Assembly

বিধাসভা বিরোধীদের, তাদের বলার সুযোগ দিতে হবে : অধ্যক্ষকে বললেন মোস্তাফিজুর

রাজ্য

‘বিধানসভা, লোকসভা হচ্ছে বিরোধীদের। সংখ্যার বিচারে বিরোধীদের কন্ঠস্বর যাতে বিধানসভায় কোন ভাবে চাপা না পড়ে সেই দিকে নজর রাখার দায়িত্ব অধ্যক্ষের। আগামী পাঁচ বছর বিধানসভায় বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দিতে হবে।’ বিধানসভায় নতুন অধ্যক্ষ নির্বাচনের পর নিজের বক্তব্যে একথা বললেন সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান।
সর্বসম্মতিক্রমে ধ্বনি ভোটে বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ নির্বাচীত হয়েছেন কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক রথীন্দ্র বসু। অধ্যক্ষ নির্বাচনের পর তাকে অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য রাখেন মোস্তাফিজুর। তিনি বলেন, ‘অধ্যক্ষ মহাশয়কে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আজকের অধিবেশন অধ্যক্ষ নির্বাচন করার। এই বিধানসভার গরিমা রক্ষার করার দায়িত্ব আমাদের সব বিধায়কদের। বহু ব্যাক্তিত্ব, স্বাধীনতা সংগ্রামী এই বিধানসভায় কাজ করেছেন। জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টচার্যরা এই বিধানসভায় বিধায়ক হিসাবে কাজ করেছেন। ডোমকলের প্রাক্তন বিধায়ক আনিসুর রহমানের কথা মনে পড়ছে। তিনি দীর্ঘদিন বিধায়ক হিসাবে কাজ করেছেন।’
সিপিআই(এম) বিধায়ক বলেন, অধ্যক্ষের কাছে আবেদন থাকবে বিরোধীদের সুযোগ দেওয়ার, কথা বলার। গত ১৫ বছরে বিধানসভায় এবং বাইরে বিরোধীদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আক্রমণ নামিয়ে আনা হয়েছে। তৃণমূল বিধায়কদের হাতে সিপিআই(এম) বিধায়ক গৌরাঙ্গ চ্যাটার্জি, দেবলীনা হেমব্রমদের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মোস্তাফিজুর বলেন, এই বিধানসভায় বামপন্থী বিধায়কদের মারধর করা হয়েছে। নষ্ট করা হয়েছে গরিমা। আমাদের বিধানসভার ঐতিহ্য রক্ষা করতে হবে। অধ্যক্ষের ভূমিকা এই ক্ষেত্রে সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। 
তিনি আরও বলেন, মানুষ বিজেপিকে ভোট দিয়েছে জয়ী করেছে। এই বিষয় কোন সন্দেহ নেই। বিধানসভা লোকসভা হচ্ছে বিরোধীদের। তাদের কথা বলার যেই অধিকার তা রক্ষা করতে হবে। সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা বিরোধীদের কাজ। সরকারের দর্পন হচ্ছে এই অধিবেশন কক্ষ। মানুষ একজন বামপন্থী প্রতিনিধিকে নির্বাচীত করেছেন। আমরা মানুষের কথা তুলে ধরবো।
সোমনাথ চ্যাটার্জি, হাসিম আব্দুল হালিমের কথা টেনে বলেন, অতীত ইতিহাস দেখলে জানা যাবে হাসিম আব্দুল হালিম, সোমনাথ চ্যাটার্জিদের মতো বামপন্থী অধ্যক্ষরা কী ভাবে সংবিধানকে মান্যতা দিয়ে অধিবেশন পরিচালনা করেছেন। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সমান সুযেগ দিয়েছেন তারা। এনারা উদাহরণ স্পিকারের ভূমিকা পালন করার ক্ষেত্রে। 
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অধ্যক্ষের কাছে আবেদন করেন বিধানসভার অধিবেশন সরাসরি সম্প্রচার করার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন,  আগামী পাঁচ বছর এই বিধানসভা রাজ্যের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ভাবে কাজ করতে পারবে। বিরোধীরা বক্তব্য পেশের সুযোগ পাবেন।  
এদিন অধ্যক্ষ নির্বাচনের পর অধ্যক্ষের ঘরে গিয়ে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন শুভেন্দু অধিকারী।

Comments :0

Login to leave a comment