শ্রমিকের অধিকার কেড়ে নিতে মোদী সরকার চালু করেছে শ্রম কোড। তার বিরুদ্ধে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশ জুড়ে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমূহ।
জীবন-জীবিকা ও শ্রমিকদের অধিকারের ওপর মোদী সরকার যে আক্রমণ নামিয়ে এনেছে, তার বিরুদ্ধে আরও সর্বাত্মকভাবে সফল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলিপুরদুয়ারের হ্যামিল্টনগঞ্জে আয়োজিত আলিপুরদুয়ার–কোচবিহার চা বাগান মজদুর ইউনিয়নের কাউন্সিল সভা। শুক্রবার অনুষ্ঠিত সভায় শ্রমিক-কৃষক বিরোধী কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন চা শ্রমিকরা। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য বাজেটে চা বাগান শিল্প ও চা শ্রমিকদের সমস্যা সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষিত। বন্ধ ও খোলা বাগানে ফাউলাই পরিমাণ বৃদ্ধি না করা, ন্যূনতম মজুরি প্রসঙ্গে নীরবতা, শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড ও গ্রাচ্যুইটি লুটেরা মালিকদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করা সব মিলিয়ে বাজেট শ্রমিকস্বার্থ বিরোধী বলেই মত প্রকাশ করেন।
জমির অধিকার, অবৈধ মালিকদের দৌরাত্ম্য, বেকার সমস্যা ও পরিযায়ী শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য বাজেটে কোনও স্পষ্ট দিশা না থাকায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে হ্যামিল্টনগঞ্জ বাজার এলাকায় মিছিল হয়। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দুটি বাজেট পুড়িয়ে বিক্ষোভ দেখান শ্রমিকরা। কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকারের শ্রমনীতি ও অর্থনৈতিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন শ্রমিক নেতৃত্ব।
বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ গুন, বিকাশ মাহালী, কৃষ্ণ ব্যানার্জি ও শঙ্কর দাস। বক্তারা বলেন, ২৯টি শ্রম আইন বাতিল করে যে ৪টি শ্রম কোড কার্যকর করা হয়েছে, তা শ্রমিকদের অধিকারকে মারাত্মকভাবে খর্ব করবে। এই শ্রম কোডের মাধ্যমে মালিকদের ইচ্ছামতো শ্রমিক ছাঁটাই, লে-অফ, ক্লোজার ও লকআউট সহজ হবে। এর ফলে দেশের যুবসমাজের মধ্যে বেকারত্বের সমস্যা আরও ভয়াবহ আকার নেবে। ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ১২ ঘণ্টা কর্মদিবসের সুপারিশ শ্রমিকদের ওপর অতিরিক্ত শোষণের পথ খুলে দেবে। স্থায়ী কাজের ধারণা বিলুপ্ত হয়ে ‘হায়ার অ্যান্ড ফায়ার’ নীতিতে চুক্তিভিত্তিক কাজই ভবিষ্যৎ হয়ে দাঁড়াবে। আশা, অঙ্গনওয়াড়ি, পৌর ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ বিভিন্ন প্রকল্পের শ্রমিকদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতেও সরকার অস্বীকার করছে বলে অভিযোগ ওঠে। রেল, ব্যাঙ্ক, বিমা, বিদ্যুৎ, প্রতিরক্ষা, কয়লা, তেল, গ্যাস, স্টিল, টেলিকম, বিমান ও বন্দর ক্ষেত্রে দ্রুত বেসরকারিকরণের বিরুদ্ধে সরব হন বক্তারা। তাঁদের বক্তব্য, এই সর্বনাশা নীতি রুখতে না পারলে কাজের সুযোগ আরও কমবে এবং শ্রমিক শোষণ বহুগুণে বাড়বে। তাই ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটকে সফল করতে শ্রমিক-কর্মচারীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়।
Strike
ধর্মঘটের সমর্থনে চা শ্রমিকদের মিছিল, কাউন্সিল সভা আলিপুরদুয়ারে
×
Comments :0