বর্ষার মরশুম মানেই এতদিন ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে ছিল একপ্রকার নীরবতা। প্রতি বছর ১৬ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর—এই তিন মাস গরুমারা জাতীয় উদ্যান পুরোপুরি বন্ধ থাকার ফলে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসা প্রায় স্তব্ধ হয়ে পড়ে। তবে এবার বন দপ্তর সেই চিরাচরিত নিয়মে বড়সড় বদল আনতে চলেছে। পর্যটন মহলের দীর্ঘদিনের দাবিকে মান্যতা দিয়ে চলতি বছর বর্ষাতেও গরুমারার একাংশ পর্যটকদের জন্য খোলা রাখার সাহসী ও ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন দপ্তরের এই নতুন নীতি অনুযায়ী, জঙ্গলের কোর এলাকায় মানুষের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও, জঙ্গলের অদূরে অবস্থিত মেদলা নজরমিনার এবার বর্ষাতেও খোলা থাকবে। সেই সঙ্গে কালিপুর, ধূপঝোরা সহ একাধিক ইকো কটেজ গুলিতে পর্যটকরা থাকার সুযোগ পাবেন। পর্যটকদের বাড়তি সুবিধা দিতে এবং এই প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে বন দপ্তর খুব শীঘ্রই সংশ্লিষ্ট স্থানগুলিতে ই-টিকিট ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনাও নিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিন বছর বর্ষাকালে মেদলা নজরমিনার বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছিলেন। তাঁদের একটাই দাবি ছিল, জঙ্গল ও পরিবেশ রক্ষা করে কীভাবে বর্ষাকালেও পর্যটনকে সচল রাখা যায়। সেই দাবির প্রেক্ষিতে বন দপ্তরের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তির খবর। স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী দিব্যেন্দু দেব বলেন, "এই পদক্ষেপের ফলে বর্ষাতেও ডুয়ার্সের পর্যটন অর্থনীতি সচল থাকবে এবং পর্যটকদের আনাগোনা বজায় থাকবে।'
তবে এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে পরিবেশপ্রেমীদের একাংশের মধ্যে মৃদু বিতর্কও দানা বেঁধেছে। তাঁদের প্রশ্ন, বর্ষার সময় বন্যপ্রাণীদের প্রজনন ও বিচরণকালে জঙ্গলের কোর এলাকার পাশাপাশি বাইরের পর্যটন কেন্দ্রগুলিও খোলা রাখলে পরিবেশের ভারসাম্য কতটা বজায় থাকবে? যদিও বন দপ্তর আশ্বস্ত করেছে যে, সমস্ত সুরক্ষাবিধি মেনেই পর্যটন পরিচালনা করা হবে।
একদিকে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আর অন্যদিকে বন্যপ্রাণ ও পরিবেশের সুরক্ষা—এই দুইয়ের ভারসাম্য বজায় রেখে বর্ষার ডুয়ার্সকে নতুনভাবে তুলে ধরার এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে এই পরিবর্তনের ফলে বর্ষার দিনেও যে প্রকৃতিপ্রেমীরা ডুয়ার্সের মায়াবী রূপ উপভোগের সুযোগ পাবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বন দপ্তরের এই ‘পাইলট প্রজেক্ট’ সফল হলে আগামী দিনে ডুয়ার্সের পর্যটন মানচিত্রে তা এক নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
Gorumara
বর্ষার মরশুমে খোলা থাকছে গরুমারার একাংশ
×
Comments :0