প্রয়াত হলেন নাগরাকাটার প্রবীণ বামপন্থী কর্মী কমরেড রাম অবতার শর্মা। ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশ করে আমৃত্যু বামপন্থী আদর্শে অবিচল ছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে ডুয়ার্সের রাজনৈতিক ও চা শিল্পমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সত্তরের দশকের গোড়ায় ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন রাম অবতার শর্মা। অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলার বিপিএসএফ-এর শেষ সভাপতি এবং এসএফআই-এর প্রথম সভাপতি হিসেবে ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ১৯৭২ সালে সিপিআই(এম)-এর সদস্যপদ গ্রহণ করেন। জরুরি অবস্থা জারির প্রাক্কালে ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় থাকার সময় পুলিশের দমন-পীড়নের মুখে পড়তে হয় তাঁকে। সিআরপিএফের মারধর ও কঠোর দমন সত্ত্বেও রাজনৈতিক অবস্থান থেকে সরে আসেননি।
পরবর্তীতে কর্মজীবনে সরস্বতীপুর চা বাগানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে যোগ দেন। বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে হিলা চা বাগান-সহ পাঁচটি চা বাগান অধিগ্রহণের পর চা শিল্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত হন। দীর্ঘ সময় হিলা চা বাগানের দায়িত্বে ছিলেন। সেই সময়ে বাগানটিতে নিজস্ব চা কারখানা ছিল না। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সেখানে নতুন চা কারখানা গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে সহকর্মীরা জানিয়েছেন।
পরবর্তীতে মহুয়া চা বাগানে ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। চাকরি ছাড়ার পর টি অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া’র অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। চা শিল্পের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের শেষ পর্বে ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন আমৃত্যু।
চা শিল্প, শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক এবং শিল্পের বিভিন্ন বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জন্য চা মহলে পরিচিত ছিলেন তিনি। আনুমানিক ১৯৫০ সালে জন্ম রাম অবতার শর্মার। সোমবার ভোরে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। রেখে গেলেন দুই কন্যা। ছাত্র আন্দোলন থেকে চা শিল্প দীর্ঘ পথচলায় রাজনৈতিক বিশ্বাস ও আদর্শে অবিচল এই সংগ্রামী মানুষের প্রয়াণে সহযোদ্ধা, রাজনৈতিক কর্মী এবং চা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মহলে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
Ram Avatar Sharma
রাম অবতার শর্মার জীবনাবসান
×
Comments :0