ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ঘোষণায় কৃষকদের খরচ সঠিকভাবে হিসোব করা হচ্ছে না। কেন্দ্রের সরকার যে সহায়ক মূল্য ঘোষণা করছে তাতে কেবল ধানেই প্রতি কুইন্টালে ৮০২ টাকা লোকসান হবে কৃষকদের।
২০২৬-২৭’র খরিফ মরশুমের জন্য ঘোষিত ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের ঘোষণা ঘিরে এই প্রতিক্রিয়া দিয়েছে সংযুক্ত কিসান মোর্চা। সারা ভারত কৃষকসভার মতো দেশের শতাধিক কৃষক ও খেতমজুর সংগঠনের এই মঞ্চ প্রতি গ্রামে সহায়ক মূল্যের নতুন নির্দেশিকার প্রতিলিপি পোড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।
সংযুক্ত মোর্চা কৃষক এবং খেতমজুরদের আত্মহত্যার হিসেব দিয়েছে। জাতীয় ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতিদিন গ্রামাঞ্চলে কৃষক বা কৃষিজীবী মানুষের আত্মহত্যার গড় দাঁড়িয়েছে ১৭৩। ২০১৪ সালে, নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রে বিজেপি সরকার গঠনের সময় এই গড় ছিল ৭৭।
সরকার কৃষকদের থেকে যে দামে ফসল কেনে তাকে বলা হয় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য। বহু ক্ষেত্রেই সেই দাম কৃষকরা পান না। ফড়ে এবং দালালদের দাপটে কম দামে বিক্রি করে দিতে হয় কৃষকদের। কিন্তু এই সহায়ক মূল্যের হিসেবেই বারবার মোদী সরকারের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ উঠেছে।
মোদী সরকারের দাবি, স্বামীনাথন সরকারের সুপারিশ অনুযায়ী প্রকৃত খরচের সঙ্গে ৫০ শতাংশ যোগ করে দেওয়া হচ্ছে সহায়ক মূল্য।
সারা ভারত কৃষক সভা এবং সংযুক্ত কিসান মোর্চা এই দাবি খারিজ করছে।
সরকার খরচের হিসেব নেয় কমিশন অব এগ্রিকালচারাল কস্টস অ্যান্ড প্রাইসেস বা সিএসিপি’র থেকে। কৃষক নেতৃবৃন্দ বলছেন, স্বামীনাথন কমিশন খরচের হিসেবের সময় সার, বীজের মতো উপাদান, পারিবারিক শ্রমের পাশাপাশি যে টাকা ধার করতে হয় তার সুদ এবং জমির অন্যকে দিলে যে টাকা মিলত তার হিসেবও যোগ করতে বলেছিল। কিন্তু সিএসিপি যে হিসেব করছে সেখানে চাষের জন্য ঋণের সুদ এবং জমির টাকা হিসেবে ধরছে না।
সংযুক্ত কিসান মোর্চা বলেছে, স্বামীনাথন কমিশনের সূত্র অনুযায়ী খরচের হিসেব করে তার সঙ্গে ৫০ শতাংশ যোগ করলে ধানে প্রতি কুইন্টালে ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দাঁড়াতো ৩২৪৩ টাকা। কিন্তু কেবল কৃষি উপাদান এবং পারিবারিক শ্রম বাবদ টাকা হিসেবে ধরে তার ওপর ৫০ শতাংশ যোগ করা হচ্ছে। ফলে সহায়ক মূল্য ধরা হয়েছে ২৪৪১ টাকা। প্রতি কুইন্টালে ৮০২ টাকা লোকসান হচ্ছে কৃষকদের।
খরচের প্রক্রিয়া নিয়েই একাধিক প্রশ্ন তুলেছে মোর্চা। বলা হয়েছে, গত এক বছরে লাফিয়ে বেড়েছে সার, বীজ, কীটনাশক, জ্বালানির খরচ। কিনতে হচ্ছে কালোবাজারে। হিসেবে তা ধরা হচ্ছে না। সংযুক্ত মোর্চা বলেছে, ১৫ বছরের পুরনো দামস্তরের ভিত্তিতে কৃষকদের খরচের হিসেব হচ্ছে। অথচ কৃষকরা খরচ করছেন আজকের দামে। দুয়ের মধ্যে প্রচুর ফারাক।
সরকারি স্তর থেকে বলা হয়েছে যে ২০২৬-২৭ খরিফ মরশুমে সহায়ক মূল্য বাবদ কোষাগার থেকে খরচ হবে ২.৬ লক্ষ কোটি টাকা। সংযুক্ত মোর্চার হিসেব, ২০১৪ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দশ বছরে সহয়ক মূল্য কমিয়ে ধরায় কৃষকদের লোকসান হয়েছে ২৭ লক্ষ কোটি টাকা। সরকার কর্পোরেটের দেনা প্রতি বছর ২ লক্ষ কোটি টাকা হারে ছাড় দেয়। আর কৃষকের ওপর বোঝা চাপায়।
সংযুক্ত মোর্চা বলেছে, কোনও রাজ্য কৃষকদের জন্য সহায়ক মূল্যের ওপর বোনাস চালু করলেও আপত্তি জানাচ্ছে সিএসিপি। কৃষির খরচ নির্ধারণের এই কমিশন এবং কেন্দ্রের সরকার আসলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা আমেরিকার কথায় চলছে। ওরা কৃষকদের সহায়তাকে ‘বাজারের বিকৃতি’ মনে করে। দেশের সরকার বা কমিশনই একই রকম মনে করছে।
MSP Loss Farmers
দশ বছরে কৃষকদের ২৭ লক্ষ কোটি টাকা ঠকিয়েছে কেন্দ্র, ক্ষোভ সংযুক্ত মোর্চার
×
Comments :0