Delhi CJP

সিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে উত্তপ্ত দিল্লি, ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ, বাতিল একাধিক ট্রেন

জাতীয়

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়তে চলেছে রাজধানী দিল্লি। যন্তর মন্তরে এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই তার অনুমতি দেয়নি। জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলনের মোকাবিলায় ২৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ এবং একাধিক ট্রেন বাতিলের জেরে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মেট্রো, ট্রেন বন্ধ রেখে রাতের অন্ধকারে আন্দোলনকারিদের আটক করে ভয় তৈরি করে চাইছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে থাকা দিল্লি পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভের জন্য বাধ্যতামূলক ১০ দিন আগে আগাম বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া, আগের বিক্ষোভের সময় নির্ধারিত নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলেছে পুলিশ। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানানো হয়েছে।
মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারা জারি রয়েছে। বিধিনিষেধ অমান্য করলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও সতর্ক করেছে পুলিশ। যন্তর মন্তর এবং নয়াদিল্লি জেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল এলাকায় বিক্ষোভকারীদের জমায়েত বা মিছিল পৌঁছনোর সম্ভাবনা থেকেই এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
বিক্ষোভের কথা মাথায় রেখে দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ জারি করার কথা জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে সংশ্লিষ্ট স্টেশনগুলির প্রবেশ ও বেরোনোর গেট বন্ধ রাখা হবে। ওই স্টেশনগুলির উপর দিয়ে চলাচলকারী মেট্রো ট্রেনের পরিষেবার ব্যবধানও বাড়তে পারে।
প্রভাবিত স্টেশনগুলির মধ্যে রয়েছে রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, নয়াদিল্লি, প্যাটেল চক, জনপথ, মান্ডি হাউস, বারাখাম্বা রোড, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট, লোক কল্যাণ মার্গ, উদ্যোগ ভবন, কাশ্মীরি গেট, হৌজ খাস, আইএনএ এবং লাজপত নগর।
দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো রুট ও ইন্টারচেঞ্জ স্টেশনে বিধিনিষেধের ফলে নিত্যযাত্রীদের যাতায়াতে সমস্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর আগে মেট্রো পরিষেবা সংক্রান্ত সর্বশেষ নির্দেশিকা দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যাত্রীদের।
মেট্রোর পাশাপাশি রেল পরিষেবাতেও প্রভাব পড়তে চলেছে। শনিবার সকাল ৪টে থেকে দুপুর ২টোর মধ্যে নয়াদিল্লি এবং হজরত নিজামুদ্দিন স্টেশনে পৌঁছনোর কথা ছিল, এমন একাধিক ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ট্রেনগুলি যাত্রার মূল স্টেশন থেকেই বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
যাত্রীদের রওনা দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভ মোকাবিলায় রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (সিএপিএফ) মোট ২২১টি কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ৮ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর পাশাপাশি দিল্লি পুলিশকে আরও ১১০টি সিএপিএফ কোম্পানি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ২৩ হাজারেরও বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে।
মোতায়েনের তালিকায় রয়েছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৮৫টি কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ১০টি, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) সাতটি, র্যা পিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) সাতটি এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) একটি কোম্পানি।
নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় একাধিক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করা হবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজরদারি চালানো হবে। পাশাপাশি, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফেস রিকগনিশন সিস্টেম বা মুখ শনাক্তকরণ প্রযুক্তিযুক্ত ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে সতর্ক থাকতে উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানা-সহ দিল্লির পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Comments :0

Login to leave a comment