মীর আফরোজ জামান: ঢাকা
পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ পাঁচ বাংলাদেশির মৃতদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ফিরেছে।
শনিবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে বেনাপোল-পেট্রাপোল শূন্যরেখায় মরদেহগুলো পৌঁছায়। পরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ, ইমিগ্রেশন, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ভারতীয় অ্যাম্বুলেন্স থেকে বাংলাদেশি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়।
নিহত পাঁচজন হলেন, কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সী ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবু।
১৯ অগস্ট মির্জ়া গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুনের ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। তার মধ্যে সাত জনই বাংলাদেশের নাগরিক। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার হাইকমিশনের সমস্ত নিয়ম মেনে বাংলাদেশে ফেরানো হলো কফিনবন্দি দেহগুলি। পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে পাঁচটি ও ঘোজাডাঙা দিয়ে দু’টি দেহ পাঠানো হয় বাংলাদেশে। মৃতেরা হলেন ৪৮ বছরের এসএম আলিমুজ্জামান এবং ৪১ বছরের রেপতি সরকার। দু’জনেরই বাড়ি বাংলাদেশের সাতক্ষীরার কালীগঞ্জে। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদন ও ছাড়পত্রের পরে অ্যাম্বুল্যান্সে দেহ দু’টি ঘোজাডাঙ্গায় আনা হয়। ভোমরা স্থলবন্দর হয়ে পরিবারের সদস্যেরা দেহ নিয়ে বাংলাদেশে ফিরে যান।
সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তাঁর স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরসহ পাঁচ বাংলাদেশির মৃতদেহ হস্তান্তরের সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে পরিবার পরিজনরা। আইনি ও প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটের দিকে তিনটি অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হয়। এর মধ্যে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে দেবাশীষ দত্তের পরিবারের চারজনের মরদেহ এবং অপরটিতে আহমেদ বাবুর মরদেহ নেওয়া হয়।
এদিন দুপুর ১টা নাগাদ কলকাতার পিচ ওয়ার্ড থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহগুলো বেনাপোলের উদ্দেশে রওনা হয়। নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুক্রবার রাতেই সম্পন্ন করা হয়েছিল বলে জানান দেবাশীষের পরিবারের মরদেহ শনাক্তকারী ও বাংলাদেশ থেকে যাওয়া আত্মীয় ফিরোজ।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান জানান, প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। চলতি মাসের ৩ আগস্ট কুষ্টিয়া শহরের আড়ুয়াপাড়ার ভাড়া বাসা থেকে স্ত্রী আফসানা শারমীন ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কলকাতায় যান দেবাশীষ। কয়েক দিন পর সেখানে যান তাঁর শ্বশুর আকরাম হোসেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু সেই প্রত্যাশা আর পূরণ হলো না-কফিনবন্দী হয়ে দেশে ফিরলেন তাঁরা।
বেনাপোল সীমান্তে নিহত দেবাশীষ দত্তের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দেবাশীষ দত্ত ও তাঁর ছেলে স্বর্ণশীষের সৎকার এবং আফসানা শারমীন ও আকরাম হোসেনের মরদেহ মুসলিম রীতি অনুযায়ী করা হবে। শনিবার রাত ৯টা নাগাদ কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে বাবা-ছেলের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আফসানা শারমীন ও আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে নেওয়া হবে। পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়ার পর তাঁদের কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে শেষকৃত্য করা হবে।
Comments :0