চন্দ্রকোনা, গড়বেতা, শালবনীর পরে বালি, বেলুড়। সোমবার, মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ৮টি সিপিআই(এম) অফিসে ভাঙচুর করেছিল বিজেপি’র কর্মীরা। মঙ্গলবার রাতেই তারা হামলা চালালো হাওড়ার বালি, বেলুড়ে। মঙ্গলবার রাতে বালি বেলুড় এলাকায় সিপিআই(এম)’র পাঁচটি অফিসে ভাঙচুর চালালো বিজেপি’র দুষ্কৃতীরা। এর প্রতিবাদে বুধবার বিকালে বালি দেওয়ান গাজি পার্টি অফিসের সামনে থেকে বালি থানা পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়।
বিজেপি’র স্থানীয় নেতা কর্মীরা বাইকে করে এসে বালি বেলুড় এলাকার পাঁচটি পার্টি অফিস ভাঙচুর করে এবং পার্টি অফিসে তালা দিয়ে দেয়। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বালি বেলুড় এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনার খবর পেয়েই রাতে আক্রান্ত পার্টি অফিসগুলির সামনে জড়ো হতে থাকেন পার্টি কর্মীরা। বুধবার সকালেই পাঁচটি পার্টি অফিসের তালা ভেঙে পার্টি অফিসে ঢোকেন পার্টি কর্মীরা। স্থানীয় পার্টি নেতৃবৃন্দ জানান মঙ্গলবার রাতেই ঘটনা ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানালেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান পার্টি নেতৃবৃন্দ।
পার্টি নেতৃবৃন্দ জানান ২০১১ সালের পর তৃণমূলের সরকার এলে বালি বেলুড় এলাকায় ৩৫টি পার্টি অফিস ভাঙচুর করে তৃণমূলী দুষ্কৃতীরা। সাধারণ মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় কয়েক বছরের মধ্যেই পার্টি অফিসগুলি চালু করা হয়েছিল। পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে সিপিআই(এম) হাওড়া জেলার সম্পাদক দিলীপ ঘোষ বলেন, নির্বাচনে বিজেপি নানান প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। রাজ্য সরকারে এসে সেই প্রতিশ্রুতি যে মিথ্যা ছিল তা রাজ্যবাসী বুঝে গেছেন। মানুষের মনকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছে বিজেপি। অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস আমাদের জেলায় বহু পার্টি অফিস দখল করে নিয়েছে। তা করেও সিপিআই(এম) কে দমিয়ে দিতে পারেনি। সেই একই কাজ শুরু করেছে বিজেপি। ইতিমধ্যে বিজেপি সিপিআই(এম)’র পার্টি অফিস ভাঙতে শুরু করেছে। তিনি জানান পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার হাওড়া জেলা জুড়ে প্রতিবাদ দিবস হিসেবে পালিত হবে। মঙ্গলবার রাতে বালিখাল বাস স্ট্যান্ডে গণতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের কলকাতার সমাবেশ সফল করতে বিশাল সভা হয়। সভার কাজ শেষে যুব কর্মীরা যে যার অঞ্চলে ফিরে যাবার পরই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা বিজেপি-র স্থানীয় কর্মীদের সাথে নিয়ে বাইকে করে পঞ্চাননতলায় দু’টি, দেওয়ানগাজি, পাঠকপাড়া ও খামারপাড়া পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ব্যাপক ভাঙচুর করে। ভেঙে ফেলা হয় অফিসের মধ্যে থাকা টিভি, চেয়ার, টেবিল। ভাঙচুর করা হয় পার্টি অফিসের দরজা, জানলা। রক্ত পতাকা ছিড়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়।
বুধবার সকালে বালি দেওয়ান গাজিতে আক্রান্ত বহু দশকের পুরানো কমরেড পতিত পাবন পাঠক নামাঙ্কিত পার্টি অফিসে বিজেপি’র লাগানো তালা ভেঙে অফিসের ভিতরে ঢোকেন পার্টি কর্মীরা। একে একে বাকি চারটি পার্টি অফিসের তালা ভেঙে ফেলেন পার্টি কর্মীরা। দেওয়ান গাজি পার্টি অফিসের ভিতরে দেখা যায় অফিসে ব্যবহৃত চেয়ার, টেবিল ভেঙে ফেলা হয়েছে। মাটিতে ফেলে দিয়ে ভাঙা হয়েছে টিভি। রীতিমতো তাণ্ডব চালানো হয়েছে পার্টি অফিসগুলিতে। পার্টি অফিস ভাঙচুরের প্রতিবাদে বুধবার বিকালে বালি দেওয়ান গাজি পার্টি অফিসের সামনে থেকে বালি থানা পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল হয়। প্রতিবাদ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন পার্টি পলিটব্যুরো সদস্য শ্রীদীপ ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবব্রত ঘোষ, পার্টি নেতা পরেশ পাল, শঙ্কর মৈত্র, দীপ্সিতা ধর সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ। প্রতিবাদ মিছিলে পার্টি কর্মী, সমর্থক, দরদিদের পাশাপাশি বহু সাধারণ মানুষ অংশ নেন। বালি থানার সামনে মিছিল পৌঁছলে অবস্থান, বিক্ষোভ হয়। অবিলম্বে দোষীদের শনাক্ত করে উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বালি বেলুড় এরিয়া কমিটির সম্পাদক শ্রীমন্ত কুমারের নেতৃত্বে বুধবার বালি থানার আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন দেওয়া হয়। অবস্থান বিক্ষোভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রীদীপ ভট্টাচার্য বলেন সারা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের অফিস শাসক দলের পক্ষ থেকে আক্রমণ করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ভাবে সাধারণ মানুষদের সাথে নিয়ে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। ভট্টাচার্য বলেন সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ পরিচালিত হয় পার্টি অফিস থেকে। সমাজের নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত সহ সমাজের সকল স্তরের মানুষ তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য পার্টি অফিসে আসেন। পার্টি কর্মীরা সাধ্যমত চেষ্টা করেন সমস্যা সমাধানের। তিনি বলেন রাজ্যে বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিতে চায়। সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে মানুষের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
Comments :0