শিয়ালদহ শাখায় রেল লাইনের রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতির জন্য শিয়ালদহ মেইন শাখায় টানা ২৩ ঘণ্টা ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে চলেছে। কখনও ট্র্যাকের, কখনও ওভারহেড, আবার কখনও সিগন্যালিং’র কাজের জন্য বিগত কয়েক বছর ধরেই হাওড়া অথবা শিয়ালদহ ডিভিশনে থেমে থাকছে না রেলের কাজ। তার জেরেই বাতিল হচ্ছে একাধিক ট্রেন। কাঁকুরগাছি রোড-বালিগঞ্জ সেকশনে ব্রিজের গার্ডারের কাজের জের ফের যাত্রী দুর্ভোগের আশঙ্কা। শনিবার অর্থাৎ ২৪ জানুয়ারি রাত ১০টা থেকে রবিবার রাত ৯টা একটানা ২৩ ঘণ্টা রেল পরিষেবা বিঘ্নিত হবে। শিয়ালদহ মেন লাইনে বাতিল থাকবে একাধিক ট্রেন। বেশ কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, কাঁকুড়গাছি রোড-বালিগঞ্জ সেকশনে সেতু নং X-২৫’র গার্ডার চালু করার জন্য ২৩ ঘণ্টা একাধিক লোকাল ট্রেন বাতিল করা হবে। বহু ট্রেনের যাত্রাপথ ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। ২৪ জানুয়ারি শনিবার রাত ১০টা থেকে ২৫ জানুয়ারি রবিবার রাত ৯টা পর্যন্ত ২৩ ঘণ্টার ব্লক নেওয়া হবে।
নিত্য যাত্রীরা জানেন রেল লাইনের ঘীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা। দুর্ভোগ কাকে বলে তাও তাদের অজানা নেই। রক্ষণাবেক্ষণের দোহাই দিয়ে বহুবার বহু লোকাল এবং দূর পাল্লার ট্রেন বালিত অথবা যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে রেলের তরফে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে নয় কামরার পরিবর্তে ১২ কামরার লোকাল ট্রেনের জন্য শিয়ালদহের এক থেকে চার নম্বর প্লাটর্ফমকে সম্প্রসারণ করা হয়। সেই কাজের সময়ও বাতিল ছিল পূর্ব রেলের মেন ও কর্ড শাখায় বহু লোকাল ট্রেন। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়। সেই সময় চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীরা। যদিও সেই সময় থেকে শিয়ালদহ ডিভিশনে ১২ কামরার ট্রেন চলছে। কিন্তু ১২ মাস রেল রক্ষণাবেক্ষনের কাজ করলেও ২০২৪ সালের পর থেকে সিগনালিংএর সমস্য রয়েই গেছে এখনও। যা নিয়ে হেলদোল নেই রেলের। শিয়ালদহ ঢোকার আগে কারসেডের কাছে যে সিংগালিং বাবস্থা রয়েছে। সেখানে ১৭ নন্বর প্লাটফ্রম দেখালেও ট্রেনটি ঢোকে ১৪ নম্বরে ১২ নম্বর দেখালে ঢোকে ১০ নম্বর প্লাটফ্রমে। এই অবস্থা ৭ থকে ১৪ নম্বর সিগনালিংএর ক্ষেত্রে। নিত্য যাত্রীরা বলেছেন, ‘‘১২ মাসই রেল কাজ করে চলেছেন। আখেরে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। নতুন বছরে শিয়ালদহ-হাওড়া ডিভিশনে মেল, এক্সপ্রেস, প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেনের টাইম টেবিলেও পরিবর্তন ঘটছে। রেলের তরফে দাবি করা হব নতুন টাইম টেবিলের উদ্দেশ্য সঠিক সময়ে ট্রেন চালানো। কিন্তু রেলের সেই দাবি মানতে নারাজ বনগাঁ লাইনের নিত্যযাত্রীরা। তাদের অভিযোগ ট্রেনের টাইম টেবিলে পরিবর্তনের পর দুই একটা দিন সময় মতো চলাচল করেছিল বনগাঁ লাইনের ট্রেন। তারপর থেকে আজও প্রর্যন্ত আপ এবং ডাউন প্রতিটি লোকাল ট্রেন অন্তত ২০ থেকে আধ ঘন্টা দেরিতে চলছে। বছর পর বছর হাওড়া অথবা শিয়ালদহ ডিভিশনে থেমে থাকছে না রেলের কাজ। বাতিল হচ্ছে একাধিক ট্রেন। ভোগান্তিতে পড়ছেন নিত্যযাত্রী থেকে সাধারণ যাত্রীরা তবুও হেলদোল নেই রেলের।
দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ট্রেন বাতিল থাকছে।
বজবজ–নৈহাটি লোকাল: ৩১০৫৩ আপ।
নৈহাটি–শিয়ালদহ লোকাল: ৩১৪২২ ডাউন, ৩১৪৪৬ ডাউন এবং ৩১৪৩১ আপ।
মধ্যমগ্রাম–মাঝেরহাট লোকাল: ৩০৩৫৮ ডাউন এবং ৩০৩৫৭ আপ।
ক্যানিং–বারাসাত লোকাল: ৩৩০৬১ আপ।
নৈহাটি–মাঝেরহাট লোকাল: ৩০১৫২ ডাউন, ৩০১৫৪ ডাউন এবং ৩০১২৩ আপ।
মাঝেরহাট–রানাঘাট লোকাল: ৩০১৩৫ আপ।
বজবজ–শিয়ালদহ লোকাল: ৩৪১৫৭ আপ এবং ৩৪১১৭ আপ।
মাঝেরহাট–হাসনাবাদ লোকাল: ৩০৩২১ আপ।
সরস্বতী বিসর্জনের জন্য চক্র রেলে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে ২৪ জানুয়ারি শনিবার থেকে ২৬ জানুয়ারি সোমবার প্রর্যন্ত। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, নাবান্নের অনুরোধেই রেলের এই সিদ্ধান্ত।
Comments :0