শিশু শ্রমে কি বিধিনিষেধ আছে? বোঝার উপায় নেই খোদ প্রধানমন্ত্রী রাজ্যেই। চলতি মাসের প্রথম ১৪ দিনেই ৮৪ জন শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে এই কথা। যার পর থেকেই উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
গুজরাট রাজ্য জুড়ে জুন মাসব্যাপী অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 'অপারেশন চাইল্ডহুড ফ্রিডম' নামের এই অভিযানটি মূলত শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে।
তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিক ভাবে বিশ্লেষণ করে দেখেছে যে এই শিশুরা দারিদ্র, স্কুলছুট। এর জন্য তারা বাধ্য হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকে আওতায় আসতে। সস্তা শ্রমের চাহিদাকে শিশুশ্রমকেও অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই ঘটনায় ২৬ জন অপরাধীর বিরুদ্ধে ১৬টি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শিশুদের দিয়ে কাজ করাতে দেখা গেছে।
পুলিশের তদন্তেই জানা গিয়েছে যে
বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং অসংগঠিত বিভিন্ন ক্ষেত্রকে এই অভিযানের আওতায় এনে কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে।
গুজরাট পুলিশের ডিজিপি জি এস মালিক জানিয়েছেন যে, এই অভিযানটি কেবল আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। উদ্ধার করা শিশুদের সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফেরানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সূত্রের ভিত্তিতে সুরাট শহরের 'জয় অম্বে টেক্সটাইলস' নামক একটি বস্ত্র কারখানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুই নাবালককে উদ্ধার করে। অভিযোগজোর করে তাদের দিয়ে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, শিশুগুলোকে দৈনিক মাত্র ২০০ টাকা পারিশ্রমিক দেওয়া হতো, যা শ্রম সংক্রান্ত আইনি ও নৈতিক মানদণ্ডের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
পুলিশ আরও বলেছে যে, নাবালকরা একটানা কাজ করতে আপত্তি জানালে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ভাবে তাদের দিয়ে কাজ করানো হতো। তাদের সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করানো হতো এবং মাঝখানে মাত্র ১ ঘণ্টার বিরতি দেওয়া হতো বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উপর চলছে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক শোষণ।
child labour
গুজরাটে ১৪ দিনে ৮৪ শিশু শ্রমিকের খোঁজ
×
Comments :0