আদি গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক প্রবাহে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই দাবিতে সরব হয়েছে ‘আদি গঙ্গা বাঁচাও আন্দোলন’। আন্দোলনকারীদের দাবি, নদী পরিষ্কার করলেই হবে না। ফিরিয়ে দিতে হবে তার স্বাভাবিক জলপ্রবাহও। আদি গঙ্গা পুনরুজ্জীবন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিয়েও সরকারের কাছে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের অন্যতম তাপস দাসের বক্তব্য, 'আদি গঙ্গার দু’পাশের ২৮টি ওয়ার্ডের প্রায় ৭৪টি নালা নদীতে এসে মেশে। এই নালাগুলির মুখ বন্ধ করে নিকাশি জল শোধনের ব্যবস্থা করা জরুরি।'
এই পরিবেশ কর্মীর বক্তব্য, 'ন্যাশনাল মিশন ফর ক্লিন গঙ্গা’ বা এনএমসিজি-র অধীনে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে পলি তোলা, নালার সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, ২৩টি পাম্পিং স্টেশন এবং তিনটি স্যুয়েজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৬০০-৬৫০ কোটি টাকা এসেছে।
প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। বিশেষ করে বাঁশদ্রোনির কাছে একটি পুকুর ভরাট করে বর্জ্য ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। এই আন্দোলনের প্রশ্ন, পুকুর বা জলাভূমি ভরাট না করে বিকল্প ব্যবস্থা করা যেত না কি? এই বিষয়ে এলাকার প্রায় ৩০০ বাসিন্দা স্বাক্ষর করে ডেপুটেশন দিয়েছেন।
প্রকল্পের নকশা নিয়েও প্রশ্ন আছে। তাপস দাসের বক্তব্য, 'কলকাতার স্বাভাবিক ভৌগোলিক ঢাল দক্ষিণ-পূর্বমুখী। অথচ কামডহরি থেকে নিকাশি জল পাম্প করে বাঁশদ্রোনি এবং সেখান থেকে কুঁদঘাট, কেওড়াপুকুর হয়ে চড়িয়াল খালের দিকে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।' ঢালের উলটোপথে জল নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ঘিরেও উঠছে প্রশ্ন। শোধিত জল আদি গঙ্গার প্রবাহে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে না কেন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। প্রাকৃতিক ঢাল কাজে লাগিয়ে জল স্বাভাবিকভাবে প্রবাহিত করা সম্ভব হলে এতগুলি পাম্পিং স্টেশনের প্রয়োজন কেন, তারও ব্যাখ্যা চেয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
তাপস দাসের আরও দাবি, আদি গঙ্গার পুনরুজ্জীবন বলতে শুধু হেস্টিংস থেকে গড়িয়া পর্যন্ত ১৫.৫ কিলোমিটার অংশকে বোঝালে চলবে না। ঐতিহাসিক প্রবাহপথের বৃহত্তর অংশকেও প্রকল্পের আওতায় আনতে হবে।'
দৈঘাটের কাছে ব্যারেজ তৈরির পরিকল্পনারও বিরোধিতা করেছেন আন্দোলনকারীরা।
তাঁদের আশঙ্কা, এতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও বাস্তুতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যারেজ পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পথসভা ও জমায়েতে সাধারণ মানুষের সাড়া মিলছে বলেও দাবি আন্দোলনকারীদের। মানুষের পরিবেশগত উদ্বেগকে সামনে রেখেই আন্দোলন আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তাঁরা।
Save Adi Ganga Movement
কেন্দ্রের প্রকল্পে প্রশ্ন তুলছে ‘আদি গঙ্গা বাঁচাও’ আন্দোলন
আদি গঙ্গার পাড়ের এলাকায় এভাবেই চলছে সচেতনতার প্রচার।
×
Comments :0