‘গ্রিন এনার্জি’ প্রকল্পে আমেরিকার শেয়ার বাজার থেকেও টাকা তুলে আদানি গোষ্ঠী। সেই প্রকল্পেই দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় মামলা দায়ের হয়েছে আমেরিকার আদালতে। কিন্তু আমেরিকার সংশ্লিষ্ট তদন্ত কমিশনের সমন গৌতম আদানিকে দিতে অস্বীকার করছে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক।
অভিযোগের জেরে ফের দানা বেঁধেছে তুমুল বিতর্ক। শনিবার তার জেরে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে বক্তব্য জানাতে হয়েছে আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম সংস্থা আদানি এন্টারপ্রাইজকে।
এদিকে শুক্রবার থেকেই আদানির বিভিন্ন সংস্থার শেয়ারের দর নামতে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যমে একাংশ জানাচ্ছে আদানিতে বিনিয়োগ করেছে এন বিভিন্ন সংস্থা বা ব্যক্তির ১২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদীর বিশেষ ঘনিষ্ঠ গৌতম আদানির গোষ্ঠীর বিভিন্ন সংস্থায় মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে এলআইসি’র মতো ভারতের একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা ও ব্যাঙ্কের।
এদিকে কেন্দ্রের আইন ও বিচার মন্ত্রক গৌতম আদানি ও ভাইপো সাগর আদানিকে সরাসরি সমন পাঠানোর আবেদন খারিজ করেছে। আইন মন্ত্রকের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছে সিপিআই(এম)। শনিবার সিপিআই(এম) বলেছে, ‘সরকার বা প্রশাসন চলছে না। চলছে ধান্দার ধনতন্ত্র’। সিপিআই(এম) বলেছে, কর্পোরেট এবং কেন্দ্রে আসীন শাসকদের গভীর যোগাযোগ ফের ধরা পড়ে গিয়েছে। প্রতিবাদী বা বিরোধীদের ক্ষেত্রে আইনকে অস্ত্র করে দমন নামানো হয়। আর ওপরতলায় যোগাযোগ রয়েছে যাঁদের, যাদের বিপুল সম্পত্তি রয়েছে, তাদের বেলায় আইনি দায় লঘু করা হয়।
আদানিকে ঘিরে এর আগে তোলপাড় হয়েছিল হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট সামনে আসায়। বলা হয়েছিল আদানির শেয়ারের দাম ৮০ শতাংশ ফাঁপানো। বিদেশ থেকে ঘুরপথে টাকা এনে শেয়ারে ঢেলে কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হয়। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পর আদাবির বিভিন্ন সংস্থায় শেয়ারের দাম প্রায় ৮০ শতাংশ নেমেও গিয়েছিল।
নতুন বিতর্ক শুরু হয় আমেরিকার শেয়ার বাজারে জালিয়াতির অভিযোগকে ঘিরে। ‘আদানি গ্রিন’ ভারতেরই বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের বরাতের আবেদন করে। সেই প্রকল্পের জন্য আমেরিকার শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার মূলধন তোলাও হয়। মার্কিন বিনিয়োগকারীদের একাংশ অভিযোগ করেন যে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের মোটা টাকা ঘুষ দিয়েছেন গৌতম আদানি ও সাগর আদানি। তার বিনিময়ে বরাত হাসিল করছেন। কিন্তু এই ব্যবসায়িক প্রকল্পের ভবিষ্যৎ মোটেই সুবিধার নয়। তাঁরা টাকা হারাতে পারেন।
এরপর নিউ ইয়র্কের ফেডারাল কোর্টে প্রশাসনের তরফ থেকে দায়ের হয় মামলা। আদানিকে অভিযুক্ত করা হয়। এই মামলার তদন্তে আমেরিকার শেয়ার বাজার নজরদারি প্রতিষ্ঠান ‘ইউএস সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন’ সরাসরি ই-মেল করে সমন পাঠানোর অনুমতি চায়। এর আগে গত বছর দু’বার সেই অনুরোধ খারিজ করেছে আইন মন্ত্রক। ‘সূত্রের’ নাম করে সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে কালিতে কারও নামের সই নেই। সরকারি সিল নেই। তবে নির্দিষ্ট বক্তব্য প্রকাশ্যে জানিয়ে উঠতে পারেনি নরেন্দ্র মোদী সরকার।
ADANI Law Ministry
ঘুষকাণ্ড আদানির, আমেরিকার সমন ফের আটকালো মোদীর আইন মন্ত্রক
×
Comments :0