মনুবাদী মনোভাবে চালিত আরএসএস’র পরিকল্পনা অনুযায়ী চালু হয়েছে এসআইআর। বিআর অম্বেদকরের নেতৃত্বে তৈরি সংবিধানের নির্দেশকে অমান্য করতে চলছে এই প্রক্রিয়া। এই মতলব রুখতে হবে।
বিধানসভা নির্বাচনে বামপন্থীদের জয়ী করার আহ্বান জানিয়ে মালদহে একথা বলেছেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম।
মমতা ব্যানার্জির প্রশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে আইনের শাসন নেই। আমরা বামপন্থীরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব। তাই আমাদের শক্তির পাশে জড়ো হতে সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি। যাঁরা বাংলাকে বাঁচাতে চান, একসঙ্গে আসতে হবে, বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়তে হবে। সব মানুষ যদি এককাট্টা হন তাহলে বাংলার জন্য কোনো ৫৬, ৩৫৬ লাগবে না। আমরাই নবান্নকে শায়েস্তা করতে পারি।
তিনি বলেন, মালদা থেকেই নির্বাচনের দুন্দুভি বাজালাম, যুদ্ধ ঘোষণা করছি। এটা লড়াই, যুদ্ধ। এ লড়াই আমাদের জিততে হবে।
উল্লেখ্য, এদিন সভা হওয়ার কথা ছিল মালদহ শহরের বৃন্দাবনী ময়দানে। নানা ওজর দেখিয়ে অনুমতি দেয়নি তৃণমূলের প্রশাসন। জনতার ভিড় উপচে পড়েছে রাজপথে। রথবাড়িতে হয়েছে বিশাল জনসভা। হয়েছে মিছিল।
সেলিম বলেন, আরএসএস'র পরিকল্পনা ধর্ম ভিত্তিক রাষ্ট্র গড়া। মুসলিম, মহিলা, আদিবাসী, মতুয়াদের অধিকার থাকবে না। মনুবাদী দৃষ্টিভঙ্গি চলছে। আম্বেদকরের সংবিধান অনুযায়ী দেশ চলবে না মনুবাদ-মনুস্মৃতির নামে দেশ চলবে, সেটাই আজকের লড়াই। তিনি বলেন, সরাসরি এনআরসি করতে পারছে না। তাই ঘুরপথে এসআইআর করছে। তা না হলে কেন বলে বানান ভুল আছে, ঠিকানা বার করো, অ্যাডমিট কার্ড চলবে না।
সেলিম বলেন, অনেকে মনে করেছিলেন এটা মুসলমানদের ব্যাপার। মোদী যখন বলছে তখন কিছু তো আছে! বাঙালিদের বলছে উইপোকা। আমাদের রাজ্যে কাজ নেই, যাঁরা পরিযায়ী হয়ে ওড়িশা, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র, দিল্লিতে যাচ্ছে, তাঁদের উপর জোরজুলুম চালাচ্ছে ভাষার নামে, ধর্মের নামে।
সেলিম বলেন, বালি খাদান থেকে কয়লা, গরু সব দু’নম্বরির টাকা এঘাট-ওঘাট ঘুরে কালীঘাটে পিসি ভাইপোর কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তারপর ভাইপো বিদেশী বান্ধবীদের নামে অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়ে রোম, দুবাইয়ে জমা রাখে। এসবের প্রমাণ আমি যখন ইডি, সিবিআই'কে দিলাম তখন ভাইপো বললো মানহানির মামলা করবে। ২৮০ পাতার উকিলের চিঠি পাঠালো। কিন্তু, বিজেপি সরকার ভাইপোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তিনি বলেন, মুর্শিদাবাদে সমশেরগঞ্জের দাঙ্গা হলো। মমতা এলেন দেড়মাস পরে। বললেন ওয়াকফ হবে না রাজ্যে। কেউ মিছিল মিটিং করবেন না। কাদের বললেন ? তৃণমূলের নেতাদের বললেন, তাঁরাও ঘার নাড়লো। কারুর একবার প্রশ্ন করার হিম্মত হলো না প্রশ্ন করার যে কেন ওয়াকফ সম্পত্তি চলে যাবে আর আমরা আপত্তি কেন করবো না। পাড়ার গুন্ডার মতো মুখ্যমন্ত্রী বললেন ‘যদি কেউ ওয়াকফ নিয়ে মিছিল মিটিং করে তাহলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না‘। তারপর যেই ইডি, সিবিআই অভিষেকের কয়লা পাচারের, শিক্ষক নিযোগ দুর্নীতির ফাইল বার করলো তখন বললেন যত ওয়াকফ আছে সব খতিয়ান মোদীর পায়ের তলায় জমা দিয়ে দাও। আর সব ডিএম তাই করে দিল। তাহলে যে তৃণমূলের নেতারা মমতার উপর ভরসা রেখেছিলেন তাঁরা গ্রামে এলে উচিত জবাব দেবেন।
‘ওবিসি এ‘-তে বামফ্রন্টের আমলে রঙ্গনাথন কমিশন রিপোর্ট এক বছরের মধ্যে সারা দেশের মধ্যে কেবল পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট সরকার লাগু করেছিল। মমতা বললেন ‘সিপিএম কি করেছে আমরা তার থেকে আরও ভালো আইন করব‘। তারপর এমন গোজামিল করলো এখন ওবিসি-এ নেই । যে ন্যূনতম সুযোগ ছিল তাও বাতিল করলো। কেন করলো? কারণ আরএসএস চাই। আর আরএসএস যা চায় আরএসএস'র দুর্গা মমতা তার বিরোধিতা করতে পারেন না।
এই আরএসএস-বিজেপি’র বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বামপন্থীদের শক্তিশালী করতে বিধানসভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান সেলিম।
আমাদের রাজ্যে আজ আইনের শোষণ নেই।
Comments :0