Assembly 2026 shiliguri

বেহাল রাস্তাঘাট থেকে পানীয় জল, সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বামেদেরই বিকল্প মনে করছেন শিলিগুড়ির মানুষ

রাজ্য জেলা বাংলা বাঁচানোর ভোট

প্রচারে বেরিয়ে শিলিগুড়ি কলেজ মাঠে প্রাত:ভ্রমণকারীদের কথা বলছেন শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের সিপিআইএম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তী। ছবি- রাজু ভট্টাচার্য।

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই জায়গায় জায়গায় জটলা। সময় যত এগিয়েছে মানুষের সমাগমও বেড়েছে ততই। বাম সমর্থিত সিপিআই(এম) প্রার্থীকে এতোটা কাছে পেয়ে আপ্লুত রাজীব নগর কলোনি এলাকার বাসিন্দারাও। এই অঞ্চলের মানুষের কথায়, শিলিগুড়ি শহরের উন্নয়নের করতে হলে এই প্রার্থীই যোগ্য। মানুষের বিপদে আপদে শ্রমিক আন্দোলন বা গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সামনের সারিতে সবসময় থেকেছেন ও সবসময় আছেন উনি। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবেও সফল। তাই এবারের ভোটবাক্সে এখানকার মানুষের রায় প্রতিফলিত হবে শরদিন্দু চক্রবর্তী (জয়)'র পক্ষেই। 
শিলিগুড়ি সংলগ্ন দার্জিলিঙ মোড় থেকে সুকনা দার্জিলিঙ যাবার রাস্তায় শিলিগুড়ি পৌর কর্পোরেশনের ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত রাজীব নগর। অর্ধেক রেল ও অর্ধেক চা বাগানের জমির উপর দীর্ঘ বছরের রাজীব নগরের বসতি গড়ে উঠেছে। সাত শতাধিক পরিবারের বসবাস। ভোটারের সংখ্যা সহস্রাধিক। এবছর এসআইআর'র কারনে রাজীব নগরের ১৬০ জন প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। ওই এলাকাতেই বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতি অপশাসন ও বিজেপি'র বিভাজনের রাজনীতির বিরুদ্ধে সিপিআই(এম) প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়ী করে রাজ্যে বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠার আবেদন জানাতে প্রার্থীকে নিয়ে হাজির প্রবীন সিপিআই(এম) নেতা অশোক ভট্টাচার্য। সকলেই প্রায় রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েই রয়েছেন পরিচিত খুব কাছের মানুষদের আসার অপেক্ষায়। বিশেষ করে ছাত্র যুবরা বিপুল সংখ্যায় এগিয়ে এসেছেন। 
রাজকুমার রায়, গোবিন্দ দাস'রা জানালেন যে রাজীবনগর বস্তি কলোনির মানুষও উপলব্ধি করেছেন বাম আর তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মধ্যে পার্থক্য কোথায়। আর বিজেপি তো পাঁচ বছরে কোন কাজই করেনি। তাই বিকল্পের কথা ভাবতেই হচ্ছে। পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে এখন বিরাট ক্ষোভ। বামফ্রন্টের সময় পানীয় জল সমস্যার সমাধান করে এলাকার প্রতিটি বাড়িতে পানীয় জলের পাইপ পৌঁছে দেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু এখন তাও মিলছে না। জল সরবরাহ একেবারেই অনিয়মিত। বেশীর ভাগ স্ট্যান্ডপোষ্ট থেকে পানীয় জল মেলে না। ফলে নিকটবর্তী স্থান ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয় জল সংগ্রহের জন্য। তৃণমূলীরা ক্ষমতায় আসলে এই অঞ্চলে পরিশ্রুত পানীয় জলের সমস্যা আর থাকবে না,এমনটাই প্রতিশ্রুতি ছিলো। বামফ্রন্টের সময় রাজীবনগরে পাট্টা দেবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো। কিন্তু ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালা বদলের পর রাজীবনগরের মানুষদের জমির নিশ্চয়তা হিসেবে পাট্টা দেওয়া হবে। এই মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে মানুষদের ভুল বুঝিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি'র লোকজন কখনও ১০ টাকা, আবার কখনও ২০ টাকা নিয়ে একাধিকবার ফর্ম ফিলআপ ও করিয়েছে। কিন্তু কোথায় পাট্টা, কোথায় কি। কিছুই মেলেনি। সবটাই যে মিথ্যে সেটা হারে হারে টের পাচ্ছেন সকলেই। 
বিগত বামফ্রন্ট পরিচালিত বোর্ডের আমলে শিলিগুড়ি ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটলেও, সেই উন্নয়নের গতি আজ স্তব্ধ। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কোন মাথাব্যাথা বর্তমান কাউন্সিলারের। এলাকার অনেক সমস্যার কথাই তার অজানা। বিগত নির্বাচনে এলাকার মানুষের একটা বড় অভিজ্ঞতা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে রাজীবনগরের মানুষ এবারের বিধানসভা নির্বাচনে উপযুক্ত জবাব দিতে প্রস্তুত। পানীয় জল, পাট্টা, রাস্তাঘাট, নিকাশী ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজীবনগর সহ শহর শিলিগুড়ির সার্বিক উন্নয়নের প্রশ্নে সিপিআই(এম)—র প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তীকে জয়ী করে বিধানসভায় পাঠাতেই হবে। এক কথায় সিপিআই(এম) প্রার্থীর জয় সুনিশ্চিত করেছেন রাজীবনগরের মানুষজন।

Comments :0

Login to leave a comment