Medical treatment for residential students faces uncertainty

সরকারি নির্দেশিকার জট, অনিশ্চয়তার মুখে আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুলের আবাসিক পড়ুয়াদের চিকিৎসা

জেলা

মনিরুল হক

রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকায় ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে কোনও কর্মীকে সরকারি দপ্তর বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে রাখার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ঘিরে সমস্যায় পড়েছে উলুবেড়িয়ার জগৎপুরের আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুল। দীর্ঘদিন ধরে নামমাত্র সাম্মানিকের বিনিময়ে আবাসিক বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়াদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে আসা চিকিৎসকের বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর পরিষেবা আর নেওয়া যাচ্ছে না। ফলে চিকিৎসক-সংকটে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে স্কুলের ৮০ জন আবাসিক পড়ুয়ার চিকিৎসা পরিষেবা।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, আনন্দ ভবন ডেফ অ্যান্ড ব্লাইন্ড স্কুল একটি আবাসিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বর্তমানে প্রায় ৮০ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন পড়ুয়া এখানে পড়াশোনা করে। আবাসিক হওয়ায় পড়ুয়াদের নিয়মিত চিকিৎসা পরিষেবার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থতা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি।
জানা গিয়েছে, ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা প্রসার দফতরের উদ্যোগে আবাসিক শিশুদের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য একজন আংশিক সময়ের চিকিৎসক নিয়োগ করা হয়। তাঁর মাসিক সাম্মানিক নির্ধারিত হয়েছিল মাত্র ৩ হাজার টাকা। স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি, এরপর প্রায় দুই দশক কেটে গেলেও সেই সাম্মানিক আর বাড়েনি। তা সত্ত্বেও স্থানীয় ওই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে স্কুলের পড়ুয়াদের চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে এসেছেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় সরকারি নির্দেশিকার কারণে তাঁকে আর রাখা যাচ্ছে না। 
স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অজয় দাস বলেন, 'সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী এতদিন যে স্থানীয় চিকিৎসক স্কুলের পড়ুয়াদের চিকিৎসা পরিষেবা দিচ্ছিলেন, তাঁর বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁকে বাতিল করা হয়েছে। কিন্তু ৬০ বছরের নীচে অন্য কোনও চিকিৎসক এই সামান্য সাম্মানিকে পরিষেবা দিতে রাজি হচ্ছেন না। স্কুলটি প্রত্যন্ত এলাকায় হওয়ায় সমস্যাটা আরও বেশি।'
তিনি আরো বলেন, 'বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন আবাসিক শিশুদের চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে আমরা চরম সমস্যায় পড়েছি। কখন কোন পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়বে, তখন দ্রুত চিকিৎসকের পরিষেবা কীভাবে পাওয়া যাবে—এই চিন্তাই এখন আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।'
অজয় দাসের দাবি, সরকারি নিয়মের যেমন সাধারণ বিধান রয়েছে, তেমনই বিশেষ পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রমের সুযোগও থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্য, 'সব নিয়মেরই ব্যতিক্রম থাকে। এই ক্ষেত্রটিকেও ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচনা করা উচিত ছিল।'
শুধু চিকিৎসক-সংকটই নয়, স্কুলে আরও একাধিক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি। আবাসিক পড়ুয়াদের দেখভালের জন্য হোস্টেল সুপার, ওয়ার্ডেন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একদিকে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৮০ জন আবাসিক পড়ুয়ার পড়াশোনা ও দৈনন্দিন দেখভাল, অন্যদিকে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ বাড়ছে।

Comments :0

Login to leave a comment