কয়েক হাজার শ্রমিক, কর্মচারির কাজের ঠিকানা কলকাতার ক্যামাকস্ট্রীট। কয়েক শত ছোট, মাঝারি শিল্প, সংস্থা, বিভিন্ন দেশী-বিদেশী কোম্পানির ব্যাক-অফিস, আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র। রুটিরুজির স্বার্থে প্রতিদিন কয়েক হাজার শ্রমিক-কর্মচারির আনাগোনা এখানে। এহেন কর্মচঞ্চল অঞ্চলে ১২ ফেব্রুয়ারি ধর্মঘটের সমর্থনে সমাবেশ করলো সিআইটিইউ ভবানীপুর অঞ্চল সমন্বয় কমিটি। বিভিন্ন ইউনিয়নভুক্ত শ্রমিকদের পাশাপাশি কোনও ইউনিয়নেরই পৌঁছের বাইরে থাকা সহস্রাধিক শ্রমিকের কাছে পৌঁছে দেওয়া হল ধর্মঘটের বার্তা।
প্রসঙ্গত দেশে চালু ২৯টি শ্রমআইন বাতিল করে ২০১৯ ও ২০২০ সালেই ৪টি শ্রমকোড পাশ করিয়েছিলো কেন্দ্রের সরকার। যদিও শ্রমিক আন্দোলনের চাপে এতদিন তা লাগু করতে পারেনি। গত ২১শে নভেম্বর সরকার এই কোডগুলি লাগু করার ঘোষণা করলে আন্দোলনের মেজাজ বাড়ে। ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেজারেশনের যৌথ মঞ্চ সর্ববারতীয় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দেয়। চাপে পড়ে পুনরায় পিছপা হয় সরকার এবং শ্রমকোড লাগু করতে ১লা এপ্রিল অবধি সময় নেয়। এদিন সমাবেশে এই প্রেক্ষাপটের কথা তুলে ধরে বক্তারা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ প্রত্যাঘাত হানার আহ্বান জানান।
কৃষক বিরোধী ৪টে কৃষিআইনের বিরুদ্ধে জঙ্গী কৃষক আন্দোলনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সিআইটিইউ রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল আলম বলেন, এর থেকেও মোদি-সরকারের শিক্ষা হয়নি। এবার দেশের বিপুল শ্রমিক, কর্মচারিদের বিরুদ্ধে আইন এনে সরকার কার্যত ভীমরুলের চাকে হাত দিয়ে ফেলেছে।
১২ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন, ফেডারেশনগুলির যৌথ আহ্বানে এবং সংযুক্ত কৃষক মোর্চার সমর্থনে সারাভারত সাধারণ ধর্মঘট হবে। সেদিন রাজ্যে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের যাতে সমস্যা না হয় সেকারণে গণপরিবহন ব্যবস্থাকে খোলা রেখে ১২ ঘন্টার শিল্প ও পরিষেবা ধর্মঘট পালিত হবে। এই ধর্মঘটে সকল শ্রমিক কর্মচারিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামিল হওয়ার আবেদন জানান বক্তারা। বক্তব্য রাখেন সিআইটিইউ কলকাতা জেলার সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ রায়, জেলা সম্পাদক সৌম্যজিৎ রজক। সভাপতিত্ব করেন জেলা ওয়ার্কিং কমিটি সদস্য সিরাজ খান।
Comments :0