমে বিষয়টি বুঝতে না পারলেও কিছুক্ষণ পরে বাকি তিন বন্ধু তাদের খুঁজে না পেয়ে চিৎকার শুরু করে। চিৎকার স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। স্থানীয়দের উদ্যোগে নদীতে তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর তিন কিশোরকে নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত কিশোরদের নাম নিখিল চারি (১৬), জেনিথ চেরি (১৭), অপরজনের নাম ক্যালেব ডি বাংগো (১৬)। মৃত তিন কিশোরের বাড়ি খড়গপুর শহরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝি পাড়া এলাকায়। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি নেমে আসে শোকের ছায়া।
ঘটনার খবর পেয়ে খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। কী কারণে তারা নদীর ধারে গিয়েছিল, কিংবা স্নানের সময় কোনওরকম নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিল কী না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, কাঁসাই নদীর ওই অংশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বর্ষার আগের সময় নদীর জল ও স্রোতের গভীরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর দাবিও উঠেছে। দাবী উঠেছে এখানে সতর্কীকরণ করার সাইনবোর্ড বসানোর।
Comments :0