potato farmers

কমছে দাম, উদাসীন সরকার, মজুত আলু নিয়েও দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

জেলা

শনিবার সিঙ্গুরের গ্রামে খামার থেকে আলু বিক্রি হচ্ছে।

আলুর দাম ক্রমাগত কমার ফলে সঙ্কটের মধ্যে পড়েছেন  হুগলী জেলার আলুচাষিরা। জ্যৈষ্ঠ্য মাসের প্রথম সপ্তাহের শেষে কৃষকদের বাড়ি ও খেত-খামারে রাখা আলু কুইন্টাল প্রতি ৬০০ - ৭০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। চন্দ্রমুখী ৭০০ টাকা কুইন্টাল এবং জ্যোতি আলু ৬০০ টাকা কুইন্টাল  দামে বিক্রি হচ্ছে। তার উপর প্রচন্ড দাবদাহের কারণে গাদায় প্রচুর আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে। দেড় মাসের অধিক সময় ধরে কৃষকরা এই আলু বাড়ি ও খেত - খামারে খড় চাপা দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখেন। দীর্ঘদিন ধরেই এই রেওয়াজ চলে আসছে। যাতে চৈত্র- বৈশাখ মাসে বাড়ি থেকে এই আলু বিক্রি করে কিছুটা বাড়তি দাম পাওয়া যায়। সেই আশা নিয়েই এবারেও  বহু কৃষক আলু রেখে দিয়েছিলেন। কিন্তু দাম বৃদ্ধি পাওয়া তো দূরের কথা,  দাম ক্রমাগত নামতে থাকে। ফলে আলু রেখে দিয়েও বাড়তি কোনও লাভ তো পায়নি তাঁরা। উপরন্তু, অতিরিক্ত গরমের জন্য প্রচুর আলু পচে নষ্ট হয়। দু’ দিক দিয়েই কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেন। এমনটাই জানান, সিঙ্গুরের মনোরঞ্জন সাঁতরা, নকুল সাঁতরা সহ মথুরা বাগেরা।

এবার জমি থেকে আলু তোলার সময় চন্দ্রমুখী আলু বিক্রি হয়েছে ১০০০ টাকা কুইন্টাল দামে। আর জ্যোতি আলু ৮০০ টাকা কুইন্টাল দামে বিক্রি হয়েছে। শুরু থেকেই আলুচাষিরা কম দামে লোকসান করে আলু বিক্রি করেছেন। প্রতি বছরই হুগলীর আলুচাষিরা হিমঘরে আলু রাখার পর বেশ কিছু আলু বাড়ি ও সংলগ্ন খেত - খামারে জড় করে রাখেন। এই আশা করেন যে বাড়ি থেকে কিছুটা বেশি দামে আলু বিক্রি হবে। এতে কিছুটা সাশ্রয় হবে। আলু চাষে প্রতি বছর উৎপাদন খরচ বাড়ছে। আলু বীজ, সার, খউল, কীটনাশক ওষুধ, ট্রাক্টর ভাড়া, জলসেচ ও মজুরির খরচ বেড়েই চলেছে। এ বছর শুরু থেকেই আলুর দাম অত্যন্ত কম। ওই দামে আলু বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ উঠে না। অনেকেই জানান, বিঘা করা প্রায় ১৫ হাজার টাকা করে লোকসান হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কৃষকরা। গ্রামীন অর্থনীতি আলুর উপর অনেকটা নির্ভরশীল। আলুর ভালো দাম বা লাভজনক দাম পেলে গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা থাকে। 
আলু প্রধান গ্রামাঞ্চলে এখন আর্থিক সঙ্কটের ছায়া সর্বত্রই। জেলার প্রধান অর্থকরী ফসল আলু নিয়ে কৃষকরা দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন। এই দুর্দিনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার পুরোপুরি উদাসীন। আলুর বেহাল দাম সত্ত্বেও দুই সরকারের কোন হেলদোল নেই। হিমঘরে মজুত আলু নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা। 
 

Comments :0

Login to leave a comment