Mathabhanga

মাথাভাঙ্গা হাসপাতালের স্টাফ আবাসনে উদ্ধার বিপুল পরিমানে নিম্নমানের ওষুধ

রাজ্য জেলা

জয়ন্ত সাহা: মাথাভাঙ্গা

ফের মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতাল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এলো! এবার  শুক্রবার হাসপাতালের স্টাফদের জন্য বরাদ্দ আবাসনে মিললো প্রচুর ওষুধ! যেগুলি অত্যন্ত নিম্নমানের। মনে করা হচ্ছে হাসপাতালের কর্মীদের একাংশের চক্র এই ওষুধ বিভিন্ন ওষুধের দোকানে সাপ্লাই করতো। আর এই নিম্নমানের ওষুধ প্রেসক্রাইব করতেন হাসপাতালের কোন কোন চিকিৎসক। যারা বিভিন্ন প্রাইভেট চেম্বারে রোগী দেখেন! 
শুক্রবার রাতে আবাসনের বন্ধ ঘর থেকে তালা খুলে দুই ব্যক্তি টোটোতে কিছু প্যাকেট তুলছিল। তখনই পথ চলতি মানুষদের সন্দেহ হয়। তারা প্যাকেট আটকে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেবার সুযোগে টোটোচালক ও ওই দুই ব্যক্তি ওষুধ ফেলেই পালিয়ে যায়।
শুধু তাই নয়, আবাসনের অন্য বিল্ডিংয়ের দ্বিতীয় তলে যা স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য বরাদ্দ হয় সেরকম একটি রুমের পুলিশ ও মেজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তালা ভেঙে তল্লাশি চালানো হয় রাতেই। সেখান থেকে হাসপাতালের ওটিতে ব্যবহৃত ডাক্তার ও নার্সদের ব্যবহৃত ড্রেস সহ ডাক্তারদের ডিউটি রোজস্টারের একটি কপি এবং জনৈক আলিবার হোসেনের এক গুচ্ছ প্যাড। যাতে জিএসটি নাম্বার ও প্যান কার্ড নাম্বার রয়েছে। পুলিশ সব কিছু বাজেয়াপ্ত করেছে। রাতে বারবার হাসপাতাল সুপার মাসুদ হাসানকে ফোন করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
উল্লেখ্য হাসপাতাল চত্বরের আবাসনের দুটি বিল্ডিংয়ে পুলিশ এসে এতকিছু উদ্ধার করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কেউই আসেন নি।
মহকুমা হাসপাতালে গত ৭ মে সুপারের "থ্রেট কালচারের " প্রতিবাদে প্রথম সম্মিলিত প্রতিবাদ বিক্ষোভে শামিল হন ডাক্তার, নার্স থেকে স্বাস্থ্যকর্মীরা। তখনই সামনে আসে আলিবার হোসেন নামে এক ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মীকে দিয়ে থ্রেট কালচার চালাচ্ছিল স্বয়ং হাসপাতাল সুপার।ওই কর্মীই ডাক্তারদের ডিউটি রোজস্টার তৈরি করতো।টাকার বিনিময়ে মিলতো পছন্দের ডিউটি। এরপর দিনই হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন সিএমওএইচ। কথা বলেন চিকিৎসক ও অন্যান্যদের সঙ্গে। ৯ মে জেলাশাসক নিজে মহকুমা শাসককে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করে থ্রেট কালচার বন্ধের আশ্বাস দেন। এরপর ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মী আলিবার হোসেনকে বরখাস্ত করা হয় ১৪ মে।অবশ্য যার বিরুদ্ধে থ্রেট কালচারের মূল অভিযোগ সেই কিং পিন তৃণমূল সাংসদ জগদীশ চন্দ্র রায় বসুনীয়া ঘনিষ্ট সুপার মাসুদ হাসানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয় নি সিএমওএইচ!
মনে করা হচ্ছে যে আবাসনের দুটি রুমে প্রচুর পরিমানে নিম্নমানের ওষুধ ও যে বেডরুমে হাসপাতালের পোষাক, প্যাড ইত্যাদি পুলিশ উদ্ধার করেছে সেই রুম দুটি বরখাস্ত হওয়া ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মী আলিবার হোসেনকে বরাদ্দ করেছিলেন সুপার! নিয়ম অনুযায়ী একজন ঠিকাদার নিযুক্ত কর্মীর আবাসন পাবার কথাই নয়। অবৈধ নিম্নমানের ওষুধ ব্যবসার সঙ্গে সুপার জড়িত এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। হাসপাতালে থ্রেট কালচার, ব্যপক দুর্নীতির সাথে আলিবার হোসেনের দাদা মৃনাল হোসেনের নামও সামনে আসছে। সামান্য একজন ফুটপাতের দোকানদার থেকে গত ১৫ বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছে দুই ভাই!
শুক্রবারের ঘটনার সময় উত্তেজিত জনতা সুপার এবং আলিবার- মৃনালের গ্রেপ্তারের দাবিও তোলেন।
বিসিডিএ-র মাথাভাঙা মহকুমা সম্পাদক মানব দাস বলেন, হাসপাতাল চত্বরের আবাসনে বিপুল পরিমান নিম্নমানের ওষুধ রাখার অনুমতি কি করে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের কাছে তদন্ত দাবি করা হচ্ছে। হাসপাতালের অভ্যন্তর থেকেই কি করে নিম্নমানের ওষুধ ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে সেটা তদন্ত হওয়া উচিত।

Comments :0

Login to leave a comment