Kolkata CorporationDYFI

স্থায়ী নিয়োগই করতে হবে কলকাতা কর্পোরেশনে, চলবে লড়াই: ঘোষণা যুবদের

রাজ্য কলকাতা

কলকাতা কর্পোরেশনের সামনে বক্তব্য রাখছেন অয়নাংশু সরকার। ছবি ও ভিডিও - প্রিতম ঘোষ

অরিজিৎ মণ্ডল
 

অন্তত ৩০ হাজার শূন্যপদ। নেই স্থায়ী নিয়োগ। কলকাতা কর্পোরেশনে চুক্তি আর অস্থায়ী কর্মী দিয়ে কাজ করানো চলবে না। স্থায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
মুখ্যত এই দাবিকে সামনে রেখে বুধবার কলকাতা কর্পোরেশন অভিযান করল ডিওয়াইএফআই। 
এদিন ব্যস্ততার অজুহাত দিয়ে যুব সংগঠনের স্মারকলিপি নেননি তৃণমূল পরিচালিত কর্পোরেশনের মেয়র ফিরহাদ হাকিম। এই মনোভাবে ধিক্কার জানিয়ে ডিওয়াইএফআই জানিয়েছে স্থায়ী নিয়োগের দাবিতে দুর্বার আন্দোলন চলবে। তৃণমূলের দুর্নীতিতে আয় হারাচ্ছে কলকাতা কর্পোরেশন। আর টাকার অভাবের কথা বলে স্থায়ী নিয়োগ করা হচ্ছে না কর্পোরেশনে। 
সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিওয়াইএফআই কলকাতা জেলা সভাপতি সোহম মুখার্জি। মঞ্চ থেকে সংহতি জানান আন্দোলনরত আশাকর্মীদের। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের রাজ্য সভাপতি অয়নাংশু সরকার, সম্পাদক ধ্রুবজ্যোতি সাহা, কলকাতা জেলা সম্পাদক শ্রীজীব গোস্বামী, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা বিকাশ ঝা। 

 


অয়নাংশু বলেন, কাজের ব্যবস্থা করতে হবে গোটা দেশে, এরাজ্যে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কর্মসংস্থানের যে দাবি করেন তা বিশ্বাসযোগ্য নয়। যেটুকু কাজ মিলছে তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। মালিক বললে আজ কাজ আছে, আবার মালিক যদি বলে তাহলে কাল কাজ নেই। আজ ৮ ঘন্টা কাজ, আবার কাল ১২ ঘন্টা কাজ করতে হবে। কারও স্থায়িত্ব, নিরাপত্তা নেই। 
অয়নাংশু বলেন, কলকাতা কর্পোরেশনে ব্যাপক শূন্যপদ, তবু কাজ  নেই যুবদের।  তিনি বলেন, দেশ ও রাজ্যের উন্নয়ন মানে রাজ্যের যুবদের স্থায়ী কাজের ব্যবস্থা। উন্নয়ন মানে দুর্নীতি বন্ধ করা, ছাত্রদের সঠিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা, কৃষক-শ্রমিকের ঘামের সঠিক দাম দেওয়া। কিন্তু রাজ্যে তা নেই। তাই রাজ্যজুড়ে ডিওয়াইএফআই যুবদের হাতে কাজের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। আজ যুবদের যন্ত্রণাকে হাতিয়ার করে তাদেরই দুর্নীতি-দুষ্কৃতী চক্রে শামিল করতে চাইছে তৃণমূল। অথচ, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারের সময়ে, মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু বা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য চেয়েছিলেন যুবদের হাতে কাজ দিয়ে তাদের দেশের কাজে শামিল করতে। তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি এবং নরেন্দ্র মোদীর নীতিগত ফারাক নেই। সিঙ্গুরে কারখানা ধ্বংস করতে তৃণমূলের সঙ্গে শামিল ছিল বিজেপি-ও। আজও স্থায়ী কর্মসংস্থানের প্রশ্নে দু’জনের কারও দিশা নেই। কাজের অধিকারের দাবিতে ডিওয়াইএফআই’র এই লড়াই চলবে।
কলকাতার পরিস্থিতি বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন শ্রীজীব। তিনি বলেন, কলকাতায় পৌর পরিষেবা যে কর্মীরা দেন তাঁরা মূলত অস্থায়ী। অথচ প্রায় ৩০ হাজার স্থায়ী পদ শূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। আমাদের দাবি স্থায়ী এবং স্বচ্ছ করতে হবে। 
সোহম বলেন, কলকাতা কর্পোরেশনে এখন কাজের জন্য অনুমোদন নিতে হয় না। বেআইনি প্রোমোটিং হচ্ছে। দুর্নীতির কারণে আয় হারাচ্ছে কলকাতা কর্পোরেশন। হোর্ডিংয়ের টাকা জমা পড়ে না কর্পোরেশনের কোষাগারে। বেআইনি প্রমোটারি হয়। একদিকে জলাভূমি পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়। কর্পোরেশন প্রাপ্য টাকা পায় না। তারপর সেই বাড়ি ভেঙে পড়ে। পরিষেবার নামে প্রতিদিন ঠকাচ্ছে নাগগরিকদের। কর্পোরেশন স্কুল লাটে তুলে দিয়েছে। একশো দিনের কাজে যাঁদের নিয়োগ করা হয় তাঁদেরও রাজ্য সরকারের ঠিক করা ন্যূনতম মজুরি দেওয়া হয় না। কলকাতায় বায়ুদূষণ রোধে কী করছে?  
১৭ জানুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে প্রচার। বাংলার স্টিয়ারিং বাম দিকে ঘোরাতে হবে। 
শ্রীজীব গোস্বামী বলেন যে ছোট প্রোমোটারের বদলে এখন কলকাতায় নেমেছে বড় বড় সংস্থা। ছোট সরবরাহের সুযোগ কমে যাচ্ছে। সিন্ডিকেটে যুক্ত তৃণমূল অনুগামীরাও রোজগার হারাচ্ছেন। অথচ কর্পোরেশনের বিল্ডিং বিভাগের আয় কমছে। কাউন্সিলর, থানার ওসি চক্র করে এই বড় প্রোমোটাররা চলছে।  
কলকাতার দূষণে গুরুতর ভূমিকা নিচ্ছে এই বেআইনি নির্মাণ, ধুলোবালি। বেআইনি প্রোমোটার রাজের সঙ্গে হাত হাত মিলিয়ে চলছে কর্পোরেশন। সেই টাকা তৃণমূল নির্বাচনে ব্যবহার করছে। 
এই যুবনেতা বলেন, কলকাতা কর্পোরেশনের ৪৫ হাজার কর্মীর মধ্যে ১৩ হাজার মাত্র স্থায়ী। একশো দিনের কাজের নামে সব কাজ করানো হচ্ছে। মজুরি দিনে ২০২ টাকা। মাসে ৬ হাজারও হবে না। আর স্থায়ী শ্রমিকের ন্যূনতম বেতন ২২ হাজার টাকা। এই নীতির বিরুদ্ধে চলবে লড়াই, চলবে প্রচার।

Comments :0

Login to leave a comment