অরিজিৎ মণ্ডল
একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে আসীন হয়েছে বিজেপি। প্রতিশ্রুতি পালনের কোনও চেষ্টা নেই। তার বদলে আগ্রাসন চলছে গরিবের ওপর, শিক্ষার ওপর। গেরুয়াকে আগ্রাসনের প্রতীক করেছে বিজেপি। লাল ঝান্ডাই গরিবের লড়াইয়ের প্রতীক।
বুধবার যাদবপুর সুকান্ত সেতুতে জনসভায় একথা বলেছেন বামপন্থী আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ। এদিন ঢাকুরিয়া থেকে যাদবপুর বিশাল মিছিল হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধিকার, রাজনৈতিক গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে হয়েছে মিছিল। তারপর সুকান্ত সেতুতে হয় জনসভা।
জনসভায় বক্তব্য রেখেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী। সভাপতিত্ব করেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য কমিটির সদস্য সীদীপ সেনগীপ্ত। বক্তব্য রাখেন, এসইউসিআই(সি)’র শান্তি ঘোষ, সিপিআই’র প্রবীর দাস, আরএসপি’র দেবাশিস মুখার্জি, সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের অতনু চক্রবর্তী, ফরওয়ার্ড ব্লকের দেবব্রত রায়। মিছিলে সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কল্লোল মজুমদার, অনাদি সাহু এবং প্রবীণ সিপিআই(এম) নেতা রবীন দেব।
সেলিম বলেন, এই সরকার যাদবপুরকে আক্রমণ করছে। কারণ যাদবপুর প্রশ্ন করতে শেখায়। এরা প্রশ্নের জবাব দিতে নারাজ। কারণ এরা শূন্য পদে নিয়োগের কোনও কথা বলছে না। অধ্যাপক নিয়োগ নেই। ছাত্রছাত্রীদের হস্টেলের সমস্যা মিটছে না। যাদবপুর, জেএনইউ, জামিয়া বা প্রেসিডেন্সিতে একই আক্রমণ চালাচ্ছে।
সেলিম বলেন, নরেন্দ্র কোদী নিজেকে বিশ্বগুরু বলেন। বললেই হয় না, বিশ্বগুরুর মতো দায়দায়িত্ব পালন তিনি করেননি। আমেরিকার একতরফা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দৃঢ় ভূমিকা নিতে পারেনি তাঁর সরকার। আরেকদিকে কে কী বলবে, কে কী খাবে, মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা সব ঠিক করে দিতে নেমেছে আরএসএস-বিজেপি। ভাষা সংস্কৃতি ঐতিহ্যের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। মহিলাদের পোশাক, গায়ের রঙ নিয়েও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ হচ্ছে।
সেলিম বলেন, বামপন্থীদের কাজ মেহনতিকে ঐক্যবদ্ধ করে লড়াই করা। বিশ্বকে সমস্ত শিশুকে বাসযোগ করার জন্য লড়াই করে বামপন্থীরা।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, মুখ্যমন্ত্রী তিনবার এসেছেন যাদবপুরে। মানুষের জমায়েত ছিল না। কিন্তু আজ বামপন্থীদের মিছিলে জনতা অংশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃণমূল রাজ্যকে শেষ করেছে। মানুষের ক্ষোভের জেরে বিজেপি সরকারে আসীন হয়েছে। কিন্তু এই সরকার প্রতিশ্রুতি পালন করছে না। তার বদলে বাংলার যুক্তিবাদী মননকে আঘাত করছে, শিক্ষায় আগ্রাসন চালাচ্ছে। গরিব মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। হকারদের ওপর আক্রমণ করেছে। হকারদের রুজি রুটি কেড়ে নিয়েছে।
চক্রবর্তী বলেন, ‘ভুখমারি সে আজাদি’ মানুষ বলবেই। ওরা আজাদ হিন্দ ফৌজকে মানে না। তাই আজাদির বিরুদ্ধে। ওরা নেতাজীকে অপমান করে। সরকার পরিকল্পিতভাবে যাদবপুরকে আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়েছে। এই আগ্রাসনের সামনে মাথা নত করবে না যাদবপুর। পাশে আছে রাজ্যের সব অংশের ছাত্রছাত্রীরা।
সুজন চক্রবর্তী বলেন, ওরা ভাগ করতে চাইবে। ওরা গেরুয়াকে আগ্রাসনের প্রতীক বানিয়েছে। আর গরিবের লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে থাকবে লাল ঝান্ডাই।
এদিন সুকান্ত মূর্তিতেও মাল্যদান করেন নেতৃবৃন্দ।
Comments :0