Child Dies

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সাপে কাটা শিশুর মৃত্যু, রণক্ষেত্র পুরুলিয়া

জেলা

চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে সাপে কাটা এক শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পুরুলিয়ার পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্র। কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসককে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি তাঁকে টেনে-হিঁচড়ে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কোয়ার্টারের সামনে নিয়ে যান উত্তেজিত জনতা। পরিস্থিতি এতটাই হাতের বাইরে চলে যায় যে শেষমেশ ঘটনাস্থলে নামাতে হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। উত্তেজিত জনতা এরপরে বিএম ও এইচ’র অপসারণ এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকের শাস্তির দাবিতে মানবাজার লালপুর সড়ক অবরোধ করেন। জেলা সদর থেকে ছুটে যান স্বাস্থ্য দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। জেলা উপমুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ মহুয়া ব্যানার্জি জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকেও অভিযোগ জানানো হয়েছে। সমস্ত বিষয়টি  জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর সুত্রে জানা গেছে পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বি এম ও এইচ ডা: নব কুমার বিশ্বাসকে শোকজ করা হয়েছে। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের হস্তক্ষেপে প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে পুঞ্চা ব্লকের হাতিহাড় গ্রামের একটি সাত বছরের শিশুকে বিছানায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপে কাটে। শ্যামল গোপ জানিয়েছেন , তিনি বিছানায় এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে শুয়ে ছিলেন। হঠাৎ ছেলে উঠে জানায় তাকে চিতি সাপ কামড়েছে। কথা বলতে বলতেই দশ মিনিটের মধ্যে বাড়ি থেকে তাঁর সন্তানকে নিয়ে তিনি পুঞ্চা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পৌঁছে যান। অভিযোগ সেখানে কোনরকম চিকিৎসা  হয়নি। রাত ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত দীর্ঘ দু ঘণ্টা হাসপাতালে ফেলে রেখেও কোনো রকম চিকিৎসা করা হয়নি বলে অভিযোগ। চিকিৎসকের চরম উদাসীনতা ও গাফিলতির কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে সরব হয় মৃতের পরিবার। সাপে কাটার প্রতিষেধক অনেক পরে দেওয়া হলেও রোগীকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
শিশুটির মৃত্যুর খবর চাউর হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। দলে দলে মানুষ হাসপাতাল চত্বরে এসে জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা প্রথমে কর্তব্যরত চিকিৎসককে ঘিরে ধরে তুমুল বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উত্তেজনা চরম সীমায় পৌঁছালে ওই মহিলা চিকিৎসককে কার্যত টানতে টানতে হাসপাতালের চত্বরে থাকা বিএমওএইচ’র কোয়ার্টারের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। উত্তেজিত জনতার প্রশ্ন, এত বড় ঘটনার খবর পেয়েও কেন বিএমওএইচ নিজে এসে শিশুর চিকিৎসার তদারকি করলেন না? বিএমওএইচ ডাঃ নব কুমার বিশ্বাস জানিয়েছেন, রোগী এসেছিল রাত এগারোটা দশ নাগাদ। তিনি জেনেছিলেন রাত পৌনে একটায়। জানার পর সাথে সাথেই তিনি এসেছিলেন। অভিযুক্ত চিকিৎসক জানিয়েছেন  পরিবারে লোকজন এসে বলে তাদের রোগীকে সাপে কামড়েছে।  সাথে সাথেই ওই রোগীকে অবজারভেশনে রাখা হয়। শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ার সাথে সাথে স্যালাইন অক্সিজেন এবং দশ ভায়াল এভিএস দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এলাকার মানুষের দাবি বিএমওএইচ’র বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

Comments :0

Login to leave a comment