Bridge Collapsed

ফের ভাঙলো শীতলখুচির আরেক সেতু

জেলা

জয়ন্ত সাহা: শীতলকুচি

আরও এক "শঙ্কার সেতু" ভাঙ্গলো রবিবার সকালে।
এদিন সকালে ইঁট বোঝাই লরি সেতুতে উঠতেই ভেঙে গেল দেওশাল ব্রিজ। ঘটনাটি ঘটেছে শীতলকুচি ব্লকের ছোট শালবাড়ি অঞ্চলের অন্তর্গত খুটামারা নদীর ওপরের সেতুতে। 
আকরারহাট - পঞ্চারহাট রাস্তায় অবস্থিত এই সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হল।
প্রত্যক্ষদর্শী রমেন বর্মনের বক্তব্য সমালে জমিতে যাচ্ছিলাম। তখন দেখি উলটো দিক একটি লরি সেতুতে উঠছে। একটু পরেই বিকট শব্দ করে সেতুটি ভেঙে পড়ে।লরির চালক কোন মতে লরিটিকে নিরাপদে পিছিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় প্রবীন বাসিন্দা উপেন রায়, ধীরেন বর্মন বলেন, শীতলখুচি, গোসাইরহাটের সাথে যোগাযোগের জন্য মানুষের দাবি মেনে প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী দীনেশ চন্দ্র ডাকুয়া সেতুটি গড়তে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বছর তিনেক আগেই সেতুটি দূর্বল বলে ঘোষণা করেছিল জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ারেরা। ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধও ঘোষণা করেছিল। সেই নিষেধ উপেক্ষা করেই চলাচল করত পণ্যবাহী লরি। এদিন তার জেরেই বিপত্তি ঘটলো।অন্তত ৪০ হাজার মানুষের যোগাযোগের ভরসা ছিল এই সেতু।
উল্লেখ্য বামফ্রন্ট আমলে গড়া কোচবিহার জেলার গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়তে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ৫০টির বেশি সেতু গড়েছিল গ্রামীণ এলাকায়। তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনে কোন সেতুই সংস্কার হয় নি।জেলাপরিষদের তথ্য অনুযায়ী জেলার গ্রামীণ এলাকার ২৩ টি সেতু বিপজ্জনক। ইতিমধ্যে গত ৫ বছরে ৬ টি সেতু ভেঙে পড়লেও সেগুলি আর নতুন করে গড়া হয়নি বরাদ্দের অভাবে।
নতুন রাজ্য সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলার গ্রামীণ এলাকার বিপজ্জনক সেতুগুলি মেরামত বা নতুন করে গড়ার জন্য গত বাজেটে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর বরাদ্দ দিয়েছে এমন কোন সরকারি ঘোষণাও নেই। অন্য দিকে রাজ্যে পালাবদলের পর জেলাপরিষদে অচলাবস্থা চলছে। গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দাদের আশঙ্কা এরকম চলতে থাকলে গ্রামীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বসে পড়বে।
কোচবিহার জেলার গ্রামীণ এলাকার বিপজ্জনক ২৩ টি সেতুর মধ্যে দিনহাটার নিগমনগরের ঘাটপার সেতুতে যান চলাচল করলেই সেতু কাঁপতে থাকে। বিপদের ঝুঁকি নিয়েই চলছে যাতায়াত।
একইভাবে জেলার হলদিবাড়ি ব্লকের ৫ টি গ্রামীণ যোগাযোগের সেতুকে ২০১৯ সালে যান চলাচলে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেছে জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ারেরা।
মেখলিগঞ্জ- কুচলিবাড়ির যাতায়াতের পথে সেতু নদীর ওপর সেতুটিও বিপজ্জনক চিহ্নিত হয়ে আছে।
মাথাভাঙা- শীতলখুচি সড়ক পথে পূর্ত দপ্তরের নিয়ন্ত্রণে থাকা উপেন বর্মন সেতুতেও বিপজ্জনক নোটিশ পড়েছে ইঞ্জিনিয়ারদের।
গত ৫ বছরে মাথাভাঙা, সিতাই, কোচবিহার-১ ব্লকে যে সেতু গুলি ভেঙে পড়েছে সেগুলি এখনও নির্মান হয় নি।ফের ভাঙলো শীতলখুচির আরেক সেতু। কবে হবে সেতু কেউ জানে না। প্রশাসনও নিশ্চুপ।

Comments :0

Login to leave a comment