হরিয়ানার নুহ। গত বেশ কয়েক বছরের এই অঞ্চলটি নিয়ে বহু খবর হয়েছে। মুখ্যত গোরক্ষার নামে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা নিয়েই চলেছে আলোচনা।
রাজস্থানের আলোয়ার লাগোয়া এই অঞ্চলটিরই গৌরবের ইতিহাস রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের বিপক্ষে রুখে দাঁড়িয়েছিল নুহ।
১৮৫৭-র বিদ্রোহের প্রচলিত ইতিহাসে তুলনামূলকভাবে আড়ালে থেকে যায় নুহ। ইতিহাসের গভীর মেওয়াত অঞ্চলের বিদ্রোহ ঘাঁটলে মেলে খোঁজ।
ঐতিহাসিক মেওয়াত, এখন যা পরিচিত নুহ জেলা নামে, তার সীমানার বাইরে হরিয়ানা ও রাজস্থানের বিস্তীর্ণ অংশে ছড়িয়ে ছিল। দিল্লি, আলওয়ার ও ভরতপুরের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে ১৮৫৭-র সময় নুহ-মেওয়াত ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি সীমান্ত অঞ্চল।
মীরাট ও দিল্লিতে সিপাহী বিদ্রোহের সূচনা হওয়ার পর তার অভিঘাত দ্রুত মেওয়াতে পৌঁছয়। ড. আইজাজ আহমদের Mewati Rebellion of 1857 বইয়ের প্রকাশকের দেওয়া বিবরণে বলা হয়েছে, ‘মেওয়াত মূলত গ্রামীণ অঞ্চল হওয়ায় ১৮৫৭-র বিদ্রোহ সেখানে প্রধানত কৃষক ও সিপাহিদের স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। কৃষক, স্থানীয় গ্রামপ্রধান এবং মেও জনগোষ্ঠীর একাংশও ব্রিটিশবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়। নুহ, পিনাংওয়ান, তাউরু, সোহনা, ফিরোজপুর ঝিরকা, ঘাসেরা প্রভৃতি এলাকায় বিদ্রোহী তৎপরতার উল্লেখ পাওয়া যায়।’ মেওয়াত থেকে একদল বিদ্রোহী দিল্লির বিদ্রোহীদের সহায়তা করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। দিল্লি-আলওয়ার যোগাযোগ পথেও চাপ সৃষ্টি করেছিলেন।
দরুদ্দিন মেও-র নেতৃত্বে মেওদের একটি অংশ ব্রিটিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে। বিদ্রোহের সময়ে মেওয়াতের কয়েকটি অঞ্চলে ব্রিটিশ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং স্থানীয় নেতৃত্ব কার্যকর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। একে সরাসরি ‘স্বাধীন নূহ’ বলা সঠিক নয়; বলা যায়, এই অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সাময়িকভাবে শক্তিশালী স্থানীয় প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল।
শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ সামরিক অভিযান মেওয়াতের প্রতিরোধ দমন করে। বহু স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার, কারাবন্দি বা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
নুহ-মেওয়াতের এই ইতিহাস প্রমাণ করে, ১৮৫৭ কেবল ব্রিটিশ সেনায় কর্মরত সিপাহীদের বিদ্রোহ ছিল না। তা ছড়িয়ে পড়েছিল গ্রামীণ কৃষকসমাজ ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণেও। ব্রিটিশবিরোধী প্রতিরোধকে বিস্তৃত করেছিল। বস্তুত প্রথম স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছিল ভারতীয়রা।
প্রতিরোধের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল যোগাযোগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করা। মেওয়াতের দুর্গম ভূপ্রকৃতি এবং বিস্তৃত গ্রামীণ জনপদ ব্রিটিশ বাহিনীর পক্ষে দ্রুত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে কঠিন করে তুলেছিল। দিল্লি পুনর্দখলের পরও মেওয়াতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিরোধের রেশ কিছুদিন অব্যাহত ছিল। নুহের ইতিহাসকে বৃহত্তর মেওয়াতের গণপ্রতিরোধের অংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
Mewat Revolt: The Struggle Moves from Barracks to Villages
মেওয়াত বিদ্রোহ: সংগ্রাম সেনা ব্যারাক থেকে গ্রামে
×
Comments :0