দেশের যুবসমাজকে প্রযুক্তি, শিক্ষা ও কর্মদক্ষতার সঙ্গে যুক্ত করতে একগুচ্ছ বড় উদ্যোগের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার স্বাধীনতা দিবসে লালকেল্লার প্রাচীর থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি জানান, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের এক কোটি যুবক-যুবতীকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আগামী এক বছরে এক কোটি যুবককে এআই দক্ষতার প্রশিক্ষণ দেওয়ার সংকল্প নিয়েছি।’’ তার দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের যুবসমাজকে এআই-এর ক্ষেত্রে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত করে তোলা হবে।
এদিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়েরও ঘোষণা করেন মোদী। তার বক্তব্য, কোচিংয়ের বিপুল খরচে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর বড় আর্থিক চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ কমাতেই সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কোচিং ক্লাস প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর বোঝা তৈরি করে। বিভিন্ন পরীক্ষার জন্য আমরা বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের ব্যবস্থা করব।’’
উল্লেখ্য এই মোদী সরকার নয়া জাতীয় শিক্ষানীতি পাশ করে মানুষের উপরে বোঝা আরো চাপিয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এই শিক্ষা ব্যবস্থাকে।।
কোচিং-নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার সামাজিক চাপের কথাও তুলে ধরেন তিনি। তার কথায়, অনেক অভিভাবক মনে করেন, সন্তানকে কোচিংয়ে না পাঠালে পরিবারটির সামাজিক মর্যাদা কমে যাবে। এই পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত অনলাইন ব্যবস্থার সুবিধা নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
ডিজিটাল পরিকাঠামো, দক্ষ শিক্ষক এবং দেশের মেধাকে একত্রিত করে বিনামূল্যে অনলাইন কোচিংয়ের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। তার দাবি, এর ফলে কোচিং বাবদ পরিবারের বিপুল অর্থব্যয় কমবে এবং অভিভাবকেরা সন্তানদের সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।
এদিনের ভাষণে শুধু শিক্ষা ও প্রযুক্তি নয়, দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একাধিক সংস্কারের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও জরুরি অবস্থার মোকাবিলায় আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং উন্নত সক্ষমতার মাধ্যমে সিভিল ডিফেন্স ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথা বলেন তিনি।
এর পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে ক্রীড়া প্রতিভা খুঁজে বের করা, দেশে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন লক্ষ্যমাত্রার কথাও ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণে যুব উন্নয়ন, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া, শিল্প ও শক্তিক্ষেত্রকে সামনে রেখে একাধিক নতুন উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরলেন তিনি।
Comments :0