নন্দিনী মুখার্জি
৮০ তম স্বাধীনতা দিবস। ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ আর বন্দেমাতরম জাতীয় সঙ্গীত– এইভাবেই আমাদের আশিতম স্বাধীনতা দিবসের উদ্যাপন। দেশপ্রেমিক আর দেশদ্রোহী নিয়ে আলোচনা, ঝাড়াই বাছাই করে ভিনদেশি চিহ্নিত করা আর পুশব্যাক, আত্মনির্ভর ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া— স্বাধীনতা দিবসে এটাই তো আলোচ্য কর্মসূচি। তবে এবারে একটু অন্য কথাও আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে কিছুটা স্থান পেয়েছে যুবদের উদ্দেশ্য করে কয়েকটি প্রকল্প। তার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে সবচেয়ে আলোচিত প্রকল্প হলো আগামী বছরে এক কোটি যুবকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তাছাড়া ডিজিট্যাল মাধ্যমে কম্পিটিটিভ পরীক্ষায় বসার জন্য কোচিং-এর বন্দোবস্ত যুবদের জন্য। মাত্র মাস খানেক আগেই যে ধাক্কা যুব সমাজের কাছ থেকে নরেন্দ্র মোদীর সরকার খেয়েছে তাতে যুবদের আপ্রাণ খুশি করার চেষ্টা যে প্রধানমন্ত্রী যে করবেন তা ধরেই নেওয়া যায় যায়। তবে ভাবা দরকার ...
বাড়ছে স্কুলছুট, কলেজছুটের সংখ্যা
তবে দু’দিন আগেই লোকসভার একটি কমিটির প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী আমাদের দেশে উচ্চ মাধ্যমিকে পৌঁছানোর আগেই ৭৩% ছেলে মেয়েরা স্কুলছুট হয়ে যাচ্ছে। ১০.৯ লাখ সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের মধ্যে মাত্র ৯০,৮৬৬ টি স্কুল উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছে। সরকারি স্কুলগুলিতে পরিকাঠামো প্রায় ভেঙে পড়ার অবস্থায়। প্রাথমিক স্কুলগুলি মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হতে না পারার জন্য বহু ছেলে-মেয়ের বাড়ির কাছাকাছি কোনও উচ্চমাধ্যমিক স্কুল থাকছে না। সরকারি স্কুলে যেতে না পারার জন্য বা বেসরকারি স্কুলে পড়ার ক্ষমতা না থাকার জন্য এদের সকলের কাছেই স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন অধরা থেকে যাচ্ছে।
যদি বা কেউ উচ্চমাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে পড়তে পারল– সেখানেও স্নাতক স্তরের শেষ পর্যন্ত পৌঁছানো যাচ্ছে? না, যাচ্ছে না। জুলাই ২০২৬-এ প্রকাশিত একটি রিপোর্ট (Beyond Enrolment: India's Higher Education Completion Gap, KalyaniIyer) থেকে জানা যাচ্ছে যে উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করার পরেও ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ছাত্র-ছাত্রী পড়াশোনা শেষ করছে না। স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করার আগেই তারা পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে বা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ছেড়ে দেওয়ার কারণের মধ্যে আছে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো পরিবারের সঙ্গতি না থাকা, পরিবারের প্রয়োজনে কর্মজীবনে প্রবেশ করা, মেয়েদের ক্ষেত্রে তাড়াতাড়ি বিয়ে হয়ে যাওয়া ইত্যাদি। পরিবার অনেকসময়েই মনে করছে যে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই, কারণ স্নাতক হওয়ার পরে যে কর্মসংস্থানের বিশেষ সুযোগ ঘটবে তা নয়, তাই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে ছেলেদের কোনও চুক্তিভিত্তিক কাজে যোগ দেওয়া বা গিগ কর্মী হয়ে যাওয়া এবং মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া বেশি বাঞ্ছনীয়।
২০২০ সালের নয়া জাতীয় শিক্ষানীতিতে উচ্চ শিক্ষার উপর জোর দেওয়ার কারণ হলো জাতীয় শিক্ষানীতির প্রণেতারা মনে করেছেন বিশ্বায়নের যুগে প্রতিযোগিতায় সক্ষম একটি বলিষ্ঠ ও দক্ষ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার চাবিকাঠি হলো উচ্চশিক্ষা। উচ্চশিক্ষায় তাই ”জ্ঞানের” থেকে “দক্ষতার” উপরে বেশি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। চার বছরের স্নাতক শিক্ষাক্রমে তাই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্টার্নশিপ, মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা বহু-বিভাগীয় পড়াশোনার উপর। উচ্চশিক্ষায় অগ্রগতির জন্য গ্রস এনরোলমেন্ট রেশিও বা মোট ভর্তির হারের লক্ষ্যমাত্রা ২০৩৫ সালের মধ্যে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার কথা শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে। যদিও দেখা যাচ্ছে জাতীয় শিক্ষানীতি চালু হওয়ার পরে চার বছর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হচ্ছে না, যদি না শিক্ষা সমাপ্ত হওয়ার পরে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়।
সাধারণভাবে দেখা যাচ্ছে ছাত্রদের বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞানের কোনও বিষয় নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করার ইচ্ছা কমছে। পেশা ভিত্তিক বিষয়গুলি– যেমন ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি ইত্যাদি পড়ার ঝোঁক ছাত্রদের মধ্যে বাড়ছে। ২০২৫ সালে পশ্চিমবঙ্গের কলেজগুলি, যেখানে বিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান পড়ানো হয়, সেইসব কলেজে ৯,৩৬,২১৫ টি আসনের মধ্যে ভর্তি হয়েছিল মাত্র ২,৬৯,৭৭ টি আসন। ৭০ শতাংশ আসন খালি পড়ে ছিল গত বছরে। এই বছরেও অবস্থা প্রায় একরকম।
অন্যদিকে ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি বা ম্যানেজমেন্টের মতো পেশাভিত্তিক বিষয়গুলিতে পড়ার ঝোঁক বাড়লেও, টিউশন ফি সাধারণের নাগালের বাইরে। দেশের নামী প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে টিউশন ফি বছরে ৫ লাখ টাকার উপরে। সাধারণভাবে যে কোনও প্রাইভেট কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য বছরে ন্যূনতম খরচ ১ লাখ টাকার উপরে। আইআইটিগুলি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য দেশের সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হলেও আইআইটি-র টিউশন ফি প্রতি বছর প্রায় ২ লাখ টাকা। প্রাইভেট কলেজে ডাক্তারি পড়ার জন্য টিউশন ফি বছরে ৪.৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত প্রয়োজন হচ্ছে। অর্থাৎ মেধার দিক থেকে একেবারে ওপরের সারিতে না থাকতে পারলে এমনকি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরও নাগালের বাইরে ডাক্তারি পড়া। শুধু তাই নয়। এই প্রতিযোগিতার দুনিয়ায় ইঞ্জিনিয়ারিং, ডাক্তারি এবং অন্যান্য সমস্ত ভর্তির পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র তৈরি হচ্ছে এমসিকিউ (MCQ)-ভিত্তিক। ফলে শুধুমাত্র স্কুলের পড়াশোনা বা মেধা যথেষ্ট নয়, বিভিন্ন কোচিং সেন্টারগুলি ঝাঁপ খুলে বসে আছে ছাত্রদের ভর্তির পরীক্ষাতে ভালো র্যাাঙ্ক করানোর গালভরা প্রতিশ্রুতি নিয়ে। এই কোচিং সেন্টারের খরচ চালানোর দায়ভারও বর্তায় পরিবারের উপর। তাছাড়া ডাক্তারি পড়ার জন্য যে ভর্তির পরীক্ষা– ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা— যার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ফলে পরীক্ষা বাতিল হয় এবং আমরা এক অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন প্রত্যক্ষ করি। সেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গেও জড়িত আছে এই সমস্ত কোচিং ক্লাসের আয়োজকরা। তাই স্বভাবতই প্রশ্ন ওঠে এই সমস্ত ভর্তির পরীক্ষায় বর্তমান সময়ে কতটা যোগ্যতা বিবেচিত হচ্ছে আর কতটা অর্থ। তার ফলশ্রুতিতে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেও উচ্চ শিক্ষার প্রাঙ্গণে পা রাখছে না বা রাখতে পারছে না অনেক ছাত্র-ছাত্রী।
সরকারের বাজেট বরাদ্দ
২০২৫-২৬ আর্থিক বছরে কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষাখাতে ব্যয় বরাদ্দ ছিল ১,২৮,৬৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে স্কুল শিক্ষার জন্য বরাদ্দ ৭৮,৫৭২ কোটি টাকা এবং উচ্চ শিক্ষার জন্য ৫০,০৭৮ কোটি টাকা। এই বরাদ্দের মধ্যে দেশের ২৭ টি আইআইটি-র জন্য বরাদ্দ হয়েছে ১২,১২৩ কোটি টাকা এবং ৫৬ টি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৭,৪৪০ কোটি টাকা। বাজেটের একটা বড় অংশ বরাদ্দ করা হয়েছে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের গবেষণার উৎকর্ষ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য। তাছাড়া বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরি করার জন্য এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি বা বহু-বিভাগীয় পড়াশোনা এবং প্রযুক্তিবিদ্যার গবেষণার জন্যও বড় অঙ্কের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
বিশ্বে ভারতবর্ষের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে উচ্চ আসনে বসানোর জন্য নিঃসন্দেহে উৎকর্ষ কেন্দ্র বা বিশ্বমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন আছে। কিন্তু যখন একটা বিরাট অংশের ছাত্র-ছাত্রী বাদ পড়ছে উচ্চশিক্ষার অঙ্গন থেকে— তখন কয়েকটি উৎকর্ষ কেন্দ্র এই বঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনে কোনও পরিবর্তন ঘটাতে পারে না। শিক্ষার মৌলিক প্রয়োজনগুলিকে বাদ রেখে দেশের ২৭% যুব, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯-এর মধ্যে, তাদের ভবিষ্যতের পেশার বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে কোনও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ এবং প্রকল্পগুলিতে যতটা চোখ ধাঁধানো প্রতিশ্রুতি আছে, তার তুলনায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করে তোলার রসদ আছে খুব কম।
এই যখন অবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী স্বাধীনতা দিবসে ঘোষণা করেছেন এক কোটি যুবক-যুবতীকে আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সে প্রশিক্ষিত করে তোলা হবে। কোন স্তরের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে বা প্রশিক্ষণের পরে কি ধরনের কর্মসংস্থানের আশা থাকবে— এই সমস্ত বিষয়ে পরিষ্কার করে কিছুই জানা যায়নি। কিন্তু একটা বিষয় অবশ্যই বলা যায় যে বিশ্বের অন্যান্য দেশে যে ভাবে নয়া প্রযুক্তির অগ্রগতি ঘটে চলেছে সেই অগ্রগতির শরিক যদি আমাদের যুবসমাজকে করে তুলতে হয়, তাহলে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষার উপর গুরুত্ব না দিয়ে শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ দিয়ে কোনোরকম অগ্রগতি সম্ভব নয়। বিশেষ করে বুনিয়াদি বিষয়, যেমন অঙ্ক, বিজ্ঞান, ভাষা, সমাজ বিজ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞান অধিগত করা অত্যন্ত প্রয়োজন। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে অনেকগুলি প্রকল্পের ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রকল্পগুলির লক্ষ্য খুব একটা স্পষ্ট নয়, এবং আগামী দিনে কি ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে সে বিষয়ে কোনও নির্দিষ্ট বক্তব্য নেই। তাই হঠাৎ করে কেন প্রধানমন্ত্রী এইরকম ঘোষণা করলেন সেটাই প্রশ্নের।
২০২০ সালের স্বাধীনতা দিবসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন পরবর্তী ১০০০ দিনের মধ্যে ভারতবর্ষের প্রতিটি গ্রামে দ্রুতগতি-সম্পন্ন ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। ২০২৪ সালে যোগাযোগ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হচ্ছে যে ৯৫.১৫% গ্রামে ৩জি বা ৪জি মোবাইল যোগাযোগের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের স্পিডের বিচারে ভারতবর্ষ ১০১তম স্থানে রয়েছে এবং মোবাইল ইন্টারনেটের স্পিডের বিচারে ভারতবর্ষ ৩৭তম স্থানে রয়েছে। তার মানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি পালন— দ্রুতগতির ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ পৌঁছে দেওয়া এখনও অনেক দূরে। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি অনলাইন শিক্ষার উপর যখন বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বাধ্য করছে অনলাইন শিক্ষার প্রসার ঘটানোর জন্য— তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও একটি বড় অংশের সহনাগরিক এই সুযোগও নিতে পারছে না। এই বছরের স্বাধীনতা দিবসের দ্বিতীয় প্রতিশ্রুতি, অনলাইনে কম্পিটিটিভ পরীক্ষার জন্য প্রশিক্ষণের সুযোগও বহু সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রীর কাছে পৌঁছাবে না একই কারণে।
আমরা জুলাই মাসে যে অভূতপূর্ব ছাত্র আন্দোলন দেখলাম তার আপাতত সমাপ্তি ঘটেছে ২৫শে জুলাই— শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্যে দিয়ে। কিন্তু যুদ্ধটা শেষ হয়নি। সামগ্রিকভাবে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত সমস্ত মানুষের – শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক— প্রত্যেকের সামনে দীর্ঘ লড়াই। ভারতবর্ষে এক বিরাট অংশের ছেলে মেয়েকে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পরিকল্পনা চলছে। আমাদের এই চাকাটাকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। সমস্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পরিকাঠামো যাতে বিশ্বমানের হয় সেই দিকে কেন্দ্রীয় সরকারকে নজর দিতে হবে। স্নাতক স্তর পর্যন্ত সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে অবৈতনিক করতে হবে। বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি যাতে নিয়ন্ত্রিত হয় তার ব্যবস্থা করতে হবে। একজনও ছাত্র বা ছাত্রী যাতে সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সে দিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। কোনও দেশ তার অধিকাংশ মানুষকে পেছনে ফেলে রেখে কখনো এগতে পারেনি, কখনোই পারবে না।
শিক্ষার মৌলিক প্রয়োজনগুলিকে বাদ রেখে দেশের ২৭% যুব, যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯-এর মধ্যে, তাদের ভবিষ্যতের পেশার বিষয়কে গুরুত্ব না দিয়ে কোনও শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি হতে পারে না। কেন্দ্রীয় সরকারের বাজেট বরাদ্দ এবং প্রকল্পগুলিতে যতটা চোখ ধাঁধানো প্রতিশ্রুতি আছে, তার তুলনায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করে তোলার রসদ আছে খুব কম।
Comments :0