রাজ্যে বিজেপির সরকার ক্ষমতায় আসার পর হকার উচ্ছেদের নামে খেটে খাওয়া মানুষের পেটে লাথি পরেছে, এবার সরকারি নির্দেশিকা মেনে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করার পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল টোটো চালকদের জাতীয় সড়কের উপর চলাচলের বিরুদ্ধে মুখ খোলার পর প্রশাসন নেমেছে টোটো চলাচলের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। আর সেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার ধূপগুড়িতে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভে সামিল হলেন গ্রামীণ এলাকার টোটো চালকদের একাংশ। টোটো বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী থেকে পড়ুয়া, কর্মজীবী মানুষ এবং রোগীরা।
শুক্রবার ধূপগুড়ির ঝুমুর সংলগ্ন এলাকায় একত্রিত হয়ে টোটো চালকরা কর্মবিরতির ডাক দেন। পরে ৪৮ নম্বর জাতীয় সড়ক তথা এশিয়ান হাইওয়ের ধারে অবস্থান-বিক্ষোভে সামিল হন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে জাতীয় সড়কে টোটো চলাচলের অনুমতি দিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করতে হবে প্রশাসনকে।
বিক্ষোভকারী টোটো চালক মাধব রায় বলেন, "আমাদের অধিকাংশের সংসার টোটো চালিয়েই চলে। জাতীয় সড়কে টোটো চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় আমরা চরম সমস্যার মুখে পড়েছি। বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা না করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।"
টোটো চালকদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু চালকের রুজি-রোজগার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রশাসন যদি দ্রুত সমাধানের পথ না খুঁজে বের করে, তাহলে রাজ্য সরকারের কাছেও তাঁরা লিখিতভাবে আবেদন জানাবেন।
অন্যদিকে, এদিন বহু টোটো রাস্তায় না নামায় চরম ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, অফিসগামী মানুষ এবং হাসপাতালে যাওয়া রোগীদের যাতায়াতে সমস্যা দেখা দেয়।
টোটোযাত্রী সুস্মিতা সরকার বলেন,"আমাদের এলাকায় নিয়মিত বাস পরিষেবা নেই। টোটোই ছিল বড় ভরসা। হঠাৎ করে টোটো চালকরা বনধ করায় যাতায়াতে ভীষণ অসুবিধার মধ্যে পড়তে হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের অন্যান্য শহরের মতো ধূপগুড়িতেও জাতীয় সড়ক ও ব্যস্ত এলাকায় টোটো চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ফলে একদিকে যেমন নিরাপত্তা ও যানজটমুক্ত শহরের দাবি উঠছে, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর আশঙ্কায় আন্দোলনে নেমেছেন টোটো চালকরা। এখন দেখার, প্রশাসন সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর রাখতে কতটা অনড় থাকে, নাকি চালকদের দাবির ভিত্তিতে কোনও বিকল্প সমাধানের পথ বের করে। টোটো চালকদের অনেকেই বলেন আগে তৃনমুলের ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলাম পরে বিজেপির সাথে যুক্ত হয়ে ভোট দিয়ে এখন আমাদের পেটে লাথি।
Comments :0